📌 বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা প্ল্যানটেইন ভিত্তিক ফাইটোজেনিক ফিড অ্যাডিটিভ 'বাউ-প্লান্টিভ' উদ্ভাবন করেছেন যা ব্রয়লার মাংসের ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে নিরাপদ ও পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ মাংস উৎপাদনে সহায়তা করছে। গবেষণায় দেশীয় প্ল্যানটেইন চাষের সম্ভাবনা ও আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় ভ্যালু চেইন গড়ে তোলার পথ খুলেছে
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) গবেষকরা ব্রয়লার মাংসের নিরাপত্তা ও পুষ্টিগুণ বৃদ্ধির জন্য উদ্ভিদ প্ল্যানটেইন ভিত্তিক একটি বিপ্লবী ফিড অ্যাডিটিভ উদ্ভাবন করেছেন। এই উদ্ভাবনটি ব্রয়লার মুরগির উৎপাদনে কৃত্রিম মেডিসিনের বিকল্প হিসেবে কাজ করবে এবং দেশে প্ল্যানটেইন চাষের সম্ভাবনা খুলবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বাকৃবির গবেষকরা 'বাউ-প্লান্টিভ' নামে প্ল্যানটেইন ভিত্তিক ফাইটোজেনিক ফিড অ্যাডিটিভ উদ্ভাবন করেছেন যা ব্রয়লার মাংসের ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের পরিমাণ ৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে দিতে পারে
- 📌 গবেষণায় দেখা গেছে, প্ল্যানটেইন ভিত্তিক ফিড ব্যবহারে ব্রয়লার মুরগির হাড়ের গঠন শক্তিশালী হয় এবং মাংসে স্বাস্থ্যকর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য বৃদ্ধি পায়
- 📌 ময়মনসিংহ ও মানিকগঞ্জে চাষের পরীক্ষায় দেখা গেছে, প্রতি একর থেকে ২০০ কেজি প্ল্যানটেইন বীজ উৎপাদন সম্ভব — যা আগের তুলনায় ৮০ গুণ বেশি
- 📌 প্রচলিত কৃত্রিম মেডিসিন ব্যবহারে প্রতি মুরগিতে ৮ টাকা খরচ হলেও বাউ-প্লান্টিভ ব্যবহারে তা ৭ টাকায় নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে
- 📌 গবেষণা পরিচালক ড. মোহাম্মদ আল-মামুন বলেছেন, এই উদ্ভাবনটি ব্রয়লার মুরগিতে প্ল্যানটেইনের ব্যবহার বিশ্বের প্রথম উদাহরণ
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) গবেষকরা ব্রয়লার মুরগির উৎপাদনে কৃত্রিম মেডিসিনের বিকল্প হিসেবে ঔষধি উদ্ভিদ প্ল্যানটেইন ব্যবহার করে একটি বিপ্লবী ফিড অ্যাডিটিভ উদ্ভাবন করেছেন। এই উদ্ভাবনটি 'বাউ-প্লান্টিভ' নামে পরিচিত এবং এটি ব্যবহারে ব্রয়লার মাংসের ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের পরিমাণ প্রায় ৮ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। গবেষণায় দেখা গেছে, এই ফিড অ্যাডিটিভ ব্যবহারে ব্রয়লার মুরগির হাড়ের গঠন শক্তিশালী হয় এবং হাড়ে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও আয়রনের পরিমাণ বাড়ে। পাশাপাশি মুরগির দৈহিক তৎপরতা বৃদ্ধি পায় এবং পালক ঘন ও উজ্জ্বল হয়।
গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন বাকৃবির এনিমেল নিউট্রিশন বিভাগের ড. মোহাম্মদ আল-মামুন। তিনি বলেছেন, “আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলো প্রাকৃতিকভাবে নিরাপদ ও পুষ্টিগুণসম্পন্ন পোল্ট্রি মাংস উৎপাদন করা। প্রচলিত ব্রয়লার উৎপাদনে ব্যবহৃত কৃত্রিম মেডিসিন, ভিটামিন ও গ্রোথ প্রমোটরের বিকল্প হিসেবে আমরা প্ল্যানটেইন নিয়ে গবেষণা করছি। আমাদের লক্ষ্য শুধু বাউ-প্লান্টিভ বাজারে আনা নয়, বরং প্ল্যানটেইন থেকে বীজ, বীজ থেকে ফিড, ফিড থেকে কার্যকরী মাংস এবং গবেষণা থেকে একটি টেকসই বাংলাদেশভিত্তিক বাণিজ্যিক সিড-টু-মিট ভ্যালু চেইন তৈরি করা।"
গবেষণায় দেখা গেছে, প্ল্যানটেইন চাষের ক্ষেত্রে বীজের আমদানিনির্ভরতা ছিল অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। গবেষকরা প্রথমে প্রতি একরে মাত্র ২.৫ কেজি বীজ উৎপাদন করতে পারতেন, কিন্তু পরবর্তীতে প্রথম প্রজন্মের বীজ উৎপাদন বেড়ে ১৪০ কেজি এবং দ্বিতীয় প্রজন্মে প্রতি একরে প্রায় ২০০ কেজি পৌঁছেছে। বর্তমানে এক একর প্ল্যানটেইন থেকে উৎপাদিত বীজ দিয়ে প্রায় ৮০ একর জমিতে নতুন করে চাষ করা সম্ভব। ফলে ভবিষ্যতে আমদানিকৃত বীজের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশে প্ল্যানটেইনের বীজের একটি শিল্প গড়ে তোলার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
"বাংলাদেশে প্ল্যানটেইন নিয়ে গবেষণার কাজ আমিই প্রথম শুরু করি। ২০০৪ সালে জাপানে পিএইচডি করার সময় থেকেই এই ভেষজ নিয়ে কাজ করছি। ব্রয়লার মুরগিতে প্ল্যানটেইনের ব্যবহার বাংলাদেশ তো বটেই, বিশ্বেও প্রথমবারের মতো আমরা করেছি।"
গবেষণায় স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি পর্যায়ের শিক্ষার্থীরাও যুক্ত ছিলেন। উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. তামান্না হক সহযোগী গবেষক হিসেবে ছিলেন। গবেষণাটি বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সেস (বিএএস)-ইউএসডিএ অর্থায়নে পরিচালিত হয়েছে। গবেষকরা বলেছেন, বাউ-প্লান্টিভ ব্যবহারে উৎপাদন ব্যয়ও কিছুটা কমে। প্রচলিত মেডিসিন ব্যবহারে প্রতি মুরগিতে গড়ে ৮ টাকা খরচ হলেও বাউ-প্লান্টিভ ব্যবহারে তা প্রায় ৭ টাকায় নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ (ময়মনসিংহ, মানিকগঞ্জ, ঢাকা)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ড. মোহাম্মদ আল-মামুন, ড. তামান্না হক
- 📌 গবেষণা প্রতিষ্ঠান: বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮ শতাংশ (ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড), ৪৫০টি (ব্রয়লার মুরগি), ৩৫ দিন (পরীক্ষা সময়), ২০০ কেজি (বীজ উৎপাদন), ৮০ একর (চাষ সম্ভাবনা), ৭ টাকা (ব্যয়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!