📌 রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোমে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। জ্বর হলে দেরি করলে রোগীরা শেষ পর্যায়ে আসছেন, ফলে ডেঙ্গুর জটিলতা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোমে মৃত্যু দ্রুত বাড়ছে। জ্বর হলে অবহেলা বা প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়ার দেরি রোগীদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ১৩ জন। এছাড়াও, ৯০১ জন রোগী ভর্তি হয়েছে, যার মধ্যে ৬১০ জন পুরুষ, ২২৩ জন নারী এবং ৬৮ জন শিশু।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোমে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে (৩১ আগস্ট থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত)।
- 📌 প্রতিদিন গড়ে ২৫ জনের বেশি নতুন রোগী হাসপাতালে আসছেন, কিন্তু জ্বর হলে দেরি করলে রোগীরা শেষ পর্যায়ে আসছেন।
- 📌 মৃত্যুর প্রধান কারণ: ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোম (১০ জন) ও হৃদযন্ত্রের স্পন্দন বন্ধ (১ জন)।
- 📌 ৮০২ জন রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন, বাকি ৯৯ জন এখনও চিকিৎসাধীন।
- 📌 চিকিৎসকরা বলছেন, ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোমে রক্তচাপ বিপজ্জনকভাবে কমে যাওয়ার কারণে মৃত্যু ঘটে।
📰 বিস্তারিত
রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শেখ শামিম আহমেদ জানান, জুন মাসের ৭ তারিখ থেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি শুরু হয়েছে। তবে মৃত্যু শুরু হয়েছে আগস্ট মাস থেকে। হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোমে এবং একজনের মৃত্যু হয়েছে হৃদযন্ত্রের স্পন্দন বন্ধ হয়ে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জের আব্দুল হান্নান ভর্তির ১৪ ঘণ্টার মধ্যে মারা যান। পাবনার ইমরুল কায়েস ভর্তির দেড় ঘণ্টার মধ্যেই মৃত্যুবরণ করেন। নাটোরের জিৎ সরকার ভর্তির ১৫ ঘণ্টার মধ্যে মারা যান। চিকিৎসকরা বলছেন, ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোমে রক্তের প্লাজমা লিক হয়ে রক্তচাপ বিপজ্জনকভাবে কমে যায়, ফলে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে রক্ত সরবরাহ ব্যাহত হয়।
রাজশাহীর তানোর আনোয়ার মণ্ডল ভর্তির আট ঘণ্টার মধ্যে মারা যান। বাগমারা উপজেলার স্কুল শিক্ষার্থী সাথী রাণী ভর্তির পরের দিন ভোরে মৃত্যুবরণ করেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জের আসমা খাতুন ভর্তির পরের দিন সকালে মারা যান। হাসপাতালের মুখপাত্র জানান, জ্বর হলে অবহেলা করা বা স্থানীয় চিকিৎসায় সময় নষ্ট করলে রোগীরা শেষ পর্যায়ে আসেন। ফলে ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোম বা মায়োকার্ডাইটিসের মতো জটিলতায় আক্রান্ত রোগীদের বাঁচানো কঠিন হয়ে পড়ছে।
"জ্বর হলে অবহেলা করা বা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে সময় নষ্ট করার কারণেই রোগীরা একেবারে শেষ পর্যায়ে হাসপাতালে আসছেন। ফলে ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোম কিংবা মায়োকার্ডাইটিসের মতো জটিলতায় আক্রান্ত রোগীদের বাঁচানো কঠিন হয়ে পড়ছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল, রাজশাহী
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডা. শেখ শামিম আহমেদ (মুখপাত্র), আব্দুল হান্নান, ইমরুল কায়েস, জিৎ সরকার, আনোয়ার মণ্ডল, আসমা খাতুন, সাথী রাণী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৩ জন মৃত্যু, ৯০১ জন ভর্তি, ৬১০ জন পুরুষ, ২২৩ জন নারী, ৬৮ জন শিশু, ৮০২ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!