📌 বুড়িগঙ্গার দূষিত পানিতে ২০টি বিপন্ন শুশুক টিকে আছে। গবেষকরা জানান, শুশুকরা সাকার মাছ শিকার করে বেঁচে আছে। পরিবেশ দূষণ ও শিল্পবর্জ্যের কারণে এই বিরল প্রজাতির অস্তিত্ব হুমকির মুখে রয়েছে
বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীতে চরম পরিবেশ দূষণ ও শিল্পবর্জ্যের মধ্যেও অন্তত ২০টি বিপন্ন গাঙ্গেয় ডলফিন বা শুশুক টিকে আছে। গবেষকদের অবাককর আবিষ্কারটি বিশ্বাসঘাতক পরিবেশের মধ্যেও এই প্রাণীদের টিকে থাকার গল্প তুলে ধরেছে। আন্তর্জাতিক পরিবেশ গণমাধ্যম ‘মোঙ্গাবে’তে প্রকাশিত গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে, যেখানে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের ১২ মাসের জরিপের ফলাফল তুলে ধরা হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বুড়িগঙ্গায় ২০টি বিপন্ন শুশুক টিকে আছে, যা পরিবেশগত বিপর্যয়ের মুখে রয়েছে
- 📌 গবেষণায় দেখা যায়, শুশুকদের গড় দলের আকার ৪.১৮ এবং ১৬% বাচ্চা শুশুক রয়েছে
- 📌 শুশুকরা মূলত মোহাম্মদপুরের বসিলা এলাকায় অবস্থান করে এবং কখনো কখনো ধলেশ্বরী হয়ে মেঘনা নদীতে যাতায়াত করে
- 📌 বুড়িগঙ্গা বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত পাঁচটি নদীর একটি, যেখানে ভারী ধাতু ও অক্সিজেনের অভাব মাছ ও শুশুকদের জন্য মারাত্মক
- 📌 গবেষকরা মনে করেন, শুশুকরা সাকার মাছ শিকার করে বেঁচে আছে, কারণ অন্যান্য মাছ বিলুপ্ত হয়ে গেছে
- 📌 বাংলাদেশে মোট ২.৩০৭টি শুশুক রেকর্ড করা হয়েছে, কিন্তু অপরিকল্পিত শিল্পবর্জ্য ও জাল দিয়ে মাছ ধরা তাদের অস্তিত্ব হুমকির মুখে ফেলছে
📰 বিস্তারিত
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুল আজিজ এবং গবেষক মো. আমিনুর রহমানের যৌথ পরিচালনায় ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত বুড়িগঙ্গার ২৭ কিলোমিটার জুড়ে ১২ মাসের গবেষণা চালানো হয়। গবেষণায় দেখা যায়, ১০ মাসে শুশুকের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে, বিশেষ করে শীতকালে ডিসেম্বর মাসে এদের সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। তবে ২০২৩ সালের অক্টোবর এবং ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্টে শুশুক দেখা যায়নি। গবেষক মো. আমিনুর রহমান বলেন, ‘বুড়িগঙ্গার পরিবেশ শুশুকের বসবাসের উপযোগী নয়, কারণ সেখানে দেশি মাছ প্রায় নেই। কিন্তু এদের কীভাবে টিকে আছে, তা আমাদের অবাক করেছে!’
গবেষণায় আরও দেখা যায়, বুড়িগঙ্গায় শুশুকের গড় দলের আকার ৪.১৮, যা আগের প্রতিবেদনের চেয়ে বেশি। এছাড়া, মোট শুশুকের প্রায় ১৬% বাচ্চা। পরিবেশ সংস্থা ‘সি স্মার্ট’-এর তথ্য অনুযায়ী, বুড়িগঙ্গা বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত পাঁচটি নদীর একটি। ট্যানারি, টেক্সটাইল ডাইং, ব্যাটারি কারখানা ও ধাতব শিল্পের অপরিশোধিত বর্জ্য সরাসরি নদীতে পড়ছে। পানির নমুনায় সিসা, ক্রোমিয়াম, ক্যাডমিয়াম ও আর্সেনিকের মতো মারাত্মক ভারী ধাতুর উপস্থিতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত নিরাপদ মাত্রার চেয়ে অনেক বেশি। শুষ্ক মৌসুমে বুড়িগঙ্গার পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণ প্রায় শূন্যের কাছাকাছি নেমে আসে, যা মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণীদের জন্য মারাত্মক প্রাণঘাতী।
গবেষক অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুল আজিজ বলেন, ‘বুড়িগঙ্গার বর্তমান পরিবেশ অধিকাংশ মাছের উপযোগী নয়। তবে সাকার মাছ পুরো নদী ভরে গেছে। আমরা ধারণা করছি, শুশুকগুলো এখন খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করে এই সাকার মাছ শিকার করেই বেঁচে আছে।’ বাংলাদেশে মোট ২.৩০৭টি শুশুক রেকর্ড করা হয়েছে, কিন্তু অপরিকল্পিত শিল্পবর্জ্য, নৌযান চলাচল এবং নিষিদ্ধ কারেন্ট জালের ব্যবহার এই বিরল প্রজাতির অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ফেলেছে। অধ্যাপক আজিজ জোর দিয়ে বলেন, ‘বুড়িগঙ্গায় যদি শুশুক রক্ষা করতে হয়, তবে প্রথম ও প্রধান কাজ হলো শিল্পবর্জ্য ফেলে পানি দূষণ বন্ধ করা। পাশাপাশি অনিয়ন্ত্রিত নৌযান চলাচল ও ক্ষতিকর জাল দিয়ে মাছ ধরা বন্ধ করতে হবে, না হলে এই বিরল জলজ প্রাণীগুলোকে বাঁচানো সম্ভব হবে না।’
"বুড়িগঙ্গার পরিবেশ শুশুকের বসবাসের উপযোগী নয়, কারণ সেখানে দেশি মাছ প্রায় নেই বললেই চলে। প্রথম যখন আমরা এদের দেখতে পাই, তখন বেশ অবাক হয়েছিলাম যে এই পানিতে মাছের বেঁচে থাকা যেখানে অসম্ভব, সেখানে এরা কীভাবে টিকে আছে!"
"বুড়িগঙ্গায় যদি শুশুক রক্ষা করতে হয়, তবে প্রথম ও প্রধান কাজ হলো শিল্পবর্জ্য ফেলে পানি দূষণ বন্ধ করা। পাশাপাশি অনিয়ন্ত্রিত নৌযান চলাচল ও ক্ষতিকর জাল দিয়ে মাছ ধরা বন্ধ করতে হবে, না হলে এই বিরল জলজ প্রাণীগুলোকে বাঁচানো সম্ভব হবে না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বুড়িগঙ্গা নদী (ঢাকা), মোহাম্মদপুরের বসিলা এলাকা, ধলেশ্বরী নদী, মেঘনা নদী
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুল আজিজ, গবেষক মো. আমিনুর রহমান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০টি শুশুক, ২৭ কিলোমিটার গবেষণা এলাকা, ১২ মাসের গবেষণা, ৪.১৮ গড় দলের আকার, ১৬% বাচ্চা শুশুক, ২.৩০৭টি মোট শুশুক বাংলাদেশে
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!