📌 বরিশালে পোস্টিং পাওয়ার পর নতুন সংসার গড়ার স্বপ্নে ছিল চিকিৎসক দম্পতি বিপ্লব চন্দ্র দাস ও আঁচল রায়। কিন্তু ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ২৭ সেপ্টেম্বর মারা যান আঁচল। স্বামী বিপ্লবের কাছে বিয়ের ছবি ও ভবিষ্যতের পরিকল্পনাগুলোই এখনো বাকি রয়েছে
বরিশালে নতুন সংসার গড়ার স্বপ্নে ছিল চিকিৎসক দম্পতি বিপ্লব চন্দ্র দাস ও আঁচল রায়। কিন্তু ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ২৭ সেপ্টেম্বর মারা যান আঁচল। স্বামী বিপ্লবের কাছে বিয়ের ছবি, সমুদ্রে ঘুরতে যাওয়ার স্মৃতি ও ভবিষ্যতের পরিকল্পনাগুলোই এখনো বাকি রয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২৭ সেপ্টেম্বর ডেঙ্গুতে মারা যান চিকিৎসক আঁচল রায়; বরিশালে পোস্টিং পাওয়ার পর নতুন সংসার গড়ার স্বপ্ন ছিল তাঁদের
- 📌 বিয়ের ছবি, স্বামীর সঙ্গে সমুদ্রে ঘুরতে যাওয়ার ছবি ও পেশাগত অর্জনের স্মৃতি এখনো আঁচলের ফেসবুকজুড়ে রয়েছে
- 📌 ২১ সেপ্টেম্বর জ্বর আসার পর প্লাটিলেট দ্রুত কমে ২৫ হাজারে নেমে গেলে ২৫ সেপ্টেম্বর স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন আঁচল
- 📌 স্বামী বিপ্লব চন্দ্র দাসের কথায়, আঁচল প্রটোকলের বাইরে কোনো ওষুধ খেতে চাইতেন না; হাসপাতালে ভর্তি হলে ক্যানুলা করতে ভয় পেতেন
- 📌 বিপ্লব চিকিৎসক হিসেবে স্ত্রীর চিকিৎসায় যুক্ত ছিলেন; আইসিইউতে বলতেন, ‘তুমি ফাইটার, তুমি ফিরবে’
📰 বিস্তারিত
বিপ্লব চন্দ্র দাস ও আঁচল রায়ের বিয়ের দেড় বছরের মাথায় ডেঙ্গুতে আঁচল মারা যান। ঢাকার খিলগাঁওয়ে আঁচলের মা–বাবার বাসার পাশেই ভাড়া নিয়েছিলেন তারা। ফ্রিজ, আসবাবপত্রসহ সংসারের টুকিটাকি জিনিস কিনেছিলেন দুজনে মিলে। ধীরে ধীরে ঘরটি গুছিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। এরপর বরিশালে গিয়ে নতুন করে সংসার সাজানোর পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু সেই পরিকল্পনাগুলো আর সাকার হয়নি।
বিপ্লব চন্দ্র দাস জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের বরগুনার বেতাগী আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) হিসেবে কর্মরত আছেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, “ডেঙ্গু আমাদের সংসার গুছানোর সময় দিল না। আঁচলকে বাঁচানোর চেষ্টা করলাম, কিন্তু সব শেষ হয়ে গেল।”
২১ সেপ্টেম্বর জ্বর আসার পর আঁচল প্লাটিলেট পরীক্ষা করান। তখন তাঁর প্লাটিলেট ছিল এক লাখ। কিন্তু দ্রুত কমতে থাকে প্লাটিলেট। ২৫ হাজারে নেমে গেলে ২৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় আঁচলকে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে ভর্তির পর আঁচলের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হয়। এইচডিইউ, আইসিইউ—একপর্যায়ে তাঁকে জটিল চিকিৎসাপদ্ধতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়। বিপ্লব বলেন, “আঁচল প্রটোকলের বাইরে কোনো ওষুধ খেতে চাইত না। আর নিজেই খুব ব্রাইট চিকিৎসক ছিলেন। হাসপাতালে ভর্তি হলে ক্যানুলা করতে ভয় পেতেন।”
চিকিৎসক হিসেবে পরিস্থিতির কঠিন দিকগুলো বিপ্লব জানতেন। কিন্তু স্বামী হিসেবে বিশ্বাস করতে চাইছিলেন, আঁচল তাঁকে ছেড়ে চলে যাবেন না। আইসিইউতে বলতেন, ‘তুমি ফাইটার, তুমি ফিরবে’। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সব চেষ্টা থেমে যায়। ২৭ সেপ্টেম্বর মারা যান আঁচল।
"আমার বিশ্বাস ছিল, ও আমাকে ছেড়ে আগে চলে যাবে না। তবে চলেই গেল।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (খিলগাঁও), বরিশাল, স্কয়ার হাসপাতাল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বিপ্লব চন্দ্র দাস, আঁচল রায়
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৭ সেপ্টেম্বর (মৃত্যু), ২১ সেপ্টেম্বর (জ্বর), ২৫ হাজার (প্লাটিলেট), ৪৫তম (বিসিএস)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!