📌 অস্ট্রেলিয়ায় প্রথমবারের মতো সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত হয়েছে কার্যকর ডেঙ্গু টিকা ‘কিউডেঙ্গা’। বাংলাদেশে প্রতিদিন ডেঙ্গুতে শিশু মৃত্যু হচ্ছে, কিন্তু টিকা নেই। প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও মশা নিয়ন্ত্রণের অভাবে শিশুদের জীবন হুমকির মুখে রয়েছে
অস্ট্রেলিয়ায় প্রথমবারের মতো সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত হয়েছে জাপানি ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান তাকেদা তৈরি কার্যকর ডেঙ্গু টিকা ‘কিউডেঙ্গা’। কিন্তু বাংলাদেশে প্রতিদিন ডেঙ্গুতে শিশুদের মৃত্যু হচ্ছে, যেখানে এই টিকা নেই। ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে মারা গেল ৮ বছর ১০ মাস বয়সী রুমাইসা—একজন তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী। তার বাবা একজন নিবিড় পরিচর্যা বিশেষজ্ঞ, মা চক্ষুবিশেষজ্ঞ, কিন্তু ডেঙ্গুর আকস্মিক ছোবল থেকে সন্তানকে রক্ষা করতে পারেননি। এই মৃত্যুতে পরিবার ও বন্ধুদের মধ্যে শোকের তরঙ্গ ছড়িয়ে পড়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 অস্ট্রেলিয়ায় প্রথমবারের মতো সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত হয়েছে ডেঙ্গু টিকা ‘কিউডেঙ্গা’—চার বছর বা তার বেশি বয়সী সকলেই নিতে পারেন।
- 📌 বাংলাদেশে প্রতিদিন ডেঙ্গুতে শিশু মৃত্যু হচ্ছে, কিন্তু টিকা নেই—এই বৈপরীত্য প্রশ্ন তুলেছে।
- 📌 ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে মারা গেল ৮ বছর ১০ মাস বয়সী রুমাইসা—তিনি তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন।
- 📌 অস্ট্রেলিয়ায় ডেঙ্গু মূলত ভ্রমণকারীদের রোগ—৯৪ শতাংশ রোগী বিদেশ ভ্রমণ থেকে ফিরে এসেছেন।
- 📌 বাংলাদেশে মশা মারার কমিটি কার্যত নিষ্ক্রিয়—৪৮ হাজার কমিটি থাকার কথা থাকলেও বেশিরভাগই কাজ করছে না।
- 📌 ‘কিউডেঙ্গা’ টিকা আন্তর্জাতিক ট্রায়ালে ৮০ শতাংশ কার্যকর প্রমাণিত—হাসপাতালে ভর্তির ঝুঁকি কমায় ৯৫ শতাংশ।
📰 বিস্তারিত
১ অক্টোবর বিকেলে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে মারা গেল ৮ বছর ১০ মাস বয়সী রুমাইসা। তিনি তৃতীয় শ্রেণিতে পড়তেন। জ্বর এসেছিল ২৯ সেপ্টেম্বর, কিন্তু কোনো তীব্র লক্ষণ না দেখে মাত্র তিন দিনের মধ্যে সব শেষ হয়ে গেল। রুমাইসার বাবা একজন নিবিড় পরিচর্যা বিশেষজ্ঞ, মা চক্ষুবিশেষজ্ঞ—কিন্তু ডেঙ্গুর আকস্মিক ছোবল থেকে সন্তানকে রক্ষা করতে পারেননি। রুমাইসার পাঁচ বছর বয়সী ছোট বোন ফারজিন এখনো বুঝতে পারছেন না তার আপু কোথায় হারিয়ে গেল।
অস্ট্রেলিয়ায় প্রথমবারের মতো সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত হয়েছে ডেঙ্গু টিকা ‘কিউডেঙ্গা’। জাপানি ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান তাকেদা তৈরি এই টিকা চার বছর বা তার বেশি বয়সী সকলেই পারিবারিক চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র নিয়ে নিতে পারছেন। অস্ট্রেলিয়ায় ডেঙ্গু মূলত ভ্রমণকারীদের রোগ—২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত ১২ মাসে দেশটিতে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছিল ২ হাজার ৬৪১ জনের, যার ৯৪ শতাংশ বিদেশ ভ্রমণ থেকে ফিরে এসেছেন। তবে বাংলাদেশে প্রতিদিন ডেঙ্গুতে শিশু মৃত্যু হচ্ছে, কিন্তু টিকা নেই।
বাংলাদেশে মশা মারার কমিটি কার্যত নিষ্ক্রিয়—৪৮ হাজার কমিটি থাকার কথা থাকলেও বেশিরভাগই কাজ করছে না। বহু উপজেলায় ওয়ার্ড কমিটি নেই। প্রশাসনিক ব্যর্থতার কারণে শিশুদের জীবন হুমকির মুখে রয়েছে। ‘কিউডেঙ্গা’ টিকা আন্তর্জাতিক ট্রায়ালে ৮০ শতাংশ কার্যকর প্রমাণিত—হাসপাতালে ভর্তির ঝুঁকি কমায় ৯৫ শতাংশ। তবে টিকা সব সমাধান নয়—মশা নিয়ন্ত্রণ, পরিচ্ছন্নতা এবং জেলা পর্যায়ে শিশুদের বিশেষায়িত পরিচর্যা নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই।
"আমাদের হাসপাতাল ও আইসিইউর যে সীমিত সক্ষমতা, তাতে হাসপাতালে ভর্তির ঝুঁকি কমানোটাই এক বিরাট রক্ষাকবচ।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (স্কয়ার হাসপাতাল), অস্ট্রেলিয়া (সিডনি)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রুমাইসা (৮ বছর ১০ মাস), তার বাবা-মা (চিকিৎসক), অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকরা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮ বছর ১০ মাস (রুমাইসার বয়স), ২৯ সেপ্টেম্বর (জ্বর শুরু), ১ লাখ ৪০ হাজার (প্লাটিলেট), ২ হাজার ৬৪১ (অস্ট্রেলিয়ায় ডেঙ্গু আক্রান্ত), ৯৪ শতাংশ (বিদেশ ভ্রমণ থেকে সংক্রমিত), ৮০ শতাংশ (টিকার কার্যকারিতা), ৯৫ শতাংশ (হাসপাতালে ভর্তির ঝুঁকি কমানো)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!