📌 চেতনার প্রকৃতি নিয়ে বিজ্ঞান ও দর্শনের মধ্যে নতুন সংশয় জাগ্রত হয়েছে। চিলির সান্টিয়াগোতে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সম্মেলনে গবেষকরা প্রশ্ন তুলেছেন যে, কি চেতনা প্রকৃতির স্বাধীন সত্তা বা বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানের বিভ্রান্তিকর ধারণা? নবজাতক, মৌমাছি বা এআই—কেউ কি সত্যিই অনুভূতি অনুভব করে?
মানব অস্তিত্বের সবচেয়ে গভীর রহস্যের মধ্যে অন্যতম হলো ‘চেতনা’ বা ‘কনশাসনেস’—যা আমাদের অভিজ্ঞতা অর্জনের ক্ষমতা। একটি আমলকী জিভে পাওয়ার অনুভূতি থেকে শুরু করে তুষারাবৃত পর্বতের সোনালি রোদের ঝিলিক দেখার অনুভূতি—এই সবই আমাদের মনোজাগতিক চেতনার জীবন্ত প্রমাণ। শতাব্দী ধরে দর্শন ও বিজ্ঞান এই ধারণার ওপর ভিত্তি করে মানুষের মনকে অনুধাবন করার চেষ্টা চালিয়েছে। কিন্তু একবিংশ শতাব্দীতে স্নায়ুবিজ্ঞান ও প্রজ্ঞান বিজ্ঞানের অগ্রগতির মুখে বিজ্ঞানীরা একটি মৌলিক প্রশ্ন তুলেছেন: চেতনা কি প্রকৃতির স্বাধীন ও মৌলিক সত্তা? নাকি বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে এটি একটি বিভ্রান্তিকর ধারণা?
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চিলির সান্টিয়াগোতে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বিজ্ঞানীরা চেতনার প্রকৃতি নিয়ে নতুন সংশয় তুলেছেন—কি এটি প্রকৃতির স্বাধীন সত্তা?
- 📌 নবজাতক, মৌমাছি বা এআই—এদের কি সত্যিই অনুভূতি বা চেতনা আছে? বিজ্ঞানীরা এখনো কোনো সর্বজনীন সংজ্ঞায় পৌঁছাতে পারেননি
- 📌 ব্রিটিশ দার্শনিক ক্যাথলিন ভি. উইলকসের গবেষণা প্রমাণ করে, ‘চেতনা’ ধারণাটি আধুনিক ইউরোপীয় দার্শনিক চিন্তার ফলস্বরূপ—প্রাচীন সংস্কৃতিতে এর কোনো সমতুল্য ছিল না
- 📌 এমআইটি-এর দার্শনিক নেড ব্লকের ‘ফেনোমেনাল কনশাসনেস’ ধারণা ৩০ বছর ধরে চেতনা-বিজ্ঞানের প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে
- 📌 চেতনার অনুভূতি (কেমন লাগছে) থাকলে সেটিকে নৈতিক অধিকার বা সুরক্ষার আওতায় আনা যেতে পারে—এই প্রশ্ন নৈতিকতা ও দর্শনে গুরুত্বপূর্ণ
📰 বিস্তারিত
চেতনার প্রকৃতি নিয়ে বিজ্ঞান ও দর্শনের মধ্যে নতুন সংশয় জাগ্রত হয়েছে। চিলির সান্টিয়াগোতে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বিজ্ঞানীরা প্রশ্ন তুলেছেন যে, আমরা যাকে ‘চেতনা’ বলছি, তা কি প্রকৃতির স্বাধীন ও মৌলিক সত্তা? নাকি বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে এটি একটি বিভ্রান্তিকর ধারণা? সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী স্নায়ুবিজ্ঞানী ও দার্শনিকরা নবজাতক শিশু, ছোট মৌমাছি বা আধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)—এদের কি সত্যিই অনুভূতি বা চেতনা আছে, তা নিয়ে আলোচনা করেছেন। বিজ্ঞানীরা এখনো কোনো সর্বজনীন, সুনির্দিষ্ট বা সর্বসম্মত সংজ্ঞায় পৌঁছাতে পারেননি।
চেতনার ধারণা বিভিন্ন বিজ্ঞান ও দর্শনের শাখায় আলাদা আলাদা প্রেক্ষাপটে ব্যবহৃত হয়। যেমন:
- অনুভূতিশীলতা (সেন্টিয়েন্স): কোনো বাহ্যিক উদ্দীপনা বা ব্যথা-বেদনা সরাসরি অনুভব করার ক্ষমতা
- সচেতনতা (অ্যাওয়ারনেস): পরিবেশ ও নিজের পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে সম্যক ধারণা রাখা
- স্বাতন্ত্র্যসূচক অভিজ্ঞতা (কোয়ালিয়া): ব্যক্তিকেন্দ্রিক নিজস্ব অনুভূতির রূপ, অর্থাৎ কোনো বস্তুনিষ্ঠ অভিজ্ঞতার ভেতরের অনুভূতি
- 📍 স্থান: চিলি, সান্টিয়াগো
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বিজ্ঞানীরা, স্নায়ুবিজ্ঞানীরা, নেড ব্লক, ক্যাথলিন ভি. উইলকস
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৭ শতক, ৩০ বছর
এই পরিভাষার অস্পষ্টতা বিজ্ঞানীদের মধ্যে একটি গভীর সন্দেহ সৃষ্টি করেছে—বিভিন্ন ক্ষেত্রের গবেষকরা যখন ‘চেতনা’ নিয়ে কথা বলেন, তারা কি একই বস্তু বা প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ করছেন? নাকি একেকজন সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়কে একই নামে ডাকার ভুল করছেন? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে ১৯৯০-এর দশকে এমআইটি-এর দার্শনিক নেড ব্লক ‘ফেনোমেনাল কনশাসনেস’ বা অনুভূতির চেতনা ধারণা উপস্থাপন করেন। সহজ কথায়, এটি হলো কোনো অভিজ্ঞতা অর্জনের সময় ভেতরের সেই মূল অনুষঙ্গ, যা মনস্তাত্ত্বিকভাবে ‘কেমন লাগছে’ অনুভূতি নামে পরিচিত।
বিজ্ঞান ও দর্শনে ‘চেতনা’ ধারণাটির গুরুত্ব অপরিসীম। কারণ, কোনো সত্তা—মানব শিশু, মৌমাছি বা সিলিকন চিপে তৈরি এআই—যদি ‘কেমন লাগছে’ টাইপের নিজস্ব অনুভূতি থাকে, তবেই সেটিকে নৈতিক অধিকার বা বিশেষ সুরক্ষার আওতায় আনা যেতে পারে। তবে ঐতিহাসিক ও ভাষাগত বিশ্লেষণ থেকে দেখা যায়, ‘চেতনা’ ধারণাটি আধুনিক ইউরোপীয় দার্শনিক ও বৈজ্ঞানিক চিন্তাকাঠামোর ফলস্বরূপ। ব্রিটিশ দার্শনিক ক্যাথলিন ভি. উইলকসের গবেষণা প্রমাণ করে, প্রাচীন গ্রিক, ম্যান্ডারিন, ক্রোয়েশীয় বা ১৭ শতকের আগের ইংরেজিতে ‘চেতনা’ বা ‘ফেনোমেনাল কনশাসনেস’-এর মতো সমন্বিত ধারণার উপস্থিতি ছিল না। এর অর্থ, আমরা যে ‘চেতনা’কে মানুষের সর্বজনীন মানসিক অবয়ব ভেবে এসেছি, তা সম্ভবত প্রাচীন সভ্যতার কোনো মৌলিক সত্য নয়—বরং আধুনিক ইউরোপীয় চিন্তার তৈরি একটি ঐতিহাসিক ধারণা মাত্র।
"আমরা যাকে ‘চেতনা’ বলছি, তা কি প্রকৃতির স্বাধীন ও মৌলিক সত্তা? নাকি বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে এটি একটি বিভ্রান্তিকর ধারণা?"
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!