📌 চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাবুডাইংয়ে বিরল পাখি লাটোরার জীবনচক্র ও প্রজনন প্রক্রিয়া নিয়ে গবেষণা করেছেন পাখি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আনাম আমিনুর রহমান। গবেষণায় দেখা গেছে, এই ক্ষুদ্রতম কসাই পাখি (বৈজ্ঞানিক নাম *Lanius vittatus*) শিশুগাছের মগডালে বাসা বানিয়ে ছানাসহ দেখা যায়। পাখিটি ১৭-২০ সেমি লম্বা ও ১৮-২৬ গ্রাম ওজনের, যার ডাক শুনলে চোখ ছানাবড়া হয়
চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাবুডাইংয়ে বিরল পাখি লাটোরার জীবনচক্র ও প্রজনন প্রক্রিয়া নিয়ে গবেষণা করেছেন পাখি ও বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আনাম আমিনুর রহমান। গবেষণায় তিনি ৪ মে ২০১৮ তারিখে এই বিরল পাখির প্রজনন ও আচরণের বিস্তারিত লিপিবদ্ধ করেছেন। গবেষণাকারীর মতে, এই ক্ষুদ্রতম কসাই পাখি (*Lanius vittatus*) বাংলাদেশের বিরল আবাসিক প্রজাতি, যার বৈজ্ঞানিক নাম *Lanius vittatus*।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **বাবুডাইংয়ে** শিশুগাছের মগডালে ২৯ ডিসেম্বর ২০১৫ থেকে সর্বশেষ ২৫ ডিসেম্বর ২০২৩ পর্যন্ত **বাসা-ছানাসহ** বিরল পাখি লাটোরা দেখা গিয়েছিল।
- 📌 **লম্বায় মাত্র ১৭-২০ সেমি ও ওজনে ১৮-২৬ গ্রাম** এই পাখির ডানা-লেজ কালো, পেট সাদা, পেটের দুই পাশ **গাঢ় কমলা-বাদামি** রঙের।
- 📌 **ফেব্রুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর** পর্যন্ত প্রজননকালে **২-৩ মিটার উচ্চতায়** গাছের ডালের খাঁজে বাসা বানায়, যেখানে **৩-৬টি** ঘিয়ে-সাদা ডিম পাড়ে।
- 📌 **কর্কশ ডাক** ‘চাররর...চাররর’ এবং অন্য পাখির ডাক অনুকরণ করতে পারে। শিকার ধরে **বাবলা বা কাঁটায় গেঁথে রাখে**।
- 📌 **বাংলাদেশ ছাড়াও** দক্ষিণ এশিয়া, মধ্য ও পশ্চিম এশিয়ার কিছু দেশে দেখা যায়। বাংলাদেশে **চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, ঢাকা ও চট্টগ্রাম**ে বেশি দেখা যায়।
📰 বিস্তারিত
গবেষণাকারী অধ্যাপক আনাম আমিনুর রহমান বলেন, বাবুডাইংয়ের আদিবাসী সাঁওতাল-অধ্যুষিত এলাকাটি পাখি-প্রাণীদের জন্য আদর্শ। ওখানে সর্পিল খাঁড়ি, ফলের বাগান ও ঘন গাছপালা থাকায় পাখির সংখ্যা বেশি। গবেষণাকারী প্রথমে **অধরা নাগরবাটই** পাখিকে দেখলেও ছবি তুলতে গিয়ে পালিয়ে যায়। এরপর **লাটোরা বা বিমান পাখি** দেখতে পেলেন, যারা পালক পরিচর্যা করছিল। তাদের পাশেই একটি ধৌলি পাখি ডিমে তা দিচ্ছিল।
ঘড়িতে **১টা বেজে ২৮ মিনিট** সময়ে হঠাৎ পাখির ডাক শুনে গবেষণাকারী দৌড়ে গেলেন। পাশের টিলায় **তামাটে-কমলা-ধূসর-সাদা** রঙের একটি বিরল পাখি বসে পালক পরিচর্যা করছিল। গবেষণাকারী **২৯ ডিসেম্বর ২০১৫** তারিখে পূর্বাচল আবাসিক এলাকায় এই পাখিকে প্রথমবার দেখেছিলেন। এরপর **২৫ মিনিট** পর আশপাশ থেকে একটি ছানার কান্না শুনে সে ছানাটির সন্ধান পেয়েছিলেন। একই প্রজাতির বড় পাখি এসে ছানার মুখে পোকা গুঁজে দিলে তার কান্না থামল। সেদিন বিকেল সোয়া পাঁচটা পর্যন্ত গবেষণাকারী পাখিগুলোর সঙ্গে ছিলেন।
গবেষণায় দেখা গেছে, এই পাখির **মা-বাবা ও বাসার সন্ধান** পাওয়া গিয়েছিল। সর্বশেষ **২৫ ডিসেম্বর ২০২৩** তারিখে রাজশাহীর পদ্মার ১০ নম্বর চরে পাখিগুলোকে দেখা গিয়েছিল। গবেষণাকারী বলেন, এই পাখির কোনো প্রচলিত বাংলা নাম নেই। তবে কেউ কেউ বলেন **তামাপিঠ লাটোরা** বা **কসাই** নামে পরিচিত। পশ্চিমবঙ্গে এটি **পচানাক, ছোট কিলাতোড়, খয়েরি ক্যারকাটা** নামে পরিচিত। ইংরেজি নাম **বে-ব্যাক্ট শ্রাইক** (*Bay-backed Shrike*)।
"এই পাখির দেহের ওপরটা হলদেটে-বাদামি, তার ওপর থাকে ঘন আঁশ-ছোপ। দেহের নিচেও আঁশ-ছোপ দেখা যায়। এদের মূলত চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, ঢাকা ও চট্টগ্রামে দেখা যায়। কৃষিজমি, বাবলা ও শিশুগাছের সারি, কাঁটাযুক্ত ঝোপঝাড় ও হালকা বাগানে এরা বিচরণ করে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাবুডাইং (চাঁপাইনবাবগঞ্জ), পূর্বাচল আবাসিক এলাকা (ঢাকা), পদ্মার ১০ নম্বর চর (রাজশাহী)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অধ্যাপক আনাম আমিনুর রহমান (পাখি ও বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞ)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৭-২০ সেমি (লম্বা), ১৮-২৬ গ্রাম (ওজন), ৩-৬টি (ডিম), ১৪-১৫ দিন (ডিম ফোটার সময়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!