📌 চেরনোবিল পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ১৯৮৬ সালের দুর্ঘটনার ৪০ বছর পরও তেজস্ক্রিয় কণাগুলো অপরিবর্তিত রয়েছে বলে গবেষণা প্রকাশ করেছে লাইবনিজ ইউনিভার্সিটি হ্যানোভার ও হেলমহোল্টজ-জেন্ট্রাম। দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ঝুঁকি বাড়িয়েছে এই অবস্থা।
চেরনোবিল পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ১৯৮৬ সালের ২৬ এপ্রিলের বিস্ফোরণের ৪০ বছর পরও সেখানে তেজস্ক্রিয়তা অপরিবর্তিত রয়েছে বলে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন। লাইবনিজ ইউনিভার্সিটি হ্যানোভার ও হেলমহোল্টজ-জেন্ট্রাম ড্রেসডেন-রসেনডর্ফের গবেষকদের একটি দল গবেষণা প্রকাশ করেছেন, যেখানে দেখা গেছে চুল্লি থেকে বিস্ফোরিত হয়ে ছড়িয়ে পড়া পারমাণবিক জ্বালানির ক্ষুদ্র কণাগুলো ৪০ বছরেও তাদের তেজস্ক্রিয়তা বজায় রেখেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চেরনোবিলের তেজস্ক্রিয় কণাগুলো ৪০ বছর পরও অপরিবর্তিত অবস্থায় রয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ঝুঁকি সৃষ্টি করছে
- 📌 গবেষকরা জানিয়েছেন, ৮ থেকে ৫০ মাইক্রোমিটার আকারের ক্ষুদ্র কণাগুলো ইউক্রেনের উত্তরাঞ্চলের এক্সক্লুশন জোনের মাটি ও পরিবেশকে দূষিত করে চলেছে
- 📌 চুল্লির বিস্ফোরণে ছড়িয়ে পড়া কণাগুলো তিনটি শ্রেণিতে বিভক্ত: ইউরেনিয়াম ডাই-অক্সাইড, জিরকোনিয়াম আবৃত কণা, এবং গ্রাফাইট মডারেটর থেকে উৎপন্ন মাইক্রোস্কোপিক ধূলিকণা
- 📌 গবেষণায় দেখা গেছে, কণাগুলোর অভ্যন্তরীণ কাঠামো ৪০ বছর পরও অক্ষুণ্ন রয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশের জন্য বড় ঝুঁকি
- 📌 চেরনোবিলের চার নম্বর চুল্লির বিস্ফোরণে বাতাসে ছড়িয়ে পড়া তেজস্ক্রিয় কণাগুলো শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে গ্রহণ করা স্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক
📰 বিস্তারিত
১৯৮৬ সালের ২৬ এপ্রিল সোভিয়েত ইউনিয়নের চেরনোবিল পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ঘটা বিস্ফোরণে বায়ুমণ্ডলে শতাধিক ধরনের তেজস্ক্রিয় কণা ছড়িয়ে পড়ে। এসব কণার আকার ছিল মাত্র ৮ থেকে ৫০ মাইক্রোমিটার। গবেষকদের তথ্যমতে, এসব কণাগুলো পরিবেশের মধ্যে ফিশন পণ্য ও অ্যাক্টিনাইডের স্থায়ী ভান্ডার হিসেবে কাজ করছে। গবেষণা ফলাফলে দেখা গেছে, চেরনোবিলের জ্বালানিকণাগুলো ৪০ বছর পরও তাদের তেজস্ক্রিয়তা বজায় রেখেছে এবং দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশের জন্য ঝুঁকি সৃষ্টি করছে।
গবেষক টোবিয়াস ওয়েসেনবার্ন বলেছেন, এসব কণাকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। প্রথম শ্রেণিতে রয়েছে ইউরেনিয়াম ডাই-অক্সাইডের মতো পারমাণবিক জ্বালানির কণা। দ্বিতীয় শ্রেণির কণাগুলো জিরকোনিয়াম স্তরের মাধ্যমে আবৃত থাকে। তৃতীয় শ্রেণির কণা তৈরি হয়েছিল যখন চুল্লির গ্রাফাইট মডারেটরে আগুন ধরে যায় এবং তা ১০ দিন ধরে জ্বলতে থাকে। এ অগ্নিকাণ্ডের সময় জ্বালানি বিভিন্ন ইউরেনিয়াম অক্সাইডে রূপান্তরিত হয়, যা সহজেই বাতাসে ভেসে বেড়ানোর মতো মাইক্রোস্কোপিক ধূলিকণায় পরিণত হয়। এ ধরনের ধূলিকণা শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে গ্রহণ করা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক।
গবেষণায় প্রথমবারের মতো উন্নত এক্স-রে ডিফ্র্যাকশন পরীক্ষার মাধ্যমে তেজস্ক্রিয় কণাগুলোর অভ্যন্তরীণ কাঠামো পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। দেখা গেছে, চার দশক ধরে উন্মুক্ত পরিবেশে থাকার পরও কিছু কণা তাদের আসল জ্বালানিকাঠামোর বেশির ভাগ অংশ অক্ষুণ্ন রাখতে পেরেছে। টোবিয়াস ওয়েসেনবার্ন জানিয়েছেন যে প্রতিটি কণার গঠন আলাদা এবং গবেষণায় কেবল দুটি ভিন্ন স্থান থেকে সংগৃহীত ছয়টি কণা নিয়ে পরীক্ষা করা হয়েছে।
"এসব কণাকে মূলত তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। প্রথম শ্রেণিতে রয়েছে ইউরেনিয়াম ডাই-অক্সাইডের মতো পারমাণবিক জ্বালানির কণা। দ্বিতীয় শ্রেণির কণাগুলো জিরকোনিয়াম স্তরের মাধ্যমে আবৃত থাকে। তৃতীয় শ্রেণির কণা তৈরি হয়েছিল যখন চুল্লির গ্রাফাইট মডারেটরে আগুন ধরে যায় এবং তা ১০ দিন ধরে জ্বলতে থাকে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চেরনোবিল, ইউক্রেন; উত্তর ইউক্রেনের এক্সক্লুশন জোন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: টোবিয়াস ওয়েসেনবার্ন (গবেষক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪০ বছর, ২৬ এপ্রিল, ৮-৫০ মাইক্রোমিটার, ১০ দিন, ১ হাজার ৬০০ বর্গমাইল, ১ লাখ ১৬ হাজার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!