📌 ডেঙ্গুর গুরুতর পর্যায়ে প্লাজমা লিকেজের কারণে রক্তচাপ নেমে যেতে পারে এবং শক আসতে পারে। জ্বর কমলেও 'ক্রিটিক্যাল ফেজ' শুরু হতে পারে, যা মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ায়। ডা. তারেক সালাহ্উদ্দিন বলেছেন, শক হলে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলো অক্সিজেন পায় না, ফলে মৃত্যু হতে পারে
ডেঙ্গুর গুরুতর পর্যায়ে রক্তনালির ভেতর থেকে তরল বা প্লাজমা শরীরের টিস্যুতে বেরিয়ে আসে, যা প্লাজমা লিকেজ নামে পরিচিত। এই অবস্থায় রক্তসঞ্চালন কমে যাওয়ার কারণে দ্রুত রক্তচাপ নেমে যেতে পারে এবং রোগী শকে চলে যেতে পারেন। শক অবস্থায় মস্তিষ্ক, কিডনি, লিভার এবং হৃদয়সহ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলো অক্সিজেন ও রক্ত পায় না, ফলে মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যায়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ডেঙ্গুর 'ক্রিটিক্যাল ফেজ' সাধারণত অসুস্থতার তৃতীয় থেকে সপ্তম দিনে শুরু হয়, জ্বর কমার সময়ই।
- 📌 তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, হাত-পা ঠান্ডা হওয়া, রক্তপাত, শ্বাসকষ্ট, অত্যধিক তৃষ্ণা বা প্রস্রাব কমে যাওয়া বিপদসংকেত।
- 📌 ডেঙ্গুর এনএসওয়ান টেস্টের নেগেটিভ রিপোর্ট দিয়ে ডেঙ্গু নিশ্চিতভাবে বাদ দেওয়া যায় না। পরীক্ষার সময়, কিটের মান, ভাইরাসের সেরোটাইপ এবং পূর্বের সংক্রমণের ইতিহাস বিবেচনা করতে হয়।
- 📌 ডেঙ্গুতে মৃত্যুর প্রধান কারণ হল শক, না প্লাটিলেট কমে যাওয়া। শকের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।
- 📌 বাংলাদেশে চারটি সেরোটাইপের ডেঙ্গু ভাইরাস বিদ্যমান, ফলে আগে ডেঙ্গু হয়ে যাওয়া ব্যক্তির পুনঃসংক্রমণের ঝুঁকি বেশি।
📰 বিস্তারিত
ডেঙ্গুতে জ্বর কমলেও তা সুস্থতার লক্ষণ নয়। বিশেষ করে অসুস্থতার তৃতীয় থেকে সপ্তম দিনে 'ক্রিটিক্যাল ফেজ' শুরু হতে পারে। এই সময়ে রোগীর শরীরে বিপদসংকেত দেখা দিতে পারে যেমন তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, অস্বাভাবিক দুর্বলতা বা অস্থিরতা, হাত-পা ঠান্ডা হওয়া, রক্তপাত, শ্বাসকষ্ট, অত্যধিক তৃষ্ণা বা প্রস্রাব কমে যাওয়া। এসব লক্ষণ উপেক্ষা করা ঝুঁকিপূর্ণ।
ডেঙ্গুর এনএসওয়ান টেস্টের নেগেটিভ রিপোর্ট দিয়ে ডেঙ্গু নিশ্চিতভাবে বাদ দেওয়া যায় না। পরীক্ষাটি সাধারণত অসুস্থতার প্রথম সাত দিনে সবচেয়ে কার্যকর। তবে পরীক্ষার সময়, ব্যবহৃত কিটের মান, ভাইরাসের সেরোটাইপ এবং রোগীর পূর্বের সংক্রমণের ইতিহাস বিবেচনা করতে হয়। ডেঙ্গু ভাইরাসের চারটি সেরোটাইপ রয়েছে। একটি সেরোটাইপে আক্রান্ত হওয়ার পর সেটার বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধ তৈরি হয়, কিন্তু অন্যান্য সেরোটাইপের বিরুদ্ধে স্থায়ী সুরক্ষা তৈরি হয় না। ফলে বাংলাদেশে চারটি সেরোটাইপের ডেঙ্গু ভাইরাসের কারণে আগে ডেঙ্গু হয়ে যাওয়া ব্যক্তির পুনঃসংক্রমণের ঝুঁকি বেশি।
ডেঙ্গুতে শুধু প্লাটিলেটের সংখ্যা দেখে রোগের গুরুত্বপূর্ণতা নির্ধারণ করা ঠিক নয়। প্লাটিলেট কমে যাওয়ার কারণে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়লেও ডেঙ্গুতে মৃত্যুর প্রধান কারণ হল শক। জ্বরের পর দ্রুত অবনতি, বিপদসংকেত বা শকের লক্ষণ দেখা দিলে সময় নষ্ট না করে হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। ডা. তারেক সালাহ্উদ্দিন, ফ্যামিলি ফিজিশিয়ান, বাংলাদেশ ক্যানসার অ্যান্ড প্যালিয়েটিভ কেয়ার সেন্টার, ঢাকার ধানমন্ডি থেকে বলেছেন, শক হলে মস্তিষ্ক, কিডনি, লিভার এবং হৃদয়সহ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলো অক্সিজেন ও রক্ত পায় না, ফলে মৃত্যু হতে পারে।
"জ্বর কমলেও ডেঙ্গুর 'ক্রিটিক্যাল ফেজ' শুরু হতে পারে। শক হলে রোগীর জীবন বাঁচানোর জন্য দ্রুত হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। প্লাটিলেট কমে যাওয়া শুধু রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়ায়, কিন্তু শকই মৃত্যুর প্রধান কারণ।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডা. তারেক সালাহ্উদ্দিন (ফ্যামিলি ফিজিশিয়ান, বাংলাদেশ ক্যানসার অ্যান্ড প্যালিয়েটিভ কেয়ার সেন্টার)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪ (ডেঙ্গু ভাইরাসের সেরোটাইপ), ৩-৭ (ডেঙ্গুর 'ক্রিটিক্যাল ফেজ' শুরু হওয়ার সম্ভাব্য দিন)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!