📌 কক্সবাজারের সংরক্ষিত বনে অনুমতি ছাড়াই ২৫ কোটি টাকার পাকা সড়ক নির্মাণের প্রকল্প চলছে, যা হাতির বিচরণ ও বন্যপ্রাণীর অস্তিত্বের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করছে। পরিবেশ আইন লঙ্ঘন ও প্রশাসনিক অদক্ষতার এই প্রকল্পের বিরুদ্ধে সতর্কতা জানানো হয়েছে
কক্সবাজারের সংরক্ষিত বনাঞ্চলে অনুমতি ছাড়াই পাকা সড়ক নির্মাণের প্রকল্পের ফলে বন্যপ্রাণী ও পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। চকরিয়ার হারবাং সংরক্ষিত বনের ভেতর দিয়ে ২৫ কোটি টাকার বিনিয়োগে ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ ও ১০ থেকে ১২ ফুট চওড়া সড়ক নির্মাণের কাজ চলছে, যা আইন অনুযায়ী নিষিদ্ধ। এই প্রকল্পের ফলে এশীয় হাতির বিচরণপথ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে এবং মানব-হাতি দ্বন্দ্ব আরও তীব্র হবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২৫ কোটি টাকার বিনিয়োগে চকরিয়ার হারবাং সংরক্ষিত বনের ভেতর দিয়ে ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ পাকা সড়ক নির্মাণের কাজ চলছে, যা পরিবেশ আইন লঙ্ঘন করছে।
- 📌 ৫০ একর সুফল বনায়ন ও বিরল গর্জনগাছ ধ্বংসের হুমকিতে পড়েছে এই প্রকল্পের কারণে।
- 📌 ১০ থেকে ১২ ফুট চওড়া এই সড়ক নির্মাণের ফলে বন্যপ্রাণী শিকার, গাছ চুরি ও বনভূমি জবরদখলের সম্ভাবনা বেড়েছে।
- 📌 বন বিভাগের লিখিত নির্দেশ বিলম্বিত হওয়া সত্ত্বেও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
- 📌 চকরিয়া, মহেশখালী ও সাতকানিয়ার সংরক্ষিত বনেও একই ধরনের প্রকল্পের চেষ্টা চলছে।
📰 বিস্তারিত
প্রথম আলোর প্রতিবেদন জানায়, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়াই কক্সবাজারের সংরক্ষিত বনে এই সড়ক নির্মাণের প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। হারবাং বনের ভেতর দিয়ে নির্মিত এই সড়ক শুধু বৃক্ষনিধনই নয়, দক্ষিণ চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী বনাঞ্চল ও বন্য প্রাণীদের অস্তিত্বের ওপর মারাত্মক আঘাত হচ্ছে। সংরক্ষিত বনের ভেতর সড়ক নির্মাণের কোনো আইনি সুযোগ নেই, কিন্তু এই প্রকল্পের মাধ্যমে সেই নিয়মকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হয়েছে।
হারবাং বনে এশীয় হাতির অবাধ বিচরণ রয়েছে এবং বনের ভেতর দিয়ে নির্মিত এই সড়ক তাদের চলাচলের করিডরকে বিচ্ছিন্ন করবে। এর ফলে হাতির বসতবাড়িতে হানা দেওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে, যা মানব-হাতি দ্বন্দ্বকে আরও সহিংস রূপ দেবে। এছাড়াও, এই সড়ক নির্মাণের ফলে বন্যপ্রাণী শিকার, গাছ চুরি ও বনভূমি জবরদখলের মতো অপরাধের সম্ভাবনা বেড়ে যাবে।
বন বিভাগের পক্ষ থেকে কাজ বন্ধের লিখিত নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। কেবল হারবাং বনেই নয়, চকরিয়ার মধুশিয়া গর্জনবন, সাতকানিয়ার বৈতরণি এবং মহেশখালীর শাপলাপুর সংরক্ষিত বনেও একই ধরনের প্রকল্পের চেষ্টা চলছে। পরিবেশগত সমীক্ষা ও আইন লঙ্ঘন করে এই প্রকল্প অনুমোদন করা কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা জরুরি।
"সংরক্ষিত বনের সীমান্ত ঘেঁষে বা ভেতরের সমস্ত সড়ক নির্মাণ প্রকল্প এখনই স্থায়ীভাবে স্থগিত করতে হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চকরিয়া, কক্সবাজার; হারবাং, মধুশিয়া, বৈতরণি, শাপলাপুর সংরক্ষিত বন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: উন্নয়ন কর্মকর্তা, বন বিভাগের কর্মকর্তা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৫ কোটি টাকা (বিনিয়োগ), ৫০ একর (সুফল বনায়ন), ৪ কিলোমিটার (সড়ক দৈর্ঘ্য), ১০-১২ ফুট (সড়ক চওড়া)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!