📌 বিশ্বব্যাপী গবেষণা দেখিয়েছে, বিড়াল পোষা ব্যক্তিদের সিজোফ্রেনিয়া রোগের ঝুঁকি দ্বিগুণ হয়ে যেতে পারে। টক্সোপ্লাজমা গন্ডি নামক জীবাণু বিড়ালের মাধ্যমে মানুষের মস্তিষ্কে ঢুকে স্নায়বিক পরিবর্তন ঘটাতে পারে বলে জানা গেছে
বিড়াল পোষা মানসিক রোগ সিজোফ্রেনিয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। বিশ্বব্যাপী গবেষকদের একটি দল এই বিষয়ে নতুন তথ্য প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, যারা শৈশবে বিড়ালের সংস্পর্শে বেশি থাকে, তাদের সিজোফ্রেনিয়া হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বিড়াল পোষা ব্যক্তিদের সিজোফ্রেনিয়া রোগের ঝুঁকি দ্বিগুণ হয়ে যায় — গবেষণা
- 📌 লন্ডনের 'ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ মেন্টাল ইলনেস'-এর গবেষণা: ৫০% সিজোফ্রেনিয়া রোগীর পরিবারে বিড়াল পোষার ইতিহাস
- 📌 টক্সোপ্লাজমা গন্ডি জীবাণু বিড়ালের মাধ্যমে মানুষের মস্তিষ্কে ঢুকে সিস্ট তৈরি করে, যা সিজোফ্রেনিয়া ঝুঁকি বাড়ায়
- 📌 অস্ট্রেলিয়ার গবেষকরা ৪৪ বছরের ১৭টি গবেষণার বিশ্লেষণ করে এই সম্পর্কের প্রমাণ খুঁজে পেয়েছেন
- 📌 গবেষক জন ম্যাকগ্রা বলেছেন, বিড়ালের মালিকানা ও সিজোফ্রেনিয়া ঝুঁকির মধ্যে উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক সম্পর্ক রয়েছে
📰 বিস্তারিত
বিড়ালের প্রতি মানুষের আগ্রহ বিশ্বব্যাপী রয়েছে। তবে এবার বিড়ালপ্রেমীদের জন্য একটি চিন্তাজনক তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড সেন্টার ফর মেন্টাল হেলথ রিসার্চের গবেষকরা জানিয়েছেন, যারা বিড়াল পালন করেন তাদের সিজোফ্রেনিয়া রোগের ঝুঁকি দ্বিগুণ হয়ে যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, সিজোফ্রেনিয়া আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে অন্তত ৫০ শতাংশের পরিবারে বিড়াল পোষার ইতিহাস রয়েছে। এই জটিল মানসিক রোগ সাধারণত ১৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সের মধ্যে দেখা যায়।
বিড়ালের শরীরে 'টক্সোপ্লাজমা গন্ডি' নামক একটি জীবাণু থাকে। এই জীবাণু মানুষের মস্তিষ্কে ঢুকে সিস্ট তৈরি করে, যা বয়সন্ধির সময় সক্রিয় হয়ে ওঠে। এর ফলে সিজোফ্রেনিয়া হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে। তবে গবেষকরা বলেছেন, বিড়াল পোষা মানা নয়। পোষা বিড়ালকে বাড়ির মধ্যে আবদ্ধ রাখা, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং বিড়ালের মলমূত্রের সংস্পর্শ কমিয়ে আনা এই ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে।
গবেষক জন ম্যাকগ্রা ও তার সহযোগীরা বলেছেন, 'আমরা বিড়ালের মালিকানা ও সিজোফ্রেনিয়া ঝুঁকির মধ্যে একটি সম্পর্ক খুঁজে পেয়েছি।' গবেষণায় ১৭টি গবেষণার বিশ্লেষণ করা হয়েছে, যা যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ৪৪ বছরের মধ্যে পরিচালিত হয়েছিল। তবে গবেষণায় একমত হয়নি যে বিড়ালের সংস্পর্শই একমাত্র কারণ। তবে অধিকাংশ গবেষণায় দেখা গেছে, বিড়ালের কারণে সিজোফ্রেনিয়া সংক্রান্ত রোগের বৈশিষ্ট্যগুলো বাড়তে পারে।
"আমরা দেখতে পেয়েছি যে, বিড়ালের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের সিজোফ্রেনিয়া হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় দ্বিগুণ।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: লন্ডন (ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ মেন্টাল ইলনেস), অস্ট্রেলিয়া (কুইন্সল্যান্ড সেন্টার ফর মেন্টাল হেলথ রিসার্চ), যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জন ম্যাকগ্রা (গবেষক ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞ)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫০% (সিজোফ্রেনিয়া রোগীর পরিবারে বিড়াল পোষার ইতিহাস), ১৫-৩৫ বছর (সিজোফ্রেনিয়া রোগের সাধারণ বয়স), ৪৪ বছর (গবেষণার সময়কাল), ১৭টি (গবেষণার সংখ্যা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!