📌 চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা যায় তিন বছরের ইয়াসির আরাফাত। আইসিইউতে শেষবার মা-বাবাকে ডাকার পর হেসে নিস্তেজ হয়ে পড়েন ছোট্ট বাচ্চা। মশা নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান স্থানীয় প্রশাসন
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের গামারিতলা এলাকায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা যায় তিন বছরের ছেলে ইয়াসির আরাফাত। আইসিইউতে শেষবার মা-বাবাকে ডাকার পর হেসে নিস্তেজ হয়ে পড়েন ছোট্ট বাচ্চা। বাবা রুবেল হোসেনের কথায়, ছেলের শরীর ঠান্ডা হয়ে যাওয়ার পর মা-বাবাকে ডেকে ওঠে ইয়াসির। এরপর একটু হেসেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১০ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১০টায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে মারা যায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত তিন বছরের ইয়াসির আরাফাত।
- 📌 ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া জ্বর ১০৪ ডিগ্রি পর্যন্ত উঠে, খিঁচুনি ও শরীর ঠান্ডা হয়ে যাওয়ার পর হাসপাতালে ভর্তি হন ইয়াসির।
- 📌 মা-বাবা জান্নাতুল নাইমা ও রুবেল হোসেন একেবারে ভেঙে পড়েছেন। ছেলের মৃত্যুর কথা বলতে গিয়ে বারবার থামেন রুবেল।
- 📌 সোনাইছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা শোভন ভৌমিক জানান, মশা নিয়ন্ত্রণে সপ্তাহের সাত দিন কাজ করছেন, কিন্তু পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হচ্ছে না।
- 📌 ৬ মাস আগে বাবা মারা যাওয়ার পরেই একমাত্র ছেলেকে হারান রুবেল হোসেন।
📰 বিস্তারিত
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের সোনাইছড়ি ইউনিয়নের গামারিতলা এলাকায় বসবাসকারী রুবেল হোসেনের তিন বছরের ছেলে ইয়াসির আরাফাত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। গত শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) মারা যান তিনি। বাবা রুবেল হোসেনের কথায়, ছেলের মৃত্যু দেখে তিনি আর কথা বলতে পারছেন না।
রুবেল হোসেন বলেন, ‘আমার ছেলেটার খুব কষ্ট হচ্ছিল। ভেতরে কী যন্ত্রণা চলছিল, তা বোঝাতে পারছিল না। হঠাৎ তার নানি দেখতে পান, তার হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে। এ কথা শুনেই আমি আর তার মা আইসিইউতে ঢুকি। সেখানে যেতেই ‘বাবা’, ‘মা’ বলে ডেকে ওঠে ইয়াসির। এরপর একটু হেসেই নিস্তেজ হয়ে যায়। ঢলে পড়ে মৃত্যুর কোলে।’
২৯ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া জ্বর প্রথমে ১০১ ডিগ্রি ছিল। স্থানীয় চিকিৎসা নেওয়ার পর একদিনের মাথায় জ্বর সেরে যায়। কিন্তু মঙ্গলবার হঠাৎ জ্বর ১০৪ ডিগ্রি পর্যন্ত উঠে। খিঁচুনি শুরু হয় ওই দিন। একদিন পর বৃহস্পতিবার শরীর ঠান্ডা হয়ে যাওয়ার পর তাকে ফৌজদারহাট বিআইটিআইডি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ভর্তি না করিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
রুবেল হোসেন বলেন, ‘দ্রুত ছেলেকে নিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে প্রথমে চিকিৎসকেরা রাখতে চাননি। পরে অনেক কষ্টে আইসিইউতে ভর্তি করাই সম্ভব হয়। শুক্রবার দুপুরে রক্তবমি শুরু হয়। পায়খানায় রক্ত যাচ্ছিল। অক্সিজেন বেশি মাত্রায় দিতে শুরু করলেও শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় মারা যায় ইয়াসির।’
মা-বাবা জান্নাতুল নাইমা ও রুবেল হোসেন একেবারে ভেঙে পড়েছেন। ছেলের মৃত্যুর কথা বলতে গিয়ে বারবার থামেন রুবেল। তিনি মুঠোফোনে ইয়াসিরের ছবি দেখিয়ে কেঁদে ওঠেন। ছেলের কবর জিয়ারত করে এসেছেন তিনি।
"ছেলেটার জন্য দোয়া কইরেন।"
সোনাইছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা শোভন ভৌমিক জানান, মশকনিধন কার্যক্রমে তাঁর ইউনিয়নের আট গ্রাম পুলিশসহ সপ্তাহের সাত দিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ করছেন। ওষুধ ছিটিয়ে ডেঙ্গু মশা নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, ‘বৃষ্টির পানি জমে থাকলে সেগুলো সরিয়ে ফেলতে হবে। নিজেরা আঙিনা পরিষ্কার রাখতে হবে। যতক্ষণ না স্থানীয় বাসিন্দারা সচেতন হবেন, ততক্ষণ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (আইসিইউ), সীতাকুণ্ডের গামারিতলা, সোনাইছড়ি ইউনিয়ন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রুবেল হোসেন (বাবা), জান্নাতুল নাইমা (মা), ইয়াসির আরাফাত (ছেলে), শোভন ভৌমিক (প্রশাসনিক কর্মকর্তা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩ বছর (ইয়াসিরের বয়স), ১০১ ডিগ্রি (প্রথম জ্বর), ১০৪ ডিগ্রি (উচ্চতম জ্বর), ২৯ সেপ্টেম্বর (জ্বর শুরু), ১০ অক্টোবর (মৃত্যু)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!