📌 বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, বাংলাদেশে হামের মহামারীতে ২০২৬ সালের ৯ অক্টোবর পর্যন্ত ১১৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ৯৪% শিশু। টিকাদানের ঘাটতি, দুর্বল পরিসংখ্যান ব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্যসেবার অপ্রতুলতার কারণে বাংলাদেশ বিশ্বের মধ্যে সর্বোচ্চ হামের রোগী সংখ্যা (২ লাখ ২ হাজার) দেখাচ্ছে।
বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ হামের প্রাদুর্ভাবের মুখে পড়েছে বাংলাদেশ। টিকাদানের হার কমে যাওয়ায়, স্বাস্থ্যসেবার অপ্রতুলতা এবং দুর্বল পরিসংখ্যান ব্যবস্থার কারণে এই মহামারীতে দেশটি বিশ্বের অন্যান্য দেশের চেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, ২০২৫ সালের মার্চ থেকে ২০২৬ সালের ৯ অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশে প্রায় ২ লাখ ২ হাজার সম্ভাব্য হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে, যার মধ্যে ২২ হাজার রোগীর ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় রোগের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে। এ সময়ে বাংলাদেশে অন্তত ১ হাজার ১৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে শতকরা ৯৪ ভাগ মৃত্যু পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বিশ্বের মধ্যে সর্বোচ্চ হামের রোগী সংখ্যা (২ লাখ ২ হাজার) বাংলাদেশে — ২২ হাজার রোগী ল্যাব নিশ্চিত
- 📌 ৯ অক্টোবর পর্যন্ত ১ হাজার ১৪৭ জন মৃত্যু — ৯৪% মৃত্যু পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু
- 📌 ২০২৫ সালে টিকাদানের হার কমে ৯৫% লক্ষ্যমাত্রা থেকে দূরে — ২০২৪ সালে ছিল ৯৬% (প্রথম ডোজ)
- 📌 সিলেট বিভাগ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত — দুর্গম এলাকায় টিকা পৌঁছানোর ব্যর্থতা
- 📌 ডব্লিউএইচও সতর্ক: ‘জরুরি পদক্ষেপ ছাড়া প্রচুর মৃত্যু হবে’
- 📌 সরকারের দাবি: ‘হটস্পটে আক্রান্তের সংখ্যা শূন্যের কোঠায়’ — বাস্তবতা ভিন্ন
📰 বিস্তারিত
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং বিজ্ঞানীদের মতে, কোনো দেশে হামের মহামারি রোধ করতে অন্তত ৯৫ শতাংশ টিকাদানের হার বজায় রাখা প্রয়োজন। বাংলাদেশ অতীতে এই লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি পৌঁছেছিল, কিন্তু ২০২৫ সালে রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে টিকাদানের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঠিক তথ্যের অভাব, লাখ লাখ শিশুর বাদ পড়া এবং অভিভাবকদের কাছে পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ার কারণে জরুরি স্বাস্থ্য মোকাবিলা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির স্কুল অব গ্লোবাল পাবলিক হেলথের অধ্যাপক এবং ডব্লিউএইচও-এর ভ্যাকসিন উপদেষ্টা মার্ক জিট বলেছেন, ‘এটি বিশ্বের প্রতিটি দেশের জন্য একটি বাস্তব সতর্কবার্তা। মহামারির মুখে পড়ে ব্যবস্থা নেওয়ার চেয়ে আগে থেকে টিকাদানের মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধ করা অনেক সহজ, সাশ্রয়ী এবং নিরাপদ।’ তিনি আরও যোগ করেছেন, ‘জরুরি পদক্ষেপের মাধ্যমে হয়তো একসময় এই প্রাদুর্ভাব থামবে, কিন্তু তার আগেই প্রচুর মানুষ আক্রান্ত হবে এবং অনেকের মৃত্যু ঘটবে।’
সিলেট বিভাগ হামের প্রাদুর্ভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। গত জুলাই মাসে সিলেটের দু বছর বয়সী শিশু আরমান হোসেন হামে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। তার পরিবারকে তাদের একমাত্র সম্বল অটোরিকশাটি বিক্রি করতে হয়েছিল হাসপাতালের চিকিৎসা খরচ জোগাতে। আরমানের চার বছর বয়সী বোন টিকা না পেয়ে হাম থেকে বেঁচে গেলেও সে বা আরমান কেউই টিকা পায়নি। আরমানের বাবা আমিন মিয়া অভিযোগ করেন, ‘দুর্গম গ্রামে সময়মতো কোনো স্বাস্থ্যকর্মী টিকা দিতে আসেননি। ছেলেকে মাটি দেওয়ার পরই কেবল স্বাস্থ্যকর্মীরা আমাদের খোঁজে এসেছেন।’
ডব্লিউএইচও-এর তথ্য অনুযায়ী, হামে আক্রান্ত প্রতি ১ হাজার রোগীর মধ্যে সাধারণত ২ থেকে ৩ জনের মৃত্যু হয়। তবে দরিদ্র দেশগুলোতে এই মৃত্যুর হার অনেক বেশি। গত জুনে সিলেটের ছাতক উপজেলার কাঠের মিস্ত্রি হুমায়ুন রশিদের নয় মাসের মেয়ে লাবিবা আক্তার টিকা না পেয়ে মারা যায়। গত এপ্রিলে জরুরি টিকাদান কর্মসূচিতে সর্বনিম্ন বয়সসীমা ৯ মাস থেকে কমিয়ে ৬ মাস করা হলেও সে বিষয়ে ওই পরিবারকে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন দাবি করেছিলেন, জরুরি টিকাদান অভিযানের ফলে হটস্পটগুলোতে আক্রান্তের সংখ্যা ‘প্রায় শূন্যের কোঠায়’ নেমে এসেছে। কিন্তু বাস্তবচিত্র ভিন্ন — গত সেপ্টেম্বর মাসে প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার ১৯৮ জন নতুন হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে, যা মে মাসের পর সর্বোচ্চ। আক্রান্তদের মধ্যে তীব্র জ্বর, কাশি এবং শরীরে লালচে ফুসকুড়ির লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।
‘এটি বিশ্বের প্রতিটি দেশের জন্য একটি বাস্তব সতর্কবার্তা। মহামারির মুখে পড়ে ব্যবস্থা নেওয়ার চেয়ে আগে থেকে টিকাদানের মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধ করা অনেক সহজ, সাশ্রয়ী এবং নিরাপদ।’ — মার্ক জিট, নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ও ডব্লিউএইচও-এর ভ্যাকসিন উপদেষ্টা
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ (সিলেট বিভাগ সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মার্ক জিট (ডব্লিউএইচও ভ্যাকসিন উপদেষ্টা), সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন (স্বাস্থ্য মন্ত্রী), আমিন মিয়া (আরমানের বাবা), হুমায়ুন রশিদ (লাবিবার বাবা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২ লাখ ২ হাজার (সম্ভাব্য রোগী), ২২ হাজার (ল্যাব নিশ্চিত রোগী), ১ হাজার ১৪৭ (মৃত্যু), ৯৪% (শিশু মৃত্যু), ৯৫% (টিকাদান লক্ষ্যমাত্রা), ১৮ কোটি (বাংলাদেশের জনসংখ্যা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!