📌 শীতের আগমনে চলনবিলে নানা প্রজাতির পাখির ঝাঁক আগমন ঘটেছে, যা এলাকাটিকে প্রকৃতির সৌন্দর্যে পরিণত করেছে। কিন্তু অসাধু শিকারিরা পাখি শিকার করে বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি করছে, যা পরিবেশের ভারসাম্য ভাঙছে
শীতের আগমনের সাথে সাথে সিরাজগঞ্জের চলনবিল এলাকায় নানা প্রজাতির পাখির ঝাঁক আগমন ঘটেছে, যা এলাকাটিকে প্রকৃতির সৌন্দর্যে পরিণত করেছে। তবে অসাধু শিকারিরা পাখি শিকার করে বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি করছে, যা পরিবেশের ভারসাম্য ভাঙছে এবং জীববৈচিত্র্য বিপন্ন করছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সিরাজগঞ্জের ৯টি উপজেলা, পাবনা, নাটোর ও নওগাঁর এলাকাসমূহ নিয়ে গঠিত চলনবিলে শীতের আগমনে বক, ইটালি, শর্লি, পিয়াজ খেকো, ত্রিশুল, বাটুইলা, নারুলিয়া, লালস্বর, কাঁদোখোচা, ফেফি, ডাহুক, বালিহাঁস, পানকৌড়ি, শামকৈলসহ ১৪টি নদী ও ২২টি বিলের মধ্যদিয়ে পাখির ঝাঁক আগমন ঘটেছে।
- 📌 পাখিরা উলিপুর দিঘি ও আশপাশের প্রাচীন বটগাছসহ বিভিন্ন গাছের ডালে বাসা বাঁধে, যা দূর থেকে দেখলে গাছের ডাল পালায় পাখির উপস্থিতি চোখে পড়ে।
- 📌 পাখিরা শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য বর্ধন করে না, বরং পোকামাকড় খেয়ে কৃষকের উপকারও করে। তবে আইন থাকলেও পাখি নিধন বন্ধে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেই।
- 📌 প্রত্যন্ত বিলাঞ্চলে প্রতিটি বক ১০০ থেকে ১৫০ টাকা, রাতচোরা ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা জোড়া, বালিহাঁস ৩২০ থেকে ৬৭০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে।
- 📌 সিরাজগঞ্জ বন বিভাগের কর্মকর্তা রিজিয়া পারভীন মিষ্টি জানান, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন কার্যকর করার মতো সরকারি জনবল নেই।
📰 বিস্তারিত
চলনবিলের পাখির ঝাঁক শীতের আগমনের সাথে সাথে এলাকাটিকে মুখরিত করেছে। সিরাজগঞ্জের নয়টি উপজেলা, পাবনা, নাটোর ও নওগাঁর এলাকাসমূহ নিয়ে গঠিত এই বিলে শীতের আগমনে পাখিরা আশ্রয় নিচ্ছে। উলিপুর দিঘি নামে পরিচিত এই জলাশয়টি প্রায় একশত বিঘা আয়তনের এবং এর পাড়ে রয়েছে প্রাচীন বটগাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির উচু গাছ। শীতের আগমনের সাথে সাথে এই গাছগুলোতে পাখিরা নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিণত হয়েছে।
চলনবিলে প্রায় ১৪টি নদী ও ২২টি ছোট-বড় বিলের মধ্যদিয়ে পাখিরা আগমন করেছে। এখানে বক, ইটালি, শর্লি, পিয়াজ খেকো, ত্রিশুল, বাটুইলা, নারুলিয়া, লালস্বর, কাঁদোখোচা, ফেফি, ডাহুক, বালিহাঁস, পানকৌড়ি, শামকৈলসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখির ঝাঁক আগমন ঘটেছে। পাখিরা জলাশয়, খোলা মাঠ, খাদ্যের সহজলভ্যতা এবং গাছপালার সমন্বয়ে বিল এলাকাটিতে উপযোগী পরিবেশ পেয়েছে। গাছের উচু ডালগুলোতে তারা অসংখ্য বাসা বাঁধে, যা দূর থেকে দেখলে গাছের ডাল পালায় পাখির উপস্থিতি চোখে পড়ে।
সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলনবিলের পরিবেশে পাখিরা বাসা ফেরা, বাচ্চাদের খাবার খাওয়ানো এবং দলবদ্ধভাবে উড়ে যাবার দৃশ্য দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করে। পাখিরা শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য বর্ধন করে না, বরং পোকামাকড় খেয়ে কৃষকের উপকারও করে। তবে আইন থাকলেও পাখি নিধন বন্ধে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেই। প্রত্যন্ত বিলাঞ্চলে প্রতিটি বক ১০০ থেকে ১৫০ টাকা, রাতচোরা ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা জোড়া, বালিহাঁস ৩২০ থেকে ৬৭০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে।
"পাখিরা শুধু প্রকৃতির শোভা বর্ধন করে না, প্রকৃতির ভারসাম্যও রক্ষা করে। পোকামাকড় খেয়ে এরা কৃষকের উপকার করে। কিন্তু আইন থাকলেও পাখি নিধন বন্ধে তেমন কোনো পদক্ষেপ নেই।"
সিরাজগঞ্জ বন বিভাগের কর্মকর্তা রিজিয়া পারভীন মিষ্টি জানান, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে কার্যকর করার মতো সরকারি জনবল নেই। তিনি বলেন, চলমান মৌসুমে পাখি গুলো জনগণ সচেতন না হলে কোনোভাবেই নিধন বন্ধ করা সম্ভব নয়। সিরাজগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এ কে এম আনোয়ারুল হক বলেন, পাখিসহ বন্যপ্রাণী রক্ষায় যে যার অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখতে হবে। তা নাহলে আগামীতে প্রজন্মের কাছে বন্যপ্রাণীর নাম শুধু কাগজে-কলমেই থাকবে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সিরাজগঞ্জের ৯টি উপজেলা, পাবনা, নাটোর ও নওগাঁর এলাকাসমূহ, উলিপুর দিঘি
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ড. নজরুল ইসলাম (রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক), রিজিয়া পারভীন মিষ্টি (সিরাজগঞ্জ বন বিভাগের কর্মকর্তা), ডা. এ কে এম আনোয়ারুল হক (সিরাজগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৪টি নদী, ২২টি বিল, ১০০-১৫০ টাকা (বক), ৩০০-৫০০ টাকা (রাতচোরা জোড়া), ৩২০-৬৭০ টাকা (বালিহাঁস)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!