📌 বেলজিয়ামের গবেষণা প্রকাশ করেছে যে, মানুষের আবেগ বুঝতে মস্তিষ্ক মুখের অভিব্যক্তি ও কণ্ঠস্বর একসাথে প্রক্রিয়াজাত করে। মুখ দেখলেই কণ্ঠস্বর শুনার মতোই মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট অংশ সক্রিয় হয়। ২৪ জন স্বেচ্ছাসেবীর উপর করা পরীক্ষায় দেখা গেছে, আনন্দ, ঘৃণা ও ভয় সহ প্রতিটি আবেগের জন্য একই মস্তিষ্কের অঞ্চল কাজ করে
আপনার বন্ধু মন খারাপ করে বসে থাকলে মুখের অভিব্যক্তি দেখেই বুঝতে পারেন তার অবস্থা। কিন্তু কীভাবে মস্তিষ্ক এই তথ্য ও কণ্ঠস্বর থেকে একসাথে আবেগ বুঝে? বিজ্ঞানীরা এখন নতুন তথ্য প্রকাশ করেছেন যে, মস্তিষ্ক মুখ ও কণ্ঠস্বর একসাথে প্রক্রিয়াজাত করে। বেলজিয়ামের ঘেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা দল এই আবিষ্কার করেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মস্তিষ্ক মুখের অভিব্যক্তি ও কণ্ঠস্বর একসাথে প্রক্রিয়াজাত করে, না আলাদা আলাদা — নতুন গবেষণা প্রকাশ করেছে
- 📌 ২৪ জন স্বেচ্ছাসেবীর উপর করা এমআরআই পরীক্ষায় দেখা গেছে, আনন্দ, ঘৃণা ও ভয় সহ প্রতিটি আবেগের জন্য একই মস্তিষ্কের অংশ সক্রিয় হয়
- 📌 মুখের অভিব্যক্তি দেখলেই কণ্ঠস্বর শুনার মতোই মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট অঞ্চল সক্রিয় হয় — আবেগের ধরনেই প্রভাব ফেলে, না শুধু ইন্দ্রিয়
- 📌 গবেষক স্তেফানিয়া মাত্তিওনি বলেছেন, মস্তিষ্কের এই অংশগুলো শুধু তথ্য আসার ইন্দ্রিয়ের ওপর নির্ভর করে না, বরং তথ্যটি কোনো আবেগ প্রকাশ করছে সেটিই তাদের কাজের ধরন নির্ধারণ করে
📰 বিস্তারিত
বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে মনে করতেন, মুখের অভিব্যক্তি ও কণ্ঠস্বর বোঝার জন্য মস্তিষ্কের আলাদা আলাদা অংশ কাজ করে। কিন্তু বেলজিয়ামের ঘেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা দল এই ধারণা বদলে দিয়েছেন। তাদের গবেষণায় দেখা গেছে, কারও মুখে দুঃখের ছাপ দেখলেও মস্তিষ্কের কণ্ঠস্বর প্রক্রিয়াজাত করার অংশ সক্রিয় হয়ে ওঠে। আবার কণ্ঠস্বর শুনলেও মুখের অভিব্যক্তি বোঝার অংশ সক্রিয় হয়। অর্থাৎ, মস্তিষ্ক শুধু চোখে দেখা তথ্য ও কানে শোনা তথ্য আলাদাভাবে প্রক্রিয়াজাত করে না — বরং একসাথে সামলায়।
গবেষণার প্রধান লেখক স্তেফানিয়া মাত্তিওনি বলেছেন, ‘বাস্তবে আমরা শুধু একজন মানুষের মুখ দেখি না, একই সঙ্গে তার কণ্ঠস্বরও শুনি। তাই মস্তিষ্ক নানা ইন্দ্রিয় থেকে আসা তথ্য একসাথে সামলানোর মতোই কাজ করে।’ গবেষণায় ২৪ জন স্বেচ্ছাসেবীকে নিয়ে এমআরআই যন্ত্রের মাধ্যমে মস্তিষ্কের কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের অভিনেতাদের অভিনয় করা ভিডিও দেখানো হয়, যেখানে অভিনেতারা আনন্দ, ঘৃণা ও ভয় সহ বিভিন্ন আবেগ প্রকাশ করছিলেন। কিছু ভিডিওতে ছিল মুখ ও কণ্ঠস্বর, কিছুতে শুধু মুখ, আর কিছুতে শুধু কণ্ঠস্বর।
ফলাফল ছিল চমকপ্রদ। যখন অংশগ্রহণকারীরা শুধু শব্দ শুনতেন, তখন মুখের অভিব্যক্তি প্রক্রিয়াজাত করার অংশ সক্রিয় হয়ে ওঠে। আবার শুধু মুখ দেখলে কণ্ঠস্বর প্রক্রিয়াজাত করার অংশ সক্রিয় হয়। মজার বিষয় হলো, আনন্দ, ঘৃণা ও ভয় সহ প্রতিটি আবেগের জন্য একই মস্তিষ্কের অংশ সক্রিয় হয় — কীভাবে তথ্য আসে (মুখ দেখে বা কণ্ঠস্বর শুনে) তা প্রভাব ফেলে না। গবেষক মাত্তিওনি বলেছেন, ‘মস্তিষ্কের এই অংশগুলো শুধু তথ্য আসার ইন্দ্রিয়ের ওপর নির্ভর করে না, বরং তথ্যটি কোনো আবেগ প্রকাশ করছে সেটিই তাদের কাজের ধরন নির্ধারণ করে।’
"মনে হচ্ছে মস্তিষ্কের এই অংশগুলো শুধু কোন ইন্দ্রিয় থেকে তথ্য আসছে, তার ওপর নির্ভর করে কাজ করে না। তথ্যটি কোন আবেগ প্রকাশ করছে, সেটিও তাদের কাজের ধরনকে প্রভাবিত করে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বেলজিয়ামের ঘেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: স্তেফানিয়া মাত্তিওনি (গবেষক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৪ জন স্বেচ্ছাসেবী
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!