📌 চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগের গবেষণাকে অগ্রাধিকার দিতে বলেছেন। তিনি বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও নগরায়ণের কারণে রোগের ধরন ও বিস্তৃতি পরিবর্তিত হচ্ছে। চট্টগ্রামে ২০২২-২০২৬ সাল পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট ২৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ২০২৬ সালে ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।
চট্টগ্রামে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগের প্রতিরোধ ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে গবেষণাকে অগ্রাধিকার দিতে বলেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তন, নগরায়ণ, মানুষের চলাচল এবং মশার প্রজনন পরিবেশের কারণে প্রতিবছর রোগের ধরন ও বিস্তৃতি পরিবর্তিত হচ্ছে। ফলে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার জন্য বৈজ্ঞানিক গবেষণার প্রয়োজন বেশি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, ডেঙ্গুকে মৌসুমি রোগ হিসেবে দেখলে হবে না— প্রতিবছর এর ধরন ও বিস্তৃতি পরিবর্তিত হচ্ছে।
- 📌 ২০২২ সালে চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে ৪১ জন, ২০২৩ সালে ১০৭ জন, ২০২৪ সালে ৪৫ জন, ২০২৫ সালে ২৭ জন এবং ২০২৬ সাল পর্যন্ত ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।
- 📌 চট্টগ্রাম সিটি এলাকায় ২০২৬ সালে এ পর্যন্ত ৭ জন মারা গেছেন, কিন্তু আগস্টে ১ জন এবং সেপ্টেম্বরে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।
- 📌 পার্শ্ববর্তী উপজেলাগুলোতে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা শহরের চেয়ে বেশি।
- 📌 মেয়র বলেছেন, মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে নিয়মিত এন্টোমোলজিক্যাল সার্ভে ও গবেষণার প্রয়োজন।
- 📌 প্রধানমন্ত্রীর সহকারী ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এ এন এম মনোয়ারুল কাদির বলেছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা ও সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।
📰 বিস্তারিত
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের (চমেক) কনফারেন্স রুমে চমেক হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগ ও বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিন, চট্টগ্রামের আয়োজিত ডেঙ্গু ব্যবস্থাপনা বিষয়ক সেমিনারে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, ‘ডেঙ্গুকে শুধু একটি মৌসুমি রোগ হিসেবে দেখলে হবে না। প্রতিবছর এর ধরন ও বিস্তৃতিতে পরিবর্তন আসছে। কোন এলাকায় কখন সংক্রমণ বাড়ছে, কোন ধরনের মশা বেশি সক্রিয়, কোন সেরোটাইপ বেশি বিস্তার লাভ করছে— এসব বিষয়ে নিয়মিত গবেষণা ও তথ্য বিশ্লেষণ প্রয়োজন।’
মেয়র বলেন, ‘চট্টগ্রামে ডেঙ্গু পরিস্থিতিতেও বছরের পর বছর উল্লেখযোগ্য ওঠানামা দেখা যাচ্ছে। ২০২২ সালে ৪১ জন, ২০২৩ সালে ১০৭ জন, ২০২৪ সালে ৪৫ জন, ২০২৫ সালে ২৭ জন এবং ২০২৬ সাল পর্যন্ত ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত চট্টগ্রাম সিটি এলাকায় ৭ জন মারা গেলেও জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত কেউ মারা জাননি। আগস্টে ১ জন এবং সেপ্টেম্বরে ৬ জন মারা গেছেন। পার্শ্ববর্তী উপজেলাগুলোতে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং অন্য জেলার একজন রোগী শহরে এসে মারা গেছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ থেকে বুঝা যায় একটি বছরে মৃত্যু কমেছে বলেই আমরা আত্মতুষ্টিতে ভুগতে পারি না। আবার কোনো বছরে মৃত্যু বেড়ে গেলে শুধু তাৎক্ষণিকভাবে মশক নিধন কার্যক্রম বাড়ালেই হবে না। কেন সংক্রমণ বাড়ছে এবং কোন পদ্ধতিতে তা কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব— এ বিষয়ে বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করতে হবে।’
মেয়র বলেন, ‘চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন মশক নিয়ন্ত্রণে মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে এসব কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে নিয়মিত এন্টোমোলজিক্যাল সার্ভে, ডেটা বিশ্লেষণ এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণার সঙ্গে সমন্বয় করা প্রয়োজন। গবেষণা থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কোথায়, কখন এবং কী ধরনের মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রীর সহকারী ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এ এন এম মনোয়ারুল কাদির (বিটু) বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে সংশ্লিষ্ট সবাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে একযোগে কাজ করছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা হতে পারে বড় হাতিয়ার। আশা করছি ডেঙ্গু প্রতিরোধে আমরা সফল হব।’ তিনি বলেন, ‘ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে চিকিৎসক, গবেষক, নগর কর্তৃপক্ষ, স্বাস্থ্য বিভাগ, বিশ্ববিদ্যালয় এবং সাধারণ জনগণকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।’
"ডেঙ্গুকে শুধু একটি মৌসুমি রোগ হিসেবে দেখলে হবে না। প্রতিবছর এর ধরন ও বিস্তৃতিতে পরিবর্তন আসছে। কোন এলাকায় কখন সংক্রমণ বাড়ছে, কোন ধরনের মশা বেশি সক্রিয়, কোন সেরোটাইপ বেশি বিস্তার লাভ করছে, জলবায়ু ও বৃষ্টিপাতের সঙ্গে সংক্রমণের কী সম্পর্ক এবং কোন ধরনের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা বেশি কার্যকর— এসব বিষয়ে নিয়মিত গবেষণা ও তথ্য বিশ্লেষণ প্রয়োজন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডা. শাহাদাত হোসেন (চসিক মেয়র), ডা. এ এন এম মনোয়ারুল কাদির (প্রধানমন্ত্রীর সহকারী চিকিৎসক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০২২ (৪১ জন মৃত্যু), ২০২৩ (১০৭ জন), ২০২৪ (৪৫ জন), ২০২৫ (২৭ জন), ২০২৬ (১৭ জন মৃত্যু), ৭ জন (চলতি বছরের সিটি এলাকায় মৃত্যু), ৯ জন (পার্শ্ববর্তী উপজেলায় মৃত্যু)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!