📌 স্তন ক্যানসার প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা শুরু করলে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। বগুড়ার টিএমএসএস ক্যানসার সেন্টারের ডা. মোহাম্মদ তৌসিফুর রহমান বলেছেন, বিশ্বে প্রতি বছর ২৪ লাখেরও বেশি মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হন, যার ৯৯% নারী। ঝুঁকি বাড়ানোর কারণ ও আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন তিনি
স্তন ক্যানসারের প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা শুরু করলে রোগমুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেছেন বগুড়ার টিএমএসএস ক্যানসার সেন্টারের মেডিকেল অ্যান্ড রেডিয়েশন অনকোলজিস্ট ডা. মোহাম্মদ তৌসিফুর রহমান। প্রথম আলো ডটকমের আয়োজিত ‘বিশ্বমানের ক্যানসার-চিকিৎসা এখন বাংলাদেশে’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, চিকিৎসা শুরু করার সময়ের পার্থক্য রোগমুক্তির সম্ভাবনায় বড় প্রভাব ফেলে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **বিশ্বে প্রতি বছর ২৪ লাখেরও বেশি মানুষ** স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হন, যার মধ্যে ৯৯% নারী এবং ১% পুরুষ।
- 📌 **প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা শুরু করলে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা** ৮০-৯০% পর্যন্ত বেড়ে যায়, তবে অনেক রোগী চিকিৎসা শুরু করতে দেরি করে।
- 📌 **৮০-৯০% রোগীর ক্ষেত্রে জিনগত ইতিহাস পাওয়া যায় না**, তবে ১০-২০% রোগীতে পারিবারিক ঝুঁকি থাকতে পারে।
- 📌 **বয়স, ঋতুস্রাবের সময়, সন্তান জন্মদানের বয়স, ওজন, ধূমপান** ইত্যাদি ঝুঁকির কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন ডা. তৌসিফুর।
- 📌 **ম্যামোগ্রাফি, আলট্রাসনোগ্রাফি ও ব্রেস্ট এমআরআই** ব্যবহার করে রোগ শনাক্ত করা হয়, তবে টিস্যু বায়োপসি নিশ্চিত রোগনির্ণয়ের জন্য অপরিহার্য।
- 📌 **বাংলাদেশে স্তন ক্যানসারের প্রকৃত পরিসংখ্যান অজানা**, তবে চিকিৎসা অভিজ্ঞতায় রোগীর সংখ্যা বেশি দেখা যায়।
📰 বিস্তারিত
স্তন ক্যানসারের চিকিৎসায় সময়ের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন ডা. মোহাম্মদ তৌসিফুর রহমান। তিনি বলেছেন, একজন রোগী চিকিৎসা শুরু করে দিলে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি, আরেকজন ভিসার জন্য তিন মাস অপেক্ষা করলে তা রোগমুক্তির সম্ভাবনায় বড় প্রভাব ফেলে। তিনি উল্লেখ করেছেন, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করে চিকিৎসা দেওয়া গেলে প্রায় সব রোগীরই সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
বিশ্বে প্রতি বছর প্রায় ২৪ লাখ মানুষ স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হন, যার মধ্যে ৯৯% নারী এবং শুধুমাত্র ১% পুরুষ। এই রোগের প্রভাব শুধু শারীরিক স্বাস্থ্যে সীমাবদ্ধ নয়; ব্যক্তিগত জীবন, পরিবার ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতেও এর বড় প্রভাব পড়ে। ডা. তৌসিফুর বলেছেন, বাংলাদেশে স্তন ক্যানসারের প্রকৃত সংখ্যা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য জাতীয় তথ্য সীমাবদ্ধ, তবে চিকিৎসা অভিজ্ঞতায় রোগীর সংখ্যা বেশি দেখা যায়।
স্তন ক্যানসারের জিনগত সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করেই তিনি বলেছেন, ৮০-৯০% রোগীর ক্ষেত্রে পারিবারিক বা জিনগত ইতিহাস পাওয়া যায় না। তবে ১০-২০% রোগীতে পারিবারিক ইতিহাস ও জিনগত প্রবণতা থাকতে পারে। তিনি আরও বলেছেন, পরিবারের একাধিক সদস্যের স্তন বা ডিম্বাশয়ের ক্যানসার, অল্প বয়সে স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়া, একই ব্যক্তির দুই স্তনে ক্যানসার হওয়া বা পরিবারের কোনো পুরুষের স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ইতিহাস থাকলে জিনগত পরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে।
ঝুঁকির কারণ সম্পর্কে তিনি বলেছেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। কম বয়সে ঋতুস্রাব শুরু হওয়া, দেরিতে মেনোপজ হওয়া, সন্তানকে বুকের দুধ না খাওয়ানো, বেশি বয়সে প্রথম সন্তান জন্মদানের ইতিহাস ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত। অতিরিক্ত ওজন, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব এবং ধূমপানের মতো বিষয়ও ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তবে এসব ঝুঁকির কারণ থাকলেই যে কারও স্তন ক্যানসার হবে, এমন নয়। ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
"প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করে সময়মতো চিকিৎসা শুরু করা গেলে স্তন ক্যানসার থেকে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বগুড়া, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডা. মোহাম্মদ তৌসিফুর রহমান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৪ লাখ (বিশ্বে প্রতি বছর আক্রান্ত), ৯৯% (নারী), ১% (পুরুষ), ৮০-৯০% (জিনগত ইতিহাস না থাকা), ১০-২০% (জিনগত ঝুঁকি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!