📌 কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে গ্রিন হাইড্রোজেন জ্বালানি উৎপাদনের সৌরচালিত পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন। পলিথিন প্লাস্টিককে রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় ভেঙে সৌরপ্যানেলের মাধ্যমে হাইড্রোজেন উৎপাদন করা সম্ভব হয়েছে। এই প্রযুক্তি কার্বন-মুক্ত জ্বালানি উৎপাদনে বৈশ্বিক পরিবেশগত সমস্যার সমাধানে ভূমিকা রাখতে পারে
বিশ্বের অন্যতম পরিবেশগত হুমকি প্লাস্টিক দূষণ থেকে মুক্তি পাওয়ার নতুন রাস্তা খুলেছে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা। তারা সৌরপ্যানেলের মাধ্যমে পলিথিন টেরেপথালেট (পিইটি) প্লাস্টিককে মূল্যবান গ্রিন হাইড্রোজেন জ্বালানিতে রূপান্তর করার একটি বিপ্লবী পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন। এই প্রযুক্তি প্লাস্টিক বর্জ্য পুনর্ব্যবহার করে কার্বন-মুক্ত জ্বালানি উৎপাদন করতে পারে, যা পরিবেশের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে এমন বর্জ্যকে মূল্যবান সম্পদে রূপান্তর করবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **প্লাস্টিক থেকে হাইড্রোজেন**: কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা পলিথিন প্লাস্টিককে রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় ভেঙে হাইড্রোজেন জ্বালানি উৎপাদনের পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন।
- 📌 **সৌরচালিত প্রযুক্তি**: প্লাস্টিকের টুকরোকে পটাশিয়াম হাইড্রক্সাইডের সঙ্গে মিশিয়ে ১৭৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রায় ৩ দিন ধরে রাখা হয়, যার ফলে ইথিলিন গ্লাইকল উৎপন্ন হয়।
- 📌 **ফটোরিফর্মিং প্রক্রিয়া**: সৌরপ্যানেলের ওপর থাকা ফটোক্যাটালিস্ট প্রলেপ সূর্যের আলো শোষণ করে হাইড্রোজেন গ্যাস উৎপাদন করে।
- 📌 **বড় পরিসরে সফলতা**: গবেষকরা ৪টি বড় সৌরপ্যানেল দিয়ে ১০.৮ বর্গফুট আউটডোর রিঅ্যাক্টর তৈরি করে বড় পরিসরে হাইড্রোজেন উৎপাদন প্রমাণ করেছেন।
- 📌 **গ্রিন হাইড্রোজেনের চাহিদা**: বর্তমানে বিশ্বব্যাপী উৎপাদিত হাইড্রোজেনের মাত্র ১ শতাংশই গ্রিন হাইড্রোজেন। এই প্রযুক্তি কার্বন নির্গমন ছাড়াই জ্বালানি উৎপাদনে সহায়তা করবে।
- 📌 **ভবিষ্যতের সম্ভাবনা**: গবেষকরা এমন সৌরপ্যানেল তৈরি করছেন যা ভবিষ্যতে প্লাস্টিককে হাইড্রোজেন জ্বালানিতে রূপান্তর করার পাশাপাশি বিদ্যুৎও উৎপাদন করতে পারবে।
📰 বিস্তারিত
প্লাস্টিক দূষণ বিশ্বের একটি চরম পরিবেশগত সমস্যা। বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর কোটি কোটি টন প্লাস্টিক বর্জ্য পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে, যা মানবদেহ ও প্রাণীজগতের জন্য বিপজ্জনক। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের আবিষ্কৃত এই প্রযুক্তি প্লাস্টিক বর্জ্যকে মূল্যবান জ্বালানি হিসেবে রূপান্তর করে পরিবেশের জন্য একটি স্থায়ী সমাধান প্রদান করতে পারে। গবেষকদের মতে, এই পদ্ধতিতে প্লাস্টিককে ছোট টুকরো করে কেটে পটাশিয়াম হাইড্রক্সাইডের সঙ্গে মিশিয়ে ১৭৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রায় ৩ দিন ধরে রাখা হয়। এর ফলে প্লাস্টিক ভেঙে ইথিলিন গ্লাইকল নামক উপাদান আলাদা হয়, যা পরে সৌরপ্যানেলের রিঅ্যাক্টরে সরবরাহ করা হয়।
সৌরপ্যানেলের ওপর থাকা ফটোক্যাটালিস্ট প্রলেপ সূর্যের আলো শোষণ করে ফটোরিফর্মিং নামক একটি বিশেষ রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটায়। এই প্রক্রিয়ায় হাইড্রোজেন গ্যাস উৎপাদিত হয়। গবেষকরা প্রথমে ছোট প্যানেলে পরীক্ষা চালিয়ে সফল হন এবং পরবর্তীকালে ৪টি বড় প্যানেল দিয়ে ১০.৮ বর্গফুটের একটি আউটডোর রিঅ্যাক্টর তৈরি করেন। বড় রিঅ্যাক্টরে সফল পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে যে এই পদ্ধতির সাহায্যে বড় পরিসরেও হাইড্রোজেন জ্বালানি উৎপাদন করা সম্ভব।
কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউসুফ হামিদ ডিপার্টমেন্ট অব কেমিস্ট্রির গবেষক আরিফিন বিন মোহাম্মদ আনুয়ার বলেছেন, ‘আমরা যখন এই প্রযুক্তিকে বড় পরিসরে প্রয়োগের চেষ্টা করলাম, তখন বুঝতে পারলাম যে ছোট পরিসরে যা সহজ মনে হয়, বড় পরিসরে তা আর সহজ নয়। বিশাল আকারের পাত্রে রাসায়নিক দ্রবণ ব্যবহার করা বাস্তবসম্মত নয়।’ তিনি আরও বলেছেন, বর্তমানে শিল্পকারখানায় তেল পরিশোধন ও ইস্পাত তৈরির কাজে হাইড্রোজেনের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। তবে বিশ্বব্যাপী উৎপাদিত হাইড্রোজেনের মাত্র ১ শতাংশই গ্রিন হাইড্রোজেন। যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশগুলো প্রাকৃতিক গ্যাস ভেঙে হাইড্রোজেন তৈরি করে, যা কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমন করে। এই প্রযুক্তি কার্বন নির্গমন ছাড়াই গ্রিন হাইড্রোজেন উৎপাদন করতে পারে, যা বৈশ্বিক কার্বন পদচিহ্ন কমাতে বড় ভূমিকা রাখবে।
"আমরা যখন এ প্রযুক্তিকে বড় পরিসরে বা ব্যাপক মাত্রায় প্রয়োগের চেষ্টা শুরু করলাম, তখন দ্রুতই বুঝতে পারলাম যে ছোট পরিসরে যা সহজ মনে হয়, বড় পরিসরে তা উৎপাদন করতে গেলে মোটেও আর সহজ থাকে না। এসব প্যানেল তৈরির জন্য আমরা বিশাল আকারের পাত্রে রাসায়নিক দ্রবণ ব্যবহার করতে পারি না; কারণ ব্যাপক উৎপাদনের ক্ষেত্রে তা মোটেও বাস্তবসম্মত নয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়, যুক্তরাষ্ট্র
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আরিফিন বিন মোহাম্মদ আনুয়ার (গবেষক), ইউসুফ হামিদ ডিপার্টমেন্ট অব কেমিস্ট্রি
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৭৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রা, ৩ দিন, ৪টি প্যানেল, ১০.৮ বর্গফুট, ১ শতাংশ গ্রিন হাইড্রোজেন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!