📌 চলনবিলে অবাধে চলছে শামুক ও ঝিনুক সংগ্রহ, যা জলজ জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকির সৃষ্টি করছে। মৎস্য আইনের অভাবে নিয়ন্ত্রণ না পেলে এই অপরাধ বন্ধ হচ্ছে না। স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীরা বর্ষা মৌসুমে দিনে ২-৩ টন শামুক সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রি করছেন
চলনবিলের জলজ জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে শামুক ও ঝিনুক সংগ্রহের অপরাধের কারণে। বর্ষার পানি দেরিতে নামার কারণে এই বছর সংগ্রহ মৌসুম আরও এক মাস বাড়িয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় কৃষক ও মৎস্যজীবীরা দিনে ২ থেকে ৩ টন শামুক সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রি করছেন, যা বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনের বিরুদ্ধে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চলনবিলে বর্ষার পানি দেরিতে নামায় শামুক-ঝিনুক সংগ্রহ মৌসুম বাড়ে এক মাসে — এখন পর্যন্ত চলছে অক্টোবর পর্যন্ত
- 📌 দিনে ২০-২৫টি এলাকার ৪-৫ শত নৌকায় ২-৩ টন শামুক সংগ্রহ করা হয়, যা স্থানীয় মাছ ও হাঁসের খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়
- 📌 প্রতিদিন একজন সংগ্রহকারী ৩৫০-৪০০ টাকা দরে ৩-৪ বস্তা শামুক বিক্রি করে, যা খুলনা ও দক্ষিণাঞ্চলের মাছের খামারে পৌঁছায়
- 📌 শামুক সংগ্রহকারী মো. ইলিয়াস হোসেন বলেন, ‘বর্ষা মৌসুমে চাষাবাদ বন্ধ থাকায় শামুক সংগ্রহই আমাদের প্রধান আয়ের উৎস’
- 📌 বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে শামুক নিধনের জন্য জেল ও অর্থদণ্ডের বিধান থাকলেও আইন প্রয়োগ না হওয়ায় অপরাধ বন্ধ হচ্ছে না
- 📌 তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুসরাত জাহান বলেছেন, ‘সংগ্রহকারীদের সচেতনতা বৃদ্ধি ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে’
📰 বিস্তারিত
চলনবিলের জলজ জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে শামুক ও ঝিনুক সংগ্রহের অপরাধের কারণে। বর্ষার পানি দেরিতে নামায় এই বছর সংগ্রহ মৌসুম আরও এক মাস বাড়িয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় কৃষক ও মৎস্যজীবীরা দিনে ২০-২৫টি এলাকার ৪-৫ শত নৌকায় ২ থেকে ৩ টন শামুক ও ঝিনুক সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রি করছেন। শামুক হাঁস ও মাছের খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং স্থানীয় খামারিদের চাহিদা মিটিয়ে কুষ্টিয়া, নোয়াখালী, বরিশাল, বাগেরহাট, যশোরসহ দক্ষিণাঞ্চলের মাছের খামারে পৌঁছে যাচ্ছে।
প্রতিদিন একজন সংগ্রহকারী সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ৩ থেকে ৪ বস্তা শামুক সংগ্রহ করেন। প্রতি বস্তা শামুক ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হয়। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এসব শামুক কিনে খুলনা ও দক্ষিণাঞ্চলের মাছের খামারে খাদ্য হিসেবে বিক্রি করেন। ব্যবসায়ীদের দাবি, চলনবিলে প্রতিবছর প্রায় কোটি টাকার শামুক বিক্রি হয়। শামুক সংগ্রহকারী মো. ইলিয়াস হোসেন বলেন, ‘বর্ষার সময়ে আমাদের কাজ থাকে না। চাষাবাদও বন্ধ থাকে। এ কারণে পেটের দায়ে স্থানীয় শামুক ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা নিয়ে শামুক সংগ্রহ করে তারা।’ তিনি আরও জানান, শামুক সংগ্রহ করে প্রতিদিন জনপ্রতি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা আয় হয়।
তাড়াশ ডিগ্রি কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক বিদ্যুৎ কুমার বলেন, ২০১২ সালের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনে শামুককে জলজ প্রাণী হিসেবে গণ্য করা হলেও আইন অমান্য করে শামুক নিধন চলছে। তিনি বলেন, ‘উন্মুক্ত জলাশয় থেকে শামুক ও ঝিনুক বংশবিস্তার করে এবং পানি বিশুদ্ধকরণে ভূমিকা রাখে। এছাড়াও মিঠাপানির মাছের খাদ্যের চাহিদা পূরণে শামুক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।’
"বর্ষার তিন থেকে চার মাস শামুক কেনাবেচা চলে। তবে আইন প্রয়োগ না হওয়ায় এই অপরাধ বন্ধ হচ্ছে না।" — আব্দুল মমিন, শামুক ব্যবসায়ী
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চলনবিল (তাড়াশ উপজেলা, মাগুড়া, হামকুড়িয়া, ঘরগ্রাম, কুন্দইল, কামাড়শোন, নাদোসৈয়দপুর)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. ইলিয়াস হোসেন (সংগ্রহকারী), আব্দুল মমিন (ব্যবসায়ী), বিদ্যুৎ কুমার (অধ্যাপক), নুসরাত জাহান (ইউএনও)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০-২৫টি এলাকা, ৪-৫ শত নৌকা, ২-৩ টন দৈনিক সংগ্রহ, ৩৫০-৪০০ টাকা/বস্তা, ৪০০-৫০০ টাকা দৈনিক আয়, ২০১২ (বন্যপ্রাণী আইন)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!