📌 নাসার টেলিস্কোপ ডেটা বিশ্লেষণ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ১০ লাখ সম্ভাব্য কৃষ্ণগহ্বর সনাক্ত করেছে। এখন সাধারণ মানুষও জুনাইভার্স প্ল্যাটফর্মে অংশ নিয়ে মহাকাশের অদৃশ্য কৃষ্ণগহ্বর খুঁজতে পারে। বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, এই সিটিজেন সায়েন্স প্রজেক্টের মাধ্যমে মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিতে লুকিয়ে থাকা ১০ কোটি কৃষ্ণগহ্বরের মধ্যে কিছু খুঁজে পাওয়া যেতে পারে।
মহাকাশের অদৃশ্য রহস্য খুঁজতে এখন সাধারণ মানুষেরও সুযোগ রয়েছে। নাসার টেলিস্কোপের বিশাল ডেটা বিশ্লেষণ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ১০ লাখ সম্ভাব্য কৃষ্ণগহ্বরের তালিকা তৈরি করেছে। কিন্তু এই তালিকায় থেকে আসলে কতগুলোই সত্যিকারের কৃষ্ণগহ্বর তা নির্ধারণের জন্য বিজ্ঞানীরা সাধারণ মানুষের সহায়তা চাইছেন। জুনাইভার্স প্ল্যাটফর্মে শুরু হয়েছে এক সিটিজেন সায়েন্স প্রজেক্ট, যেখানে আপনার ল্যাপটপ বা স্মার্টফোনের মাধ্যমে বসেই মহাকাশের অদৃশ্য কৃষ্ণগহ্বর খুঁজতে পারবেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১০ লাখ সম্ভাব্য কৃষ্ণগহ্বর সনাক্ত করেছে নাসার টেলিস্কোপের ডেটা বিশ্লেষণ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কিন্তু সেগুলোর মধ্যে সত্যিকারের কৃষ্ণগহ্বর কতগুলো তা নির্ধারণের জন্য সাধারণ মানুষের ডাক পড়েছে
- 📌 মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিতে এখন পর্যন্ত মাত্র ৫০টি কৃষ্ণগহ্বর সনাক্ত করা হয়েছে, কিন্তু বিজ্ঞানীরা অনুমান করছেন, এখানে অন্তত ১০ কোটি কৃষ্ণগহ্বর লুকিয়ে আছে
- 📌 অদৃশ্য কৃষ্ণগহ্বর খুঁজতে বিজ্ঞানীরা ব্যবহার করছেন মহাকর্ষীয় লেন্সিং প্রযুক্তি, যেখানে কৃষ্ণগহ্বর যখন নক্ষত্রের পেছনে চলে যায়, তখন তার আলো বাঁকিয়ে বিশাল হয়ে দেখা যায়
- 📌 ৩০ লাখেরও বেশি নক্ষত্রের ডেটা বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা খুঁজছেন এমন কৃষ্ণগহ্বর, যা তার সঙ্গী নক্ষত্র থেকে কোনো গ্যাস চুরি করতে পারে না এবং সম্পূর্ণ অদৃশ্য থাকে
📰 বিস্তারিত
মহাকাশের অদৃশ্য রহস্যগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো কৃষ্ণগহ্বর। বিজ্ঞানীরা জানান, আমাদের নিজস্ব মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিতে এখন পর্যন্ত মাত্র ৫০টি কৃষ্ণগহ্বর সনাক্ত করা হয়েছে। কিন্তু বিজ্ঞানীদের অনুমান, এই বিশাল গ্যালাক্সিতে অন্তত ১০ কোটি কৃষ্ণগহ্বর লুকিয়ে থাকতে পারে। এখন প্রশ্ন হলো, বাকিগুলো কোথায়? সেগুলো খুঁজতেই জুনাইভার্স প্ল্যাটফর্মে শুরু হয়েছে এক সিটিজেন সায়েন্স প্রজেক্ট।
বিজ্ঞানীরা জানান, সাধারণত কৃষ্ণগহ্বর যখন তার সঙ্গী নক্ষত্র থেকে গ্যাস চুরি করে, তখন সেই গ্যাস জ্বলে ওঠে এবং এক্স-রে রশ্মি ছড়ায়। কিন্তু এই প্রজেক্টে বিজ্ঞানীরা খুঁজছেন এমন কৃষ্ণগহ্বর, যা তার সঙ্গী নক্ষত্র থেকে কোনো গ্যাস চুরি করতে পারে না এবং সম্পূর্ণ অদৃশ্য থাকে। এদের খুঁজতে বিজ্ঞানীরা ব্যবহার করছেন মহাকর্ষীয় লেন্সিং প্রযুক্তি। যখন কৃষ্ণগহ্বর তার সঙ্গী নক্ষত্রের পেছনে চলে যায়, তখন তার মহাকর্ষীয় প্রভাবের কারণে নক্ষত্রের আলো বাঁকিয়ে বিশাল হয়ে দেখা যায়। এই আলোর পরিবর্তন দেখেই বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারেন, সেখানে একটি কৃষ্ণগহ্বর আছে।
যুক্তরাজ্যের সাউদাম্পটন ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানী ড. অ্যাডাম ম্যাকমাস্টার বলেছেন, এ পর্যন্ত মহাকাশে মাত্র পাঁচটি সেলফ-লেন্সিং সিস্টেম পাওয়া গেছে, কিন্তু সেগুলোতে কোনো কৃষ্ণগহ্বর নেই। এবার তারা প্রথমবারের মতো একটি সত্যিকারের কৃষ্ণগহ্বর খুঁজার মিশনে নেমেছেন। এই প্রজেক্টে সাধারণ মানুষও অংশ নিয়ে কৃষ্ণগহ্বর খুঁজতে পারবেন।
"আমাদের গ্যালাক্সিতে লুকিয়ে থাকা কৃষ্ণগহ্বরগুলো খুঁজতে এখন সাধারণ মানুষের সহায়তা প্রয়োজন। এই প্রজেক্টের মাধ্যমে আমরা আশা করছি, কতগুলো অদৃশ্য কৃষ্ণগহ্বর সনাক্ত করা যেতে পারে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মহাকাশ (মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ড. অ্যাডাম ম্যাকমাস্টার (সাউদাম্পটন ইউনিভার্সিটি)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০ লাখ (সম্ভাব্য কৃষ্ণগহ্বর), ৫০ (সনাক্তকৃত কৃষ্ণগহ্বর), ১০ কোটি (অনুমানিক লুকিয়ে থাকা কৃষ্ণগহ্বর)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!