📌 যুক্তরাজ্যের গবেষণা দেখায়, মধু মৌমাছি সরাসরি বুনো মৌমাছি ও অন্যান্য পরাগবাহী পতঙ্গকে ফুল থেকে তাড়িয়ে দিচ্ছে খাবার সংগ্রহের প্রতিযোগিতায়। তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও মৌচাকের সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে এই প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হতে পারে, যা বাস্তুতন্ত্রের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে
যুক্তরাজ্যের অ্যাংলিয়া রাসকিন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা দুই বছর ধরে ফুলে খাবার সংগ্রহের সময় মধু মৌমাছি ও বুনো পরাগবাহী পতঙ্গের মধ্যে প্রতিযোগিতার একটি অদৃশ্য যুদ্ধের সাক্ষী হন। গবেষণায় দেখা যায়, মধু মৌমাছি সরাসরি অন্য পতঙ্গকে ধাক্কা দিয়ে বা তাড়া করে ফুল থেকে সরিয়ে দিচ্ছে খাবার সংগ্রহের সুযোগ থেকে। এই ‘ইন্টারফেরেন্স কম্পিটিশন’ বা সরাসরি প্রতিযোগিতা বুনো মৌমাছিদের খাবার সংগ্রহে বাধা সৃষ্টি করছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ক্যামব্রিজশায়ার এলাকায় গবেষকরা ৩০০টি পতঙ্গের মুখোমুখি হওয়ার ঘটনা পর্যবেক্ষণ করেন, যেখানে মধু মৌমাছি ২০ শতাংশ ক্ষেত্রে অন্য পতঙ্গকে সরিয়ে দিচ্ছে
- 📌 কাঁটাঝোপের ফুলে ২৮.৪ শতাংশ এবং আইভি ফুলে ৩৫.৬ শতাংশ ক্ষেত্রে বুনো পতঙ্গ মধু মৌমাছিকে এড়িয়ে চলেছে
- 📌 যুক্তরাজ্যে ২০১০ সালে মৌচাষির সংখ্যা ছিল ১৯ হাজার, বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৭ হাজারে
- 📌 তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও ফুলের মধু শুকিয়ে যাওয়ার কারণে ভবিষ্যতে প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হতে পারে
- 📌 বুনো পরাগবাহী পতঙ্গের সংখ্যা কমলে উদ্ভিদের বংশবিস্তার ও বাস্তুতন্ত্রের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে
📰 বিস্তারিত
যুক্তরাজ্যের অ্যাংলিয়া রাসকিন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা কাঁটাঝোপ ও আইভিগাছের ফুলে খাবার সংগ্রহ করতে আসা পাঁচ ধরনের পতঙ্গের মধ্যে প্রতিযোগিতার গভীর বিশ্লেষণ করেন। এদের মধ্যে ছিল মধু মৌমাছি, ভোমরা, একা বাস করা মৌমাছি, হোভারফ্লাই এবং অন্যান্য মাছি, প্রজাপতি, গুবরেপোকা ও বোলতা। গবেষণায় দেখা যায়, মধু মৌমাছি সরাসরি অন্য পতঙ্গকে ধাক্কা দিয়ে বা তাড়া করে ফুল থেকে সরিয়ে দিচ্ছে। গবেষকদের মতে, এই আচরণ মৌমাছির সামাজিক জীবনের সাথে সম্পর্কিত — মৌচাকের পাহারাদার মৌমাছি হুমকি মোকাবেলায় এই ধরনের আচরণ দেখায়, যা খাবার সংগ্রহের সময়েও কাজে লাগে।
গবেষণার প্রধান লেখক ভিক্টোরিয়া বাকল জানান, “কাঁটাঝোপের ফুলে ২৮.৪ শতাংশ এবং আইভি ফুলে ৩৫.৬ শতাংশ ক্ষেত্রে বুনো পতঙ্গ মধু মৌমাছিকে এড়িয়ে চলেছে। আবার মধু মৌমাছি যেসব প্রতিযোগিতায় জয়ী হয়েছে, তার প্রায় ২০ শতাংশ ক্ষেত্রে তারা অন্য পতঙ্গকে সরিয়ে দিয়েছে।” গবেষকরা আরও লক্ষ্য করেন, ভোমরাও অন্য পতঙ্গকে ফুল থেকে সরিয়ে দিতে পারে, তবে এটা তাদের নিয়ন্ত্রিত চলাচলের কারণে নয় — সরু জায়গায় ওড়ার সময় অন্য পতঙ্গের সঙ্গে ধাক্কা লেগে যেতে পারে।
গবেষণায় আরও দেখা যায়, তাপমাত্রা বৃদ্ধি পতঙ্গগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতাকে আরও তীব্র করে তুলছে। যুক্তরাজ্যে ২০৮০ সালের মধ্যে গ্রীষ্মের গড় তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, মধু মৌমাছির সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে বুনো পরাগবাহী পতঙ্গের খাবার সংগ্রহে প্রতিযোগিতা বাড়ছে। ২০১০ সালে যুক্তরাজ্যে মৌচাষির সংখ্যা ছিল ১৯ হাজার, বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৭ হাজারে। গবেষকদের মতে, বুনো পরাগবাহী পতঙ্গকে রক্ষা করার জন্য আরও গবেষণা প্রয়োজন, কারণ তাদের সংখ্যা কমলে উদ্ভিদের বংশবিস্তারসহ পুরো বাস্তুতন্ত্রের ওপর প্রভাব পড়তে পারে।
"কাঁটাঝোপের ফুলে অন্য পতঙ্গেরা ২৮ দশমিক ৪ শতাংশ ক্ষেত্রে এবং আইভি ফুলে ৩৫ দশমিক ৬ শতাংশ ক্ষেত্রে মধু মৌমাছিকে এড়িয়ে চলেছে। আবার মধু মৌমাছি যেসব প্রতিযোগিতায় জয়ী হয়েছে, তার প্রায় ২০ শতাংশ ক্ষেত্রে এরা অন্য পতঙ্গকে ধাক্কা দিয়ে বা তাড়া করে সরিয়ে দিয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যুক্তরাজ্য (ক্যামব্রিজশায়ার এলাকা)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ভিক্টোরিয়া বাকল (গবেষণার প্রধান লেখক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩০০টি পতঙ্গের মুখোমুখি হওয়া ঘটনা, ২৮.৪% ও ৩৫.৬% (বুনো পতঙ্গের এড়িয়ে চলা হার), ২০% (মধু মৌমাছির সরিয়ে দেওয়া হার), ৪৭ হাজার (বর্তমান মৌচাষির সংখ্যা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!