📌 বাংলাদেশ, চীন ও ভারতের যৌথ গবেষণায় বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ‘ডান্ডুবিয়া অ্যানানডালেই বুলার্ড’ নামের নতুন ঝিঁঝিঁ পোকা প্রজাতি শনাক্ত হয়েছে। গবেষণায় ৬৩টি নমুনা সংগ্রহ ও বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ করে এই প্রজাতির উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে
বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো একটি নতুন ঝিঁঝিঁ পোকা প্রজাতি শনাক্ত হয়েছে। গবেষণায় ‘ডান্ডুবিয়া অ্যানানডালেই বুলার্ড’ নামের এই প্রজাতির উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি), চীনের নর্থওয়েস্ট এ অ্যান্ড এফ বিশ্ববিদ্যালয় এবং ভারতের গবেষকদের যৌথ প্রচেষ্টায় এই আবিষ্কারটি সম্ভব হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ‘ডান্ডুবিয়া অ্যানানডালেই বুলার্ড’ নামের ঝিঁঝিঁ পোকা প্রজাতি শনাক্ত হয়েছে।
- 📌 গবেষণায় ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত ৬৩টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়।
- 📌 গবেষণাপত্র ‘ইনসেক্টস’ সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।
- 📌 বর্তমানে প্রজাতিটির উপযোগী এলাকা প্রায় ৮ লাখ ৬১ হাজার বর্গকিলোমিটার।
- 📌 জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ২১০০ সালের মধ্যে উপযোগী এলাকা বেড়ে দাঁড়াতে পারে ২৬ লাখ ৩০ হাজার বর্গকিলোমিটার।
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) কীটতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবুল মঞ্জুর খান এবং চীনের নর্থওয়েস্ট এ অ্যান্ড এফ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক কং ওয়েইর নেতৃত্বে এই গবেষণা পরিচালিত হয়। গবেষণায় সরাসরি যুক্ত ছিলেন ভারতীয় গবেষক বাবু সাদ্দাম এবং বাকৃবির স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী শাহমত জাওয়াদ। গবেষণায় মাঠ পর্যায়ে তথ্য ও নমুনা সংগ্রহের মাধ্যমে এই নতুন প্রজাতির উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়।
গবেষণায় দেখা যায়, এই ঝিঁঝিঁ পোকা সাধারণত সবুজ রঙের হয় এবং শুকিয়ে গেলে বাদামি রং ধারণ করে। এর গঠনগত বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, এটি ‘ডান্ডুবিয়া টার্পসিকোর’ প্রজাতির সঙ্গে বাহ্যিকভাবে সাদৃশ্য রাখলেও পুরুষ পোকার দেহের বিশেষ গঠন এটি শনাক্তের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। গবেষণায় নথিভুক্ত করা হয়েছে যে, এই প্রজাতির ঝিঁঝিঁ পোকা বিভিন্ন ফলের বাগান যেমন আম, লিচু, ড্রাগন ফল, পেয়ারা, আনারস, কলা, কাঁঠাল, লেবু ও কমলা এবং শাল, বাঁশ, সেগুন, জারুলসহ বিভিন্ন গাছ ও ঝোপঝাড়ে পাওয়া যায়।
গবেষকরা ‘ম্যাক্সএন্ট’ নামের প্রজাতির বিস্তৃতি নির্ধারণকারী মডেল ব্যবহার করে এই ঝিঁঝিঁ পোকার বর্তমান ও ভবিষ্যৎ বিস্তৃতি নির্ধারণ করেছেন। বর্তমানে প্রজাতিটির উপযোগী এলাকা প্রায় ৮ লাখ ৬১ হাজার বর্গকিলোমিটার। এর মধ্যে প্রায় ৩ লাখ বর্গকিলোমিটার অত্যন্ত উপযোগী এবং ১ লাখ ৭৯ হাজার বর্গকিলোমিটার মাঝারি উপযোগী হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের সম্ভাব্য পরিস্থিতি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বৈশ্বিক উষ্ণতা কম বাড়লে ২০৬০ সালের মধ্যে উপযোগী এলাকা প্রায় ১৭ লাখ ৫২ হাজার বর্গকিলোমিটারে পৌঁছাতে পারে। শতাব্দীর শেষ নাগাদ তা বেড়ে দাঁড়াতে পারে প্রায় ১৯ লাখ ৪০ হাজার বর্গকিলোমিটারে। অন্যদিকে, বৈশ্বিক উষ্ণতা বেশি বাড়লে শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে উপযোগী এলাকা সাময়িকভাবে সংকুচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তবে পরবর্তীতে তা দ্রুত সম্প্রসারিত হয়ে ২১০০ সালের মধ্যে প্রায় ২৬ লাখ ৩০ হাজার বর্গকিলোমিটারে পৌঁছাতে পারে।
"বাংলাদেশের বিভিন্ন ফলের বাগানে ঝিঁঝিঁ পোকার উপস্থিতি রয়েছে। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে আম পরিপক্ব হওয়ার সময় গাছের আশপাশে এদের প্রজননকালীন তীব্র শব্দ শোনা যায়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল (বাকৃবি ক্যাম্পাস, ফলের বাগান, শাল, বাঁশ, সেগুন, জারুলসহ গাছপালা)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ড. মোহাম্মদ আবুল মঞ্জুর খান, কং ওয়েই, বাবু সাদ্দাম, শাহমত জাওয়াদ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬৩টি নমুনা, ৮ লাখ ৬১ হাজার বর্গকিলোমিটার, ৩ লাখ বর্গকিলোমিটার, ১ লাখ ৭৯ হাজার বর্গকিলোমিটার, ১৭ লাখ ৫২ হাজার বর্গকিলোমিটার, ১৯ লাখ ৪০ হাজার বর্গকিলোমিটার, ২৬ লাখ ৩০ হাজার বর্গকিলোমিটার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!