📌 ৫০ থেকে ৭৫ বছর বয়সের মধ্যে মস্তিষ্কের নিজস্ব প্রতিরক্ষা কোষ মাইক্রোগ্লিয়া ধীরে ধীরে কমে যায় এবং রক্ত থেকে আসা প্রদাহ সৃষ্টিকারী কোষ তাদের জায়গা দখল করে। এই পরিবর্তন মস্তিষ্কে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ সৃষ্টি করে এবং আলঝেইমার্স রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। গবেষণায় ২০ থেকে ৯৫ বছর বয়সী ৪০ জনের মস্তিষ্কের বিশ্লেষণ করা হয়
৫০ বছর বয়সের পর থেকে আমাদের মস্তিষ্কের ভেতরে শুরু হয় একটি নীরব কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। এই সময় মস্তিষ্কের নিজস্ব প্রতিরক্ষামূলক কোষগুলো ধীরে ধীরে কমে যায় এবং তাদের জায়গায় রক্ত থেকে আসা প্রদাহ সৃষ্টিকারী কোষ প্রবেশ করে। এই পরিবর্তন মস্তিষ্কে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ সৃষ্টি করে এবং আলঝেইমার্স রোগের মতো স্মৃতিবিকলতা রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথের অর্থায়নে এবং ‘সায়েন্স’ ও ‘সায়েন্স অ্যাডভান্সেস’ সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৫০ থেকে ৭৫ বছর বয়সের মধ্যে মস্তিষ্কের মাইক্রোগ্লিয়া কোষের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে কমে যায়
- 📌 রক্ত থেকে আসা প্রদাহ সৃষ্টিকারী কোষ মস্তিষ্কে প্রবেশ করে মাইক্রোগ্লিয়ার জায়গা দখল করে
- 📌 এই পরিবর্তন নিউরোইনফ্লেমেশন বা মস্তিষ্কের প্রদাহ বাড়ায়, যা আলঝেইমার্স রোগের ঝুঁকি বাড়ায়
- 📌 গবেষণায় ২০ থেকে ৯৫ বছর বয়সী ৪০ জনের মস্তিষ্কের ‘হিপোক্যাম্পাস’ অঞ্চল বিশ্লেষণ করা হয়
- 📌 রক্ত-মস্তিষ্ক বাধা বয়স বাড়ার সাথে দুর্বল হয়ে পড়ে, যা নতুন কোষের প্রবেশকে সহজতর করে
📰 বিস্তারিত
গবেষণায় দেখা গেছে, মস্তিষ্কের নিজস্ব প্রতিরক্ষামূলক কোষ মাইক্রোগ্লিয়া সাধারণত ক্ষতিকর উপাদান পরিষ্কার করে মস্তিষ্ককে রক্ষা করে। কিন্তু ৫০ বছর বয়সের পর থেকে এই কোষগুলো ধীরে ধীরে কমে যায় এবং তাদের জায়গায় রক্তপ্রবাহ থেকে আসা নতুন কোষগুলো প্রবেশ করে। এসব নতুন কোষ তীব্র প্রদাহ সৃষ্টিকারী সংকেত বহন করে, যা মস্তিষ্কে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ সৃষ্টি করে।
গবেষণায় অংশগ্রহণকারী ৪০ জনের মধ্যে ২০ থেকে ৯৫ বছর বয়সী ব্যক্তিদের মৃত্যুর পর সংগৃহীত মস্তিষ্কের ‘হিপোক্যাম্পাস’ অঞ্চলের টিস্যু বিশ্লেষণ করা হয়। এই অঞ্চল মূলত মানুষের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং নতুন কিছু শেখার সাথে যুক্ত। গবেষণার প্রথম লেখক ড. নাথান জেমকে বলেছেন, মাইক্রোগ্লিয়া সাধারণত ক্ষতিকর উপাদান পরিষ্কার করে মস্তিষ্ক রক্ষা করে। কিন্তু রক্ত থেকে আসা নতুন কোষগুলো তীব্র প্রদাহ সৃষ্টিকারী সংকেত বহন করে, যা নিউরোইনফ্লেমেশন বা মস্তিষ্কের প্রদাহ বাড়ায়।
গবেষণায় জিনের বহিঃপ্রকাশ এবং এপিজেনোমিক কেমিক্যাল পরিবর্তন বিশ্লেষণ করা হয়। এই বিশ্লেষণে দেখা যায়, বয়স বাড়ার সাথে সাথে রক্ত-মস্তিষ্ক বাধা রক্ষা করার দায়িত্বে থাকা কোষগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে। নিউইয়র্ক জিনোম সেন্টারের প্রধান নির্বাহী ড. বিং রেন বলেছেন, বয়স বৃদ্ধির সাথে জিনের গাঠনিক বিন্যাসে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে, যা কোষের মূল পরিচয় এবং তাদের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বিশৃঙ্খল করে তোলে।
"রক্ত থেকে আসা ইমিউন কোষগুলোকে মস্তিষ্কের ভেতরে না ঢুকেও রক্তেই রূপান্তর বা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হতে পারে। এতে সরাসরি মস্তিষ্কের জটিল অপারেশনের প্রয়োজন ছাড়াই আলঝেইমার ও ডিমেনশিয়ার মতো রোগ প্রতিরোধের নতুন পথ খুলতে পারে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া সান ডিয়েগো, নিউইয়র্ক জিনোম সেন্টার, ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া আরভিন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ড. নাথান জেমকে, ড. বিং রেন, ড. সিয়াংমিন সু
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০ থেকে ৯৫ বছর বয়সী ৪০ জন ব্যক্তি, ৫০ থেকে ৭৫ বছর বয়সের মধ্যে মাইক্রোগ্লিয়া কোষের সংখ্যা কমে যায়
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!