📌 চীনা বিজ্ঞানীরা পরমাণুর নিউক্লিয়াসের শক্তি পরিবর্তন ব্যবহার করে তৈরি করেছেন অত্যন্ত নিখুঁত পারমাণবিক আলোকঘড়ি। এই ঘড়ি সময় মাপার প্রযুক্তিতে বিপ্লব সৃষ্টি করতে পারে এবং স্যাটেলাইট নেভিগেশনের নির্ভুলতা বাড়াতে সাহায্য করবে
চীনের বিজ্ঞানীরা সময় মাপার প্রযুক্তিতে একটি বিপ্লবী অগ্রগতি সাধন করেছেন। তারা পরমাণুর নিউক্লিয়াসের শক্তির পরিবর্তনকে কাজে লাগিয়ে তৈরি করেছেন অত্যন্ত নিখুঁত পারমাণবিক আলোকঘড়ি, যা আগের চেয়ে অনেক বেশি নির্ভুলভাবে সময় পরিমাপ করতে পারে। এই নতুন প্রযুক্তি স্যাটেলাইট ও মহাকাশযানের অবস্থান নির্ধারণে বিপুল প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চীনা বিজ্ঞানীরা পরমাণুর নিউক্লিয়াসের শক্তি পরিবর্তন ব্যবহার করে তৈরি করেছেন পারমাণবিক আলোকঘড়ি, যা আগের চেয়ে ২ কোয়াড্রিলিয়ন গুণ বেশি নির্ভুল
- 📌 গবেষকরা ১৪৮.৪ ন্যানোমিটার তরঙ্গদৈর্ঘ্যের অতিবেগুনি লেজার ব্যবহার করে থোরিয়াম-২২৯-এর নিউক্লিয়াসের শক্তি পরিবর্তন নিয়ন্ত্রণ করেছেন
- 📌 সিনহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক তিং শিসিয়ান বলেছেন, এই ঘড়ির দোলক প্রতি সেকেন্ডে ২ কোয়াড্রিলিয়ন বার ঘটে, যা আগের পেন্ডুলাম ঘড়ির তুলনায় অসামান্য নির্ভুলতা প্রদান করে
- 📌 পরমাণুর নিউক্লিয়াসের সংবেদনশীলতা কম হওয়ায় বাইরের পরিবেশের পরিবর্তন থেকে এটি বেশি রক্ষা পায়
- 📌 এই প্রযুক্তি স্যাটেলাইট নেভিগেশন, মহাকাশ অনুসন্ধান এবং দূরত্ব পরিমাপে বিপুল প্রভাব ফেলতে পারে
📰 বিস্তারিত
চীনের সিনহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের নেতৃত্বে একটি দল পরমাণুর নিউক্লিয়াসের শক্তির পরিবর্তনকে কাজে লাগিয়ে একটি অত্যন্ত নিখুঁত পারমাণবিক আলোকঘড়ি তৈরি করেছেন। এই ঘড়িতে আগের চেয়ে অনেক বেশি নির্ভুলতার সাথে সময় পরিমাপ করা সম্ভব। গবেষকদের মতে, এই ঘড়ির দোলক প্রতি সেকেন্ডে ২ কোয়াড্রিলিয়ন বার ঘটে, যা আগের পেন্ডুলাম ঘড়ির তুলনায় অসামান্য নির্ভুলতা প্রদান করে।
গবেষকরা ১৪৮.৪ ন্যানোমিটার তরঙ্গদৈর্ঘ্যের একটি বিশেষ অতিবেগুনি লেজার তৈরি করেছেন। এই লেজার ব্যবহার করে তারা তেজস্ক্রিয় মৌল থোরিয়াম-২২৯-এর পরমাণুকেন্দ্রে শক্তির স্তর পরিবর্তনের একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া ঘটিয়েছেন। এই প্রক্রিয়াটি পরমাণুর নিউক্লিয়াসের শক্তির পরিবর্তনকে নিয়ন্ত্রণ করে, যা আগের চেয়ে অনেক বেশি স্থিতিশীল এবং বাইরের পরিবেশের পরিবর্তনের প্রতি কম সংবেদনশীল।
সিনহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তিং শিসিয়ান বলেছেন, ‘প্রচলিত পেন্ডুলাম ঘড়িতে দোলক প্রতি সেকেন্ডে প্রায় একবার দোলে। কিন্তু নিউক্লিয়ার অপটিক্যাল ঘড়িতে পরমাণুর কেন্দ্রের ছন্দ প্রতি সেকেন্ডে দুই কোয়াড্রিলিয়ন বার ঘটে। ফলে সময়কে অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে ভাগ করে নির্ভুলভাবে পরিমাপ করা সম্ভব হয়েছে।’
"প্রচলিত পেন্ডুলাম ঘড়িতে দোলক প্রতি সেকেন্ডে প্রায় একবার দোলে। সেটা গুনেই সময়ের হিসাব করি। নিউক্লিয়ার অপটিক্যাল ঘড়িতে পরমাণুর কেন্দ্রের ছন্দটাই দোলকের কাজ করে। এই ছন্দ প্রতি সেকেন্ডে দুই কোয়াড্রিলিয়ন। ফলে সময়কে অত্যন্ত সূক্ষ্ম ব্যবধানে ভাগ করে নির্ভুলভাবে পরিমাপ করা সম্ভব"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চীন, সিনহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সহযোগী অধ্যাপক তিং শিসিয়ান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৪৮.৪ ন্যানোমিটার তরঙ্গদৈর্ঘ্য, ২২৯ (থোরিয়াম-২২৯), ২ কোয়াড্রিলিয়ন বার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!