📌 দেশের পাঁচ জেলায় অ্যানথ্রাক্সের প্রাদুর্ভাব ঘটেছে। গাইবান্ধা, রংপুর, দিনাজপুর, মেহেরপুর ও কুষ্টিয়া জেলায় শতাধিক মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। আইইডিসিআর অনুসন্ধান করছে রোগের কারণ
দেশের পাঁচ জেলায় অ্যানথ্রাক্সের প্রাদুর্ভাব ঘটেছে। গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা, রংপুর জেলার পীরগাছা উপজেলা, দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর উপজেলা, মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলা এবং কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলায় শতাধিক মানুষ অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হয়েছে। আইইডিসিআর অনুসন্ধান করছে রোগের কারণ ও প্রাদুর্ভাবের বিস্তার রোধের উপায়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় ৩১ জন রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, প্রথমে ৭ জনের পরে আরও ১৪ জন আক্রান্ত হয়েছে
- 📌 মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলায় আগস্টে ৩৮ জন ও সেপ্টেম্বরে ১৮ জন আক্রান্ত হয়েছে, সবাই রুগ্ণ পশুর মাংসের সংস্পর্শে আসার কারণে
- 📌 কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলায় দুই মাস আগে অন্তত ১৫ জন আক্রান্ত হয়েছে, সবাই রুগ্ণ গরুর মাংসের সংস্পর্শে আসা ইতিহাস রয়েছে
- 📌 অ্যানথ্রাক্সের জীবাণু মাটিতে থাকে, গরু-মহিষের মাংস খেয়ে মানুষ আক্রান্ত হয়, কিন্তু মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায় না
- 📌 আইইডিসিআর অনুসন্ধান দল সুন্দরগঞ্জে পাঠানো হয়েছে, গবাদিপশুকে ১০০ শতাংশ টিকার আওতায় আনতে হবে বলে জানিয়েছেন পরিচালক কাজী আহমেদ জাকী
📰 বিস্তারিত
গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় গতকাল মঙ্গলবার অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত ৩১ জন রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম জানান, প্রথমে ৭ জন রোগী হাসপাতালে আসে, পরে আরও ১৪ জনের আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। তিনি বলেন, ৯ সেপ্টেম্বর একটি রুগ্ণ গরু জবাই করে ১০০ ভাগ করা হয়। সেই গরুর মাংস যেসব বাড়িতে গেছে, সেসব বাড়ির লোকজনই আক্রান্ত হয়েছে। আগস্ট মাসেও একই ধরনের ঘটনা ঘটে, একটি রুগ্ণ গরু জবাই করে ৩০ জনের মধ্যে ৬ জন আক্রান্ত হয়েছিলেন।
মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলায় আগস্ট মাসে ৩৮ জন ও সেপ্টেম্বরে ১৮ জন অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হয়েছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান জানান, সবাই রুগ্ণ ছাগলের মাংস কাটাকাটি বা নাড়াচাড়ার কারণে আক্রান্ত হয়েছে। তবে তাদের কেউ হাসপাতালে ভর্তি হয়নি। আইইডিসিআর জানিয়েছে, সুন্দরগঞ্জের ঘটনাটি বড়, কিন্তু রংপুরের পীরগাছা বা দিনাজপুরের পার্বতীপুরের ঘটনাগুলো বিচ্ছিন্ন।
অ্যানথ্রাক্সের জীবাণু মাটিতে থাকে। গরু-মহিষের মতো তৃণভোজী প্রাণী ঘাস বা ঘাসজাতীয় খাবার খাওয়ার সময় আক্রান্ত হয়। অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত গরু বা মহিষের মাংস নাড়াচাড়া করলে বা কাঁচা মাংস খেলে মানুষের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তবে মানুষ থেকে মানুষে রোগ ছড়ায় না। আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক কাজী আহমেদ জাকী বলেন, অ্যানথ্রাক্সের লক্ষণ ত্বকে চুলকানিযুক্ত লাল ফুসকুড়ি হিসেবে দেখা দেয়, যা দ্রুত ফোসকায় পরিণত হয়। রোগ শনাক্ত না হলে বা ঠিক সময়ে চিকিৎসা না হলে মৃত্যু হতে পারে।
"অ্যানথ্রাক্স প্রতিরোধে ১০০ শতাংশ গবাদিপশুকে টিকার আওতায় আনতে হবে। এই দায়িত্ব পশুসম্পদ অধিদপ্তরের।"
আইইডিসিআর অনুসন্ধান দল সুন্দরগঞ্জে পাঠানো হয়েছে। তারা প্রাদুর্ভাবের কারণ জানার চেষ্টা করছে। পশুসম্পদ অধিদপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত গরু-মহিষ বা অন্য কোনো পশুকে আইনানুসারে মাটির নিচে পুঁতে ফেলতে হবে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: গাইবান্ধা (সুন্দরগঞ্জ), রংপুর (পীরগাছা), দিনাজপুর (পার্বতীপুর), মেহেরপুর (গাংনী), কুষ্টিয়া (দৌলতপুর)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. কামরুল ইসলাম (উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা), কাজী আহমেদ জাকী (আইইডিসিআর পরিচালক), হাবিবুর রহমান (স্বাস্থ্য কর্মকর্তা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩১ জন (সুন্দরগঞ্জে আক্রান্ত), ৩৮ জন (মেহেরপুরে আগস্টে), ১৮ জন (মেহেরপুরে সেপ্টেম্বরে), ১৫ জন (কুষ্টিয়ায়), ১০০ শতাংশ (গবাদিপশু টিকা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!