📌 ন্যাশনাল চাইল্ড হেল্পলাইনে শিশুদের সাইবার হয়রানির শিকার হওয়ার ঘটনা গত বছরের তুলনায় ৪২% বেড়েছে। অভিভাবকরা বয়স বাড়িয়ে শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অ্যাকাউন্ট খুলে সাইবার বিপদের ঝুঁকি বাড়াচ্ছেন। বিশেষজ্ঞরা দাবি করেছেন, অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধি ও প্ল্যাটফর্মের দায়িত্বশীল ভূমিকা ছাড়া সমাধান সম্ভব নয়
বাংলাদেশে শিশুদের সাইবার হয়রানি দিন দিন বাড়ছে। ন্যাশনাল চাইল্ড হেল্পলাইনে শিশুদের সাইবার হয়রানির শিকার হওয়ার ঘটনা গত বছরের তুলনায় ৪২ শতাংশ বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অভিভাবকদের অজ্ঞতা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপরাধীদের সুযোগ নেওয়া এই ঘটনাগুলোর মূল কারণ।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৪২ শতাংশ বেড়েছে শিশুদের সাইবার হয়রানির ঘটনা — গত বছরের তুলনায় চলতি বছরে ন্যাশনাল চাইল্ড হেল্পলাইনে এই ধরনের কল ৪২ শতাংশ বেড়েছে।
- 📌 ৯৫ শতাংশ শিশু মুঠোফোনে আসক্ত — দুই থেকে পাঁচ বছরের শিশুদের মধ্যে ৯৫ শতাংশ মোবাইল ফোনের প্রতি আসক্তি দেখাচ্ছে।
- 📌 ৫৯৭টি সাইবার হয়রানি ঘটনা ২০২৫ সালে হেল্পলাইনে রিপোর্ট করা হয়, এর মধ্যে ১৭৯টি ক্ষেত্রে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
- 📌 ৫৬৫টি ঘটনা জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত হেল্পলাইনে রিপোর্ট করা হয়, যার মধ্যে ১৭০টি ক্ষেত্রে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
- 📌 কুমিল্লা ও কক্সবাজারে শিশুদের সাইবার হয়রানির ঘটনা থেকে ঘর ছেড়ে যাওয়া ও ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে।
📰 বিস্তারিত
ন্যাশনাল চাইল্ড হেল্পলাইনের তথ্য অনুযায়ী, শিশুদের সাইবার হয়রানির ঘটনা দিন দিন বাড়ছে। গত বছরে মোট ৭ লাখ ৬৯ হাজার ৮৬১টি কল এসেছিল হেল্পলাইনে, যার মধ্যে ৫৯৭টি ছিল শিশুদের সাইবার হয়রানির ঘটনা। এই ঘটনাগুলোর মধ্যে ১৭৯টি ক্ষেত্রে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত আট মাসে মোট ৫ লাখ ২৭ হাজার ৯৫৪টি কল এসেছে, যার মধ্যে ৫৬৫টি ছিল সাইবার হয়রানি-সংক্রান্ত। এসব ঘটনাগুলোর মধ্যে ১৭০টি ক্ষেত্রে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংখ্যা শুধু হেল্পলাইনে রিপোর্ট করা ঘটনার হিসাব। বাস্তবে অনেক বেশি ঘটনা ঘটছে, যা হেল্পলাইনে জানানো হয় না।
অভিভাবকদের অজ্ঞতা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপরাধীদের সুযোগ নেওয়া এই ঘটনাগুলোর মূল কারণ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাতে মোবাইল ফোন পেয়ে শিশুরা অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সম্পর্কে আগ্রহী হয়ে উঠছে। আবার কখনো কখনো অভিভাবকরা পড়াশোনা, যোগাযোগ কিংবা বিনোদনের জন্য বয়স বাড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশুর অ্যাকাউন্ট খুলে সাইবার বিপদের ঝুঁকি বাড়াচ্ছেন।
একজন বহুজাতিক সংস্থার কর্মকর্তা বলেছেন, তিনি করোনাকালে ২০২০ সালে অনলাইন ক্লাসের জন্য বয়স বাড়িয়ে মেয়েকে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুলে দিয়েছিলেন। মেয়ে তখন পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ত। পরে ওই অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে মেয়ের সঙ্গে সমবয়সী পরিচয় দেওয়া অপরিচিত এক ব্যক্তির বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। কৌশলে ওই ব্যক্তি মেয়ের পাসওয়ার্ড জেনে অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং আপত্তিকর ছবি, ভিডিও ধারণ করে মেয়েকে ব্ল্যাকমেল করতে শুরু করে। ভয়ে-আতঙ্কে মেয়েটি প্রথমে কিছু জানায়নি। পরে দীর্ঘদিন মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাউন্সেলিংয়ে থেকে সে স্বাভাবিক হয়েছে। কিন্তু এখনো মাঝে মাঝে পুরোনো ট্রমা ফিরে আসে।
চাইল্ড হেল্পলাইনের ব্যবস্থাপক চৌধুরী মো. মোহায়মেন বলেছেন, পরিবারগুলো ভেঙে ছোট হচ্ছে। পরিবারের সদস্যদের বদলে শিশুরা অনলাইনে অপরিচিত মানুষের সংস্পর্শে আসছে। অপরাধীরা অনেক সময় শিশুর সমবয়সী পরিচয় দিয়ে বন্ধুত্ব গড়ে তোলে। পরে ব্যক্তিগত ছবি, ভিডিও কিংবা তথ্য সংগ্রহ করে সেগুলো দিয়ে ব্ল্যাকমেল করার চেষ্টা করতে পারে। তাই সন্তানের অ্যাকাউন্ট খুলে দেওয়ার পর কারা তার বন্ধু হচ্ছে, কী ধরনের বার্তা আসছে এবং কেউ ব্যক্তিগত তথ্য চাইছে কি না, তা নিয়ে অভিভাবকদের সচেতন থাকা জরুরি।
"অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধি ও তদারকির পাশাপাশি অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকা এবং শিশু নির্যাতনসংক্রান্ত অপরাধ তদন্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ (কুমিল্লা, কক্সবাজার)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: চৌধুরী মো. মোহায়মেন (চাইল্ড হেল্পলাইন ব্যবস্থাপক), কর্মকর্তা (বহুজাতিক সংস্থা), অভিভাবকদের
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪২ শতাংশ (সাইবার হয়রানি বাড়ার হার), ৯৫ শতাংশ (মুঠোফোনে আসক্ত শিশু), ৫৯৭টি (২০২৫ সালের সাইবার হয়রানি ঘটনা), ১৭৯টি (আইনি পদক্ষেপ নেওয়া ঘটনা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!