📌 ২৫-২৭ সেপ্টেম্বর ভারতের হায়দরাবাদে অনুষ্ঠিত এশিয়া-প্যাসিফিক ওপেন চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিক্ষার্থী দল ‘টিম ব্লুপ্রিন্ট’ একটি স্বয়ংক্রিয় গাড়ি নিয়ে অংশ নিয়ে ব্রোঞ্জ পদক জিতেছে। দলের তিন সদস্য তিনটি আলাদা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী যারা মানুষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই গাড়িকে সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম করেছে
বাংলাদেশের শিক্ষার্থী দল ‘টিম ব্লুপ্রিন্ট’ একটি স্বয়ংক্রিয় গাড়ি নিয়ে ভারতের হায়দরাবাদে অনুষ্ঠিত এশিয়া-প্যাসিফিক ওপেন চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিয়ে ব্রোঞ্জ পদক জিতেছে। এই গাড়ি চালক ছাড়াই বাধা ডিঙিয়ে নিজে সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হয়েছে। ২৫ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় এই দল তৃতীয় স্থান অধিকার করে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ব্লুপ্রিন্ট দলের তিন সদস্য: সাম্মান রাহিন (ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি), সৈয়দ সুবেহ-সাদিক (মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি), আজমাইন রুবায়েদ (নর্দান ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ)
- 📌 গাড়িটি ক্যামেরা ও লাইডারের মাধ্যমে চারপাশের তথ্য সংগ্রহ করে রাস্পবেরি পাই ৫-এর মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেয়
- 📌 ভারতের ভিসা পাওয়ার অনিশ্চয়তা ও সময়ের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও দলটি ব্রোঞ্জ পদক জিতেছে
- 📌 প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়া বিশ্বের ২৫টি দেশের ১৪৯টি দলের মধ্যে বাংলাদেশের এই দল তৃতীয় স্থান অধিকার করে
- 📌 বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক (বিডিওএসএন) জাতীয় পর্যায়ের আয়োজন করে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় দলকে প্রেরণ করে
📰 বিস্তারিত
‘টিম ব্লুপ্রিন্ট’ নামের এই দলের লক্ষ্য ছিল মানুষের সাহায্য ছাড়াই নিজে চলতে এবং সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম একটি গাড়ি তৈরি করা। দলনেতা সাম্মান রাহিন বলেছেন, ‘আমরা শুধু রোবট তৈরি করছি না, ভবিষ্যতের নকশা তৈরি করছি।’ গাড়িটি ক্যামেরা ও লাইডারের মাধ্যমে চারপাশের তথ্য সংগ্রহ করে রাস্পবেরি পাই ৫-এর মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেয়। এই ছোট কম্পিউটার বোর্ড গাড়ির ‘মস্তিষ্ক’ হিসেবে কাজ করে। ক্যামেরা ও লাইডার থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে এটি বুঝতে চেষ্টা করে সামনে কী আছে এবং গাড়িকে কী করতে হবে। এরপর সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে এসটিএম ৩২ নামের একটি চিপ।
দলটি ভারতের ভিসা পাওয়ার সময় অনিশ্চয়তা ও প্রস্তুতির সময়ের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। ভিসা পাওয়ার সময়টা ছিল অনিশ্চিত বলে সাম্মান বলেছেন, ‘মনে হচ্ছিল, এত পরিশ্রমের পরও প্রতিযোগিতায় পৌঁছাতেই পারব না।’ তবে পরিবার, শিক্ষক ও দলের সদস্যরা মিলে যোগাযোগ চালিয়ে যান এবং শেষ পর্যন্ত ভারত পৌঁছান। হায়দরাবাদে পৌঁছানোর পরও দলটি থামেনি প্রস্তুতিতে। হোটেলের পাশেই অনুশীলনের ব্যবস্থা করে প্রতিযোগিতার আগের সকাল পর্যন্ত গাড়িতে পরিবর্তন এনেছেন তাঁরা।
বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক (বিডিওএসএন) জাতীয় পর্যায়ের আয়োজন ও সমন্বয়ের দায়িত্বে রয়েছে। ওয়ার্ল্ড রোবট অলিম্পিয়াড বাংলাদেশের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাসির খান বলেছেন, ‘খুব অল্প সময়ে প্রস্তুতিতে টিম ব্লুপ্রিন্ট এই সাফল্য পেয়েছে। তবে যদি প্রতিযোগিতার থিম ঘোষণা হওয়ার সময় থেকে প্রস্তুতি নেয়া হতো, তবে তারা ভবিষ্যতে আরও ভালো করতে পারতো।’
"আমরা শুধু রোবট বানাই না, ভবিষ্যতের নকশা তৈরি করি"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: হায়দরাবাদ, ভারত
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সাম্মান রাহিন, সৈয়দ সুবেহ-সাদিক, আজমাইন রুবায়েদ, নাসির খান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৫-২৭ সেপ্টেম্বর (প্রতিযোগিতার তারিখ), ২৫টি দেশ, ১৪৯টি দল
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!