📌 ডেঙ্গুতে প্লাটিলেট কমে যাওয়ার ভয়ে দেশে ড্রাগন ফল ও পেঁপে পাতার রস খাওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। কিন্তু বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী, বিজ্ঞানসম্মত পুষ্টি ও তরল ভারসাম্যই মূল সমাধান। পেঁপে পাতার রস বা ভেষজের পরিবর্তে ইলেকট্রোলাইট সমৃদ্ধ খাবার, সহজপাচ্য প্রোটিন ও ভিটামিন সি খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন পুষ্টিবিদ জিনিয়া কুলসুম
ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাবের সময় প্লাটিলেট কমে যাওয়ার আতঙ্কে দেশের অনেকেই ড্রাগন ফল, পেঁপে পাতার রস বা বিভিন্ন ভেষজ খাওয়ার দিকে ঝুঁকে পড়ছেন। কিন্তু বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও আন্তর্জাতিক চিকিৎসা গাইডলাইনের আলোকে, বিজ্ঞানসম্মত পুষ্টি ও শরীরে তরল ভারসাম্য নিশ্চিত করা হলেই ডেঙ্গু রোগীর অবস্থা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। প্লাটিলেট কমে যাওয়ার পাশাপাশি রক্তের প্লাজমা লিকেজ বা রক্তনালি থেকে পানি বের হয়ে যাওয়া হল ডেঙ্গুর প্রধান ঝুঁকি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ডেঙ্গুতে প্লাটিলেট বাড়ানোর জন্য পেঁপে পাতার রস বা ড্রাগন ফল খাওয়ার প্রচলিত বিশ্বাস হলেও, এগুলো কোনো বিজ্ঞানসম্মত সমাধান নয় — পেটে ব্যথা, বমি বা ডায়রিয়া হতে পারে, যা রোগীর অবস্থা আরও খারাপ করতে পারে।
- 📌 প্লাজমা লিকেজ রোধে ইলেকট্রোলাইট সমৃদ্ধ তরল যেমন ডাবের পানি, খাওয়ার স্যালাইন, চালের জাউ, লেবুর শরবত ও পাতলা ডাল খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন পুষ্টিবিদ জিনিয়া কুলসুম।
- 📌 রক্তের প্লাজমা ধরে রাখতে এবং প্লাটিলেট তৈরির জন্য সেদ্ধ ডিমের সাদা অংশ, মুরগির মাংসের স্যুপ বা বোন ব্রোথ খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
- 📌 ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার যেমন আমলকী, দেশি মাল্টা, লেবু বা পেয়ারা প্লাজমা লিকেজ কমায় এবং রক্তনালির সুরক্ষা দেয়।
- 📌 ডেঙ্গু হলে অভ্যন্তরীণ রক্তপাতের ঝুঁকি বুঝতে ব্যাঘাত ঘটায় বলে ডালিম বা আনারসের জুস, চকলেট ও কফি এড়িয়ে চলা উচিত।
- 📌 জ্বর ছেড়ে যাওয়ার পর পোস্ট-ডেঙ্গু সিনড্রোমের কারণে পেশি ক্ষয় ও চুল পড়ার ঝুঁকি থাকে — তাই দ্রুত প্রোটিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
ডেঙ্গু ভাইরাস শরীরের অস্থিমজ্জাকে প্রভাবিত করে প্লাটিলেট উৎপাদন কমিয়ে দেয়। কিন্তু ডেঙ্গুর প্রধান ঝুঁকি হল প্লাজমা লিকেজ — রক্তনালি থেকে পানি বের হয়ে যাওয়া, যা রক্তকে অতিমাত্রায় ঘন করে তোলে। এই অবস্থায় হেমাটোক্রিট পরীক্ষা করে রক্তের ঘনত্ব বোঝা যায়। যদি রক্তের ঘনত্ব বেড়ে যায়, তাহলে রক্তচাপ কমে রোগী শকে চলে যেতে পারে। তাই ডেঙ্গুতে প্রধান লক্ষ্য হল রক্তের তরল অবস্থা বজায় রাখা।
সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচলিত বিশ্বাস হল পেঁপে পাতার রস বা ড্রাগন ফল খেয়ে প্লাটিলেট বাড়ানো যায়। তবে পুষ্টিবিদ জিনিয়া কুলসুমের মতে, পেঁপে পাতার রসে থাকা কিছু এনজাইম প্লাটিলেট ধরে রাখতে কিছুটা সাহায্য করতে পারে, কিন্তু এটি কোনো অলৌকিক ওষুধ নয়। অপরিশোধিত পেঁপে পাতার রস খেলে পেটে তীব্র ব্যথা, বমি বা ডায়রিয়া হতে পারে, যা রোগীর দেহে পানির অভাব আরও বাড়িয়ে দেয়।
বিজ্ঞানসম্মত পুষ্টির দিকে মনোনিবেশ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ইলেকট্রোলাইট সমৃদ্ধ তরল যেমন ডাবের পানি, খাওয়ার স্যালাইন বা ওআরএস, চালের জাউ, লেবুর শরবত ও পাতলা ডাল খাওয়ার মাধ্যমে প্লাজমা লিকেজ রোধ করা যায়। শুধু পানি বেশি খেলে রক্তে সোডিয়ামের মাত্রা কমে যেতে পারে, যা রক্তের ঘনত্ব বাড়িয়ে দেয়। তাই ইলেকট্রোলাইট সমৃদ্ধ তরল খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সহজপাচ্য ফার্স্ট ক্লাস প্রোটিন যেমন সেদ্ধ ডিমের সাদা অংশ, মুরগির মাংসের স্যুপ বা বোন ব্রোথ রক্তের প্লাজমা ধরে রাখতে এবং প্লাটিলেট তৈরির জন্য অ্যালবুমিন সরবরাহ করে। ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার যেমন আমলকী, দেশি মাল্টা, লেবু বা পেয়ারা রক্তনালির প্রাচীর মজবুত করে প্লাজমা লিকেজ কমায়। নতুন প্লাটিলেট তৈরিতে আয়রন ও ফোলেট বা ভিটামিন বি-৯ সমৃদ্ধ খাবার যেমন কাঁচকলার ঝোল, মিষ্টিকুমড়ার বীজ ও বিটরুটের হালকা স্যুপ খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
"ডেঙ্গু হলে অযথা আতঙ্কিত না হয়ে বা অলৌকিক উপায়ে প্লাটিলেট বাড়ানোর পেছনে না ছুটে, সঠিক মাত্রায় ফ্লুইড, হেমাটোক্রিট খেয়াল রাখা এবং সহজপাচ্য পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করাই নিরাপদ পথ।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ (সারাদেশে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য প্রাসঙ্গিক)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: পুষ্টিবিদ জিনিয়া কুলসুম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৯.০ (ডাবের পানিতে পটাশিয়ামের সমৃদ্ধি মাত্রা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!