📌 কোভিডে আব্বু হারানোর পর পিটিএসডিতে ভুগছিলেন আরিফ রহমান খান। আন্তর্জাতিক মানসিক স্বাস্থ্য দিবসে তিনি নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে বলেছেন কীভাবে নিজেকে গুছিয়ে নেন এবং আব্বুর স্বপ্নের পথে ফিরে আসেন
আব্বু হারানোর পর পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিজঅর্ডার (পিটিএসডি) থেকে নিজেকে বেরিয়ে আসার কঠিন পথে হাঁটছিলেন আরিফ রহমান খান। আন্তর্জাতিক মানসিক স্বাস্থ্য দিবসের এই বিশেষ দিনে তিনি নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে বলেছেন কীভাবে জীবনের সেই কঠিন সময়ে নিজেকে গুছিয়ে নেন এবং আব্বুর স্বপ্নের পথে আবার হাঁটতে শুরু করেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১০ অক্টোবর আন্তর্জাতিক মানসিক স্বাস্থ্য দিবসে আরিফ রহমান খান নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে বলেছেন পিটিএসডি থেকে বেরিয়ে আসার পথ
- 📌 কোভিডে আব্বু হারানোর পর পিটিএসডিতে ভুগছিলেন আরিফ, পড়াশোনা ছেড়ে দেবার চিন্তা করতেন
- 📌 "আব্বু আমাকে থেমে যাওয়ার জন্য বড় করেননি" — এই কথা মনে পড়লেই আবার পড়াশোনায় ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন
- 📌 ধ্যান ও ছোট ছোট পদক্ষেপের মাধ্যমে নিজেকে গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন
- 📌 মাইক্রোবায়োলজি বিভাগে ভর্তি হলেও চারপাশের সংশয়কে অগ্রাহ্য করে নিজের লক্ষ্য পূরণের পথে এগিয়ে যান
📰 বিস্তারিত
আরিফ রহমান খান বলেছেন, জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়টা ছিল যখন কোভিডে আব্বুকে হারান। সেই সময় মনে হয়েছিল জীবনের অর্থ বুঝতে পারছেন না। পিটিএসডিতে ভুগতে শুরু করলেন তিনি। পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার মতো মানসিক অবস্থায় ছিলেন না। ধীরে ধীরে নিজেকে সবকিছু থেকে গুটিয়ে নিতে শুরু করলেন। বন্ধু, সহপাঠী, আত্মীয়স্বজন—সবার কাছ থেকে দূরে সরে যেতে থাকলেন। বাইরে থেকে স্বাভাবিক মনে হলেও ভেতরে নিজের সঙ্গে লড়াই করছিলেন প্রতিনিয়ত।
ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় ভালো ছিলেন আরিফ। পরিবারও তার উপর অনেক স্বপ্ন দেখত। কিন্তু আব্বু হারানোর পর সেই প্রত্যাশাগুলো অসহনীয় হয়ে উঠল। একসময় মনে হয়েছিল পড়াশোনা ছেড়ে দেবার চিন্তা করবেন। কিন্তু আব্বুর স্বপ্নের কথা মনে পড়লেই নিজের ভেতরে নতুন করে তাগিদ অনুভব করলেন। বুঝতে পারলেন, আব্বুকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়, কিন্তু তাঁর স্বপ্নের পথে আবার হাঁটা সম্ভব।
পিটিএসডি থেকে বেরিয়ে আসার পথে প্রথমেই নিজের কষ্টকে স্বীকার করতে শিখলেন আরিফ। নিজেকে সময় দিলেন, অনুভূতিগুলো বুঝার চেষ্টা করলেন এবং মানসিকভাবে সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য প্রয়োজনীয় সাহায্য নিলেন। ধ্যানের মাধ্যমে মনকে শান্ত রাখার চেষ্টা করলেন। ছোট ছোট পদক্ষেপের মাধ্যমে ধীরে ধীরে নিজেকে গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলেন। প্রতিদিন অল্প করে পড়াশোনা করা, ছোট কোনো কাজ শেষ করা—এসবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠল।
"আব্বু আমাকে থেমে যাওয়ার জন্য বড় করেননি। তাঁর সেই স্বপ্নের কথা মনে পড়তেই নিজের ভেতরে নতুন করে একটা তাগিদ অনুভব করলাম।"
আব্বু হারানোর পর আরিফের মাইক্রোবায়োলজি বিষয়ে গভীর আগ্রহ তৈরি হয়। যে অদৃশ্য জীবাণু একটি মানুষের জীবন কেড়ে নিতে পারে, তার সম্পর্কে জানার ইচ্ছা তাকে তাড়িত করত। এই আগ্রহ থেকেই মাইক্রোবায়োলজি নিয়ে পড়ার সিদ্ধান্ত নেন। ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির (আইইউবি) মাইক্রোবায়োলজি বিভাগে ভর্তি হলেও চারপাশের সংশয়কে অগ্রাহ্য করে নিজের লক্ষ্য পূরণের পথে এগিয়ে যান।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: আন্তর্জাতিক মানসিক স্বাস্থ্য দিবস (১০ অক্টোবর)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আরিফ রহমান খান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০ (অক্টোবর)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!