📌 বাংলাদেশের ডেইরি খামার থেকে নির্গত কার্বন ফুটপ্রিন্টের সঠিক হিসাব প্রকাশ করেছে ইউনিভার্সিটি অব কানেকটিকাট ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা। গবেষণায় দেখা যায়, গরুর পরিপাক থেকে ৪৮% কার্বন নির্গমন হয়, যা আগের অনুমানের চেয়ে ২৭% কম। উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি মূল কৌশল হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে
বাংলাদেশের ডেইরি খামার থেকে নির্গত কার্বন ফুটপ্রিন্টের সঠিক পরিমাপ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক গবেষণা। ইউনিভার্সিটি অব কানেকটিকাট ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ গবেষণায় দেখা গেছে, গরুর পরিপাক প্রক্রিয়া থেকে মোট কার্বন নির্গমনের ৪৮ শতাংশ আসে। গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, খাদ্য উৎপাদনে ব্যবহৃত সার থেকে ২৪ শতাংশ, গোবর ব্যবস্থাপনা থেকে ২০ শতাংশ এবং খামার পরিচালনার শক্তি থেকে ৮ শতাংশ কার্বন নির্গমন ঘটে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গবেষণায় দেখা যায়, বাংলাদেশের ডেইরি খামার থেকে মোট কার্বন নির্গমনের ৪৮% আসে গরুর পরিপাক প্রক্রিয়া থেকে
- 📌 খাদ্য উৎপাদনে ব্যবহৃত সার থেকে ২৪%, গোবর ব্যবস্থাপনা থেকে ২০%, এবং খামার পরিচালনার শক্তি থেকে ৮% কার্বন নির্গমন
- 📌 গবেষণায় দেখা গেছে, প্রকৃত কার্বন পদচিহ্ন আগের অনুমানের চেয়ে ২৭% কম
- 📌 পাঁচ বছরের গবেষণায় গরুর উৎপাদনশীলতা ৬৩% বৃদ্ধি পেয়েছে, ফলে খামারের কার্বন নির্গমন ৩৭% হ্রাস পেয়েছে
- 📌 বিজ্ঞানী ইলিয়াস উদ্দিন বলেছেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি মূল কৌশল
- 📌 বাংলাদেশের খামারগুলোয় মোট নির্গমনের মাত্র ৫০% দুধ উৎপাদনের জন্য বরাদ্দ, যা যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় অনেক কম
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশের ডেইরি খামার থেকে নির্গত কার্বন ফুটপ্রিন্টের সঠিক হিসাব প্রকাশ করেছে ইউনিভার্সিটি অব কানেকটিকাটের অ্যানিমেল সায়েন্স বিভাগ ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা। গবেষণাপত্রটি আন্তর্জাতিক জার্নাল জার্নাল অব ডেইরি সায়েন্সতে প্রকাশিত হয়েছে। গবেষক দল ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ডেইরি ফার্মের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই হিসাব প্রস্তুত করেছেন।
গবেষণায় দেখা গেছে, গরুর পরিপাক প্রক্রিয়া থেকে মোট কার্বন নির্গমনের ৪৮ শতাংশ আসে। এরপর খাদ্য উৎপাদনে ব্যবহৃত সার থেকে ২৪ শতাংশ, গোবর ব্যবস্থাপনা থেকে ২০ শতাংশ এবং খামার পরিচালনার শক্তি থেকে ৮ শতাংশ নির্গমন ঘটে। বিজ্ঞানী ইলিয়াস উদ্দিন বলেছেন, খামারের উৎপাদনব্যবস্থার অংশ হওয়ায় দুধ না দেওয়া প্রাণীগুলোর হিসাবও বাদ দেওয়া সম্ভব নয়।
গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, বাংলাদেশের গরুর উৎপাদনশীলতা আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পাঁচ বছরের গবেষণায় গরুর উৎপাদনশীলতা ৬৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, ফলে খামারের কার্বন নির্গমন ৩৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। বিজ্ঞানী ইলিয়াস উদ্দিন বলেছেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য কেবল নির্গমন কমানোর কৌশল নয়, উৎপাদনশীলতা ও দক্ষতা বাড়ানোই মূল চাবিকাঠি।
গবেষকরা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপের তুলনায় দক্ষিণ এশিয়ার ডেইরি খামারগুলোয় অনেক বেশি কার্বন ফুটপ্রিন্ট দেখা যায়। ইউরোপ ও আমেরিকার গরু প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ লিটার দুধ দেয়, কিন্তু বাংলাদেশের গরু ৪ থেকে ৮ লিটার দুধ দেয়। তবে গবেষণায় দেখা গেছে, প্রকৃত কার্বন পদচিহ্ন আগের অনুমানের চেয়ে ২৭ শতাংশ কম।
বিজ্ঞানী ইলিয়াস উদ্দিন বলেছেন, বাংলাদেশের খামারগুলোয় মোট নির্গমনের মাত্র ৫০ শতাংশ দুধ উৎপাদনের জন্য বরাদ্দ হয়, যা যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ কম। গবেষকরা মানুষের পুষ্টির জন্য উৎপাদিত ক্যালোরি অনুযায়ী এককপ্রতি কার্বন হিসাব করে তুলনা করার সুযোগ তৈরি করেছেন। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে পরিবেশবান্ধব পণ্যের চাহিদা বাড়ায় এ ধরনের সঠিক তথ্য কৃষকদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
"উন্নয়নশীল দেশগুলোয় কেবল নির্গমন কমানোর কৌশলের চেয়ে উৎপাদনশীলতা ও দক্ষতা বাড়ানোই মূল চাবিকাঠি।" — বিজ্ঞানী ইলিয়াস উদ্দিন
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ডেইরি ফার্ম, ইউনিভার্সিটি অব কানেকটিকাট
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বিজ্ঞানী ইলিয়াস উদ্দিন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪৮%, ২৪%, ২০%, ৮%, ২৭%, ৬৩%, ৩৭%
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!