📌 চলতি বছরে ডেঙ্গুতে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে ১৬ থেকে ৩০ বছর বয়সী তরুণদের অংশ ৪২ শতাংশ। সরকারি গবেষণা ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, এই বয়সগোষ্ঠীতে পুরুষদের আক্রান্তের হার নারীদের তুলনায় বেশি, কিন্তু নারীদের মৃত্যুর হার বেশি। ঢাকা ও রাজশাহী হাসপাতালে ভর্তি দু’জন রোগীর ঘটনা বিশ্লেষণ করা হয়েছে
চলতি বছরে ডেঙ্গুতে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে ১৬ থেকে ৩০ বছর বয়সী তরুণদের অংশ ৪২ শতাংশ। এই তথ্য প্রকাশ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সরকারি গবেষণা ইনস্টিটিউটের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই বয়সগোষ্ঠীতে পুরুষদের আক্রান্তের হার নারীদের তুলনায় দ্বিগুণ, কিন্তু নারীদের মৃত্যুর হার বেশি। ঢাকা ও রাজশাহীর হাসপাতালে ভর্তি দু’জন রোগীর ঘটনা বিশ্লেষণ করে এই তথ্যগুলো উঠে এসেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চলতি বছরে ডেঙ্গুতে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ৭ হাজার ২৫৯ জন রোগী, মৃত্যু হয়েছে ৩৩১ জন
- 📌 ১৬ থেকে ৩০ বছর বয়সী তরুণদের ভর্তির হার ৪২ শতাংশ — মোট রোগীর অর্ধেকের কাছাকাছি
- 📌 এই বয়সগোষ্ঠীতে পুরুষ রোগীর সংখ্যা নারীর প্রায় দ্বিগুণ, কিন্তু নারীদের মৃত্যুর হার বেশি
- 📌 ২৪ বছর বয়সী সজীব হোসেন (ছদ্মনাম) ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন, পরে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেন
- 📌 ২৩ বছর বয়সী অপূর্বকুমার রায় (ছদ্মনাম) রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন, ডেঙ্গু শক সিনড্রোমে মৃত্যুবরণ করেন
📰 বিস্তারিত
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ৭ হাজার ২৫৯ জন রোগী। মৃত্যু হয়েছে ৩৩১ জন। এই রোগীদের মধ্যে ১৬ থেকে ২০ বছর বয়সী ১৪ হাজার ৫২২ জন, ২১ থেকে ২৫ বছর বয়সী ১৫ হাজার ৩৮২ জন এবং ২৬ থেকে ৩০ বছর বয়সী ১৫ হাজার ১৯৫ জন। এই তিন বয়সগোষ্ঠী মিলিয়ে মোট রোগীর সংখ্যা ৪৫ হাজারের কিছু বেশি, যা মোট ভর্তির ৪২ শতাংশ।
গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মুশতাক হোসেন বলেছেন, “১৬ থেকে ৩০ বছর বয়সীদের মধ্যে ডেঙ্গু রোগী বেশি পাওয়া নতুন কোনো প্রবণতা নয়। এই বয়সের মানুষ পড়াশোনা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে বেশি বাইরে থাকেন। ফলে এডিস মশার সংস্পর্শে আসার আশঙ্কাও বেশি থাকে। তবে ঠিক কোন কারণে এই বয়সগোষ্ঠীতে আক্রান্তের হার বেশি, তা নিশ্চিতভাবে জানতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।”
২৪ বছর বয়সী সজীব হোসেন (ছদ্মনাম) ঢাকার আশুলিয়ায় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। ছয় দিন জ্বরে ভোগার পর তিনি ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। প্রথম পরীক্ষায় ডেঙ্গু ধরা না পড়লেও দ্বিতীয় পরীক্ষায় ইমিউনোগ্লোবুলিন জি-আইজিজি ও ইমিউনোগ্লোবুলিন এম-আইজিএম পরীক্ষায় সংক্রমণ নিশ্চিত হয়। সাত দিন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে তিনি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
অন্যদিকে, ঝিনাইদহের শৈলকুপার বাসিন্দা ২৩ বছর বয়সী অপূর্বকুমার রায় (ছদ্মনাম) গত ২৭ সেপ্টেম্বর রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু নিয়ে ভর্তি হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর ডেঙ্গু শক সিনড্রোম দেখা দেয় এবং পরদিনই মৃত্যুবরণ করেন।
“১৬ থেকে ৩০ বছর বয়সীদের মধ্যে ডেঙ্গু রোগী বেশি পাওয়া নতুন কোনো প্রবণতা নয়। কারণ, এই বয়সের মানুষ পড়াশোনা, কর্মসংস্থান, ব্যবসা ও নানা সামাজিক কর্মকাণ্ডে তুলনামূলক বেশি বাইরে থাকেন। ফলে তাঁদের এডিস মশার সংস্পর্শে আসার আশঙ্কাও বেশি থাকে।”
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, রাজশাহী, ঝিনাইদহ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মুশতাক হোসেন, সজীব হোসেন (ছদ্মনাম), অপূর্বকুমার রায় (ছদ্মনাম)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১ লাখ ৭ হাজার ২৫৯ জন ভর্তি, ৩৩১ জন মৃত্যু, ৪২ শতাংশ তরুণ রোগী
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!