📌 বাংলাদেশে বছরে ১৯ লাখ মানুষের মেডিক্যাল অক্সিজেনের তীব্র প্রয়োজন পড়ে, কিন্তু সরকারি অক্সিজেন প্ল্যান্টের মধ্যে ৩৮টি ছাড়া বাকি অর্ধেকের বেশি অকার্যকর। বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থায় তীব্র সংকটের সম্ভাবনা রয়েছে
বাংলাদেশে মেডিক্যাল অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থায় তীব্র সংকটের সাক্ষী হচ্ছে অর্ধেকের বেশি সরকারি অক্সিজেন প্ল্যান্টের অকার্যকর অবস্থা। বিশেষজ্ঞদের মতে, বছরে ১৯ লাখ মানুষের অক্সিজেনের তীব্র প্রয়োজন পড়ে, কিন্তু সরকারি প্ল্যান্টের মধ্যে মাত্র ৩৮টি কর্মক্ষম অবস্থায় রয়েছে। এই তথ্য জানিয়েছেন বাংলাদেশ অক্সিজেন সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনে উপস্থিত বিশেষজ্ঞ ও ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বাংলাদেশে সরকারি অক্সিজেন প্ল্যান্টের মধ্যে ৯৯টি প্ল্যান্টের মধ্যে মাত্র ৩৮টি কর্মক্ষম — অর্থাৎ অর্ধেকের বেশি অকার্যকর
- 📌 বছরে ১৯ লাখ মানুষের মেডিক্যাল অক্সিজেনের তীব্র প্রয়োজন পড়ে, যার মধ্যে রয়েছে নিম্ন শ্বাসনালির সংক্রমণ, হৃৎপিণ্ডের রোগ, ডেঙ্গু, সেপসিস, নবজাতকের সংক্রমণ, যক্ষ্মা, ম্যালেরিয়া ও এইডসসহ ১৫টি রোগের তালিকা
- 📌 করোনা মহামারির সময়ে অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত করতে নতুন প্ল্যান্ট স্থাপন করা হলেও, বর্তমানে কার্যকরী জনবল ও পরিচালনার অভাবের কারণে প্ল্যান্টগুলো অকার্যকর
- 📌 ইউনিসেফ ও ইউনাইটেড নেশানস অফিস ফর প্রোজেক্ট সার্ভিসেস (ইউএনওপিএস) করোনা সময়ে হাসপাতালে অক্সিজেন সরবরাহ বৃদ্ধিতে সহযোগিতা করেছিল
- 📌 বিশেষজ্ঞরা অক্সিজেনকে "অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ" হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং মেডিক্যাল শিক্ষায় অক্সিজেন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দিয়েছেন
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশে মেডিক্যাল অক্সিজেনের গুরুত্ব সর্বোচ্চ বোঝা গেছে করোনা মহামারির সময়। সেই সময়ে হাসপাতালে নিরবচ্ছিন্ন অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার ও আন্তর্জাতিক সংস্থা বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়। তবে বর্তমানে সরকারি অক্সিজেন প্ল্যান্টের মধ্যে ৯৯টি প্ল্যান্টের মধ্যে মাত্র ৩৮টি কর্মক্ষম অবস্থায় রয়েছে। ইউনাইটেড নেশানস অফিস ফর প্রোজেক্ট সার্ভিসেস (ইউএনওপিএস) এর সিনিয়র অ্যানালিস্ট মারুফ হাসান জানান, প্ল্যান্টগুলো চালানোর জন্য কার্যকরী জনবল ও পরিচালনার অভাবের কারণে অনেক প্ল্যান্ট দিনের মধ্যে মাত্র কয়েক ঘণ্টা চলে।
বাংলাদেশ অক্সিজেন নেটওয়ার্কের আহ্বায়ক ও অক্সিজেন বিষয়ক ল্যানসেট কমিশনের সদস্য আহমেদ এহসানূর রহমান বলেন, বাংলাদেশে বছরে বিভিন্ন রোগে ভোগা ১৯ লাখ মানুষের অক্সিজেনের তীব্র প্রয়োজন দেখা দেয়। এই রোগগুলোর তালিকায় রয়েছে নিম্ন শ্বাসনালির সংক্রমণ, হৃৎপিণ্ড ও রক্তনালির রোগ, আঘাত, সেপসিস, ডেঙ্গু, পুষ্টিজনিত দুর্বলতা, নবজাতকের সংক্রমণ, অ্যাজমা, যক্ষ্মা, টাইফয়েড, ম্যালেরিয়া এবং এইডসসহ ১৫টি রোগ।
বিশেষজ্ঞরা মেডিক্যাল শিক্ষায় অক্সিজেন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দিয়েছেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিশু বিভাগের সাবেক প্রধান অধ্যাপক আবিদ হোসেন মোল্লা বলেন, অক্সিজেনকে আধুনিক হাসপাতাল ব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। তিনি আরও বলেন, অক্সিজেন দেওয়ায় বিলম্ব হওয়ার অর্থ জীবনকে অস্বীকার করা।
"অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থায় তীব্র সংকটের সম্ভাবনা রয়েছে। অর্ধেকের বেশি প্ল্যান্ট অকার্যকর অবস্থায় থাকায় দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে।"
আজ শনিবার শুরু হওয়া দুই দিনব্যাপী বাংলাদেশ অক্সিজেন সম্মেলনের প্রথম দিনের প্রথম অধিবেশনে এই তথ্য উঠে আসে। এই সম্মেলন আয়োজন করেছে বাংলাদেশ অক্সিজেন নেটওয়ার্ক ও ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের (আইইউবি) সেন্টার ফর হেলথ, ইমপ্লিমেন্টেশন অ্যান্ড পপুলেশন সায়েন্স (সিএইচআইপিএইচ)। সম্মেলন হচ্ছে রাজধানীর আইইউবি ক্যাম্পাসে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউনিসেফের স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান মালালা আহমেদজাই।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, বাংলাদেশ (আইইউবি ক্যাম্পাস)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মারুফ হাসান (ইউএনওপিএস), আহমেদ এহসানূর রহমান (বাংলাদেশ অক্সিজেন নেটওয়ার্ক), আবিদ হোসেন মোল্লা (ঢাকা মেডিকেল কলেজ)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৯ লাখ (মেডিক্যাল অক্সিজেনের বার্ষিক প্রয়োজন), ৯৯টি (সরকারি অক্সিজেন প্ল্যান্ট), ৩৮টি (কার্যকরী প্ল্যান্ট)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!