📌 বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল হাসপাতালে শয্যা সংখ্যা ১০০০ হলেও দিনে গড়ে আড়াই হাজার রোগী ভর্তি থাকে। অবকাঠামো ও কর্মী সংকটে রোগীরা শয্যা না পেয়ে বারান্দা ও মেঝেতে ঠাঁই নিচ্ছেন। হাসপাতালের ৯৪টি চিকিৎসক পদ শূন্য রয়েছে
বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শয্যা সংখ্যা ১০০০ হলেও দিনে গড়ে আড়াই হাজার রোগী ভর্তি থাকে। অবকাঠামো ও কর্মী সংকটের কারণে রোগীরা শয্যা না পেয়ে হাসপাতালের বারান্দা ও মেঝেতে ঠাঁই নিচ্ছেন। দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় ১ কোটি মানুষের চিকিৎসার প্রধান ভরসাস্থল এই হাসপাতাল, যেখানে প্রতিদিন বহু রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বরিশাল মেডিকেলে শয্যা ১০০০, কিন্তু দিনে গড়ে আড়াই হাজার রোগী ভর্তি থাকে — শয্যার চেয়ে ২.৫ গুণ বেশি
- 📌 ৭০ বছর বয়সী আবদুস সালাম ও বেলাল হোসেনের মতো রোগীরা শয্যা না পেয়ে বারান্দা ও মেঝেতে ঠাঁই নিচ্ছেন
- 📌 হাসপাতালের শৌচাগার দুর্গন্ধে ব্যবহারের অনুপযোগী, রোগীরা অস্বস্তিতে ভুগছেন
- 📌 ১৯৬৮ সালে ২৫০ শয্যা থেকে বেড়ে ২০১৩ সালে ১০০০ শয্যায় উন্নীত হলেও জনবল ও অবকাঠামো অনুপাতে বাড়েনি
- 📌 ৯৪টি চিকিৎসক পদ শূন্য, দ্বিতীয় শ্রেণির ২৮২টি পদ খালি — কর্মী সংকটের কারণে চিকিৎসা সেবা নাজুক
- 📌 বহির্বিভাগে প্রতিদিন ৪ হাজার রোগী দেখতে হচ্ছে মাত্র ৫৩ জন চিকিৎসকের — একজন চিকিৎসককে গড়ে ৭৫ জন রোগী দেখতে হয়
- 📌 সিসিএম ইউনিটের অভাব, ক্যাথল্যাবের মতো বিশেষায়িত সুবিধা নেই — গুরুতর রোগীদের চিকিৎসায় বাধা
📰 বিস্তারিত
বরিশাল বিভাগের ছয় জেলা ছাড়াও মাদারীপুর, বাগেরহাট, শরীয়তপুর ও লক্ষ্মীপুরের অংশের লোকজন এই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। সাত দিন ধরে জ্বরে ভুগছেন আবদুস সালাম। জ্বর নিয়ন্ত্রণে না আসায় তিনি গত রোববার বরগুনা থেকে বরিশালে আসেন। হাসপাতালে শয্যা না পেয়ে তিনি পুরোনো ভবনের নিচতলার বারান্দার মেঝেতে ঠাঁই নেন। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘এমনিতেই জ্বরে কাহিল। হ্যারপর সিট পাই নাই। খুব কষ্ট অইতে আছে।’
আবদুস সালামের মতো বেলাল হোসেনও ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে বরগুনা থেকে হাসপাতালে ভর্তি হন। তিনিও শয্যা না পেয়ে একই ভবনের বারান্দার মেঝেতে বিছানা পেতেছেন। বেলাল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘হাসপাতালের শৌচাগারগুলোর অবস্থা খুবই খারাপ। দুর্গন্ধ ও নোংরার কারণে ব্যবহারের অনুপযোগী।’
হাসপাতালের পুরোনো ভবনে সার্জারি, অর্থোপেডিক, গাইনি ও শিশু ওয়ার্ড এবং নতুন ভবনের মেডিসিন ইউনিটে রোগীদের ভিড় দেখা যায়। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, এক হাজার শয্যার এই হাসপাতালের কার্যক্রম চলছে ৫০০ শয্যার পুরোনো জনবলকাঠামো দিয়ে। বহির্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে ৪ হাজার রোগী সেবা নিতে আসেন। বহির্বিভাগ ও অন্তর্বিভাগ মিলিয়ে প্রতিদিন গড়ে সাড়ে ছয় হাজার রোগী চিকিৎসা নেন। এর মধ্যে প্রতিদিন গড়ে আড়াই হাজার রোগী ভর্তি থাকে।
হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক দুর্গা প্রসাদ সরকার বলেন, ‘প্রতিদিন সকাল নয়টা থেকে বেলা তিনটা পর্যন্ত চিকিৎসকেরা থাকেন। বেলা তিনটা থেকে পরদিন সকাল নয়টা পর্যন্ত ইন্টার্ন চিকিৎসকই ভরসা। এখানে এত রোগীর ভিড় থাকে, যা সামলাতে আরও বেশি চিকিৎসক দরকার।’
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, চিকিৎসকের ৯৪টি পদ শূন্য রয়েছে। পুরোনো ৫০০ শয্যার জনবলকাঠামো অনুযায়ী, চিকিৎসকের ৩২৩টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ২২৯ জন। এ ছাড়া তৃতীয় শ্রেণির ৬৬টি এবং চতুর্থ শ্রেণির ২১৬টি পদ শূন্য। দ্বিতীয় শ্রেণির ২৮২টি পদ খালি — অর্থাৎ দ্বিতীয় শ্রেণির ৪৭ শতাংশ পদ খালি। জনবলসংকট সামাল দিতে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে ২২২ জন কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ইনচার্জ মেহেদি হাসান বলেন, ‘নানা সংকটের মধ্যেও হাসপাতালে আসা রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত দিতে চেষ্টা করছি। তবে অবকাঠামো ও কর্মী সংকটের কারণে চিকিৎসা সেবা নাজুক হয়ে পড়েছে।’
"এমনিতেই জ্বরে কাহিল। হ্যারপর সিট পাই নাই। খুব কষ্ট অইতে আছে"
"হাসপাতালের শৌচাগারগুলোর অবস্থা খুবই খারাপ। দুর্গন্ধ ও নোংরার কারণে ব্যবহারের অনুপযোগী"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বরিশাল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আবদুস সালাম (৭০), বেলাল হোসেন, দুর্গা প্রসাদ সরকার, মেহেদি হাসান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: শয্যা ১০০০, ভর্তি রোগী আড়াই হাজার, বহির্বিভাগে রোগী ৪ হাজার, চিকিৎসক পদ শূন্য ৯৪, দ্বিতীয় শ্রেণির পদ শূন্য ২৮২
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!