📌 বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন যে, প্রকৃতিতে কিছু বিশেষ মাছ পানি ছেড়ে ডাঙায় বেঁচে থাকতে পারে। কানাডার গবেষক অ্যান্ডি টার্কো ও জর্জ বার্গেসের নেতৃত্বে গবেষণা থেকে জানা যায়, ম্যানগ্রোভ রিভুলাস থেকে লাংফিশ পর্যন্ত ৭ প্রজাতি মাছের শরীরের বিশেষ বৈশিষ্ট্য তাদের পানির বাইরে টিকে থাকতে সাহায্য করে
বাংলায় ‘পানির মাছ ডাঙায় উঠলে’ কথাটি সাধারণত প্রতিকূল পরিস্থিতিতে খাপ খাইয়ে নিতে না পারার প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু প্রকৃতিতে এমন কিছু মাছ রয়েছে যারা পানি ছেড়ে ডাঙায় বেঁচে থাকতে পারে। বিজ্ঞানীরা গবেষণায় প্রমাণ করেছেন, ম্যানগ্রোভ রিভুলাস থেকে লাংফিশ পর্যন্ত ৭টি অনন্য মাছ প্রজাতি রয়েছে যারা পানির বাইরে স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকতে সক্ষম।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **ম্যানগ্রোভ রিভুলাস** মাছ গ্রীষ্মমণ্ডলীয় জলাশয়ে পানির তাপমাত্রা বেড়ে গেলে ডাঙায় উঠে শরীর ঠান্ডা করে — এরা বাতাস থেকে সরাসরি অক্সিজেন নিতে পারে
- 📌 **ওয়াকিং ক্যাটফিশ** (চাজিং মাছ) আমেরিকার ফ্লোরিডায় ক্ষতিকর প্রজাতি হিসেবে ছড়িয়ে পড়েছে — এদের শরীরে অতিরিক্ত শ্বাসযন্ত্র রয়েছে যা বাতাস থেকে অক্সিজেন নিতে সাহায্য করে
- 📌 **মাডস্কিপার** মাছের জীবনের ৯০% সময় কাদামাটিতে কাটে — এদের হাঁটার মতো বিশেষ পাখনা রয়েছে
- 📌 **ব্রাজিলের চার চোখা মাছ** পানির ওপর ভেসে পোকামাকড় শিকার করতে কাদায় হেঁটে বেড়ায়
- 📌 **লাংফিশ** পশ্চিম আফ্রিকার মাছ — খরা মৌসুমে শরীর থেকে তরল নিঃসরণ করে কাদার নিচে মাস-বছর বেঁচে থাকে
- 📌 **কিলিফিশ** মাছ ডাঙায় লাফিয়ে লাফিয়ে চলাচল করে — এদের চোখ দিয়ে পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করে পানির দিকে যাত্রা শুরু করে
- 📌 **গ্রুনিয়ন** মাছ প্রতি বসন্তে হাজার হাজার সংখ্যায় বালুচরে উঠে ডিম পাড়ে
📰 বিস্তারিত
কানাডার ইউনিভার্সিটি অব গুয়েলফের গবেষক অ্যান্ডি টার্কো ‘ম্যানগ্রোভ রিভুলাস’ মাছ নিয়ে গবেষণা করেছেন। তিনি জানান, গ্রীষ্মমণ্ডলীয় এলাকার জলাশয়ে পানির তাপমাত্রা বেড়ে গেলে এই মাছ ডাঙায় উঠে আসে শরীর ঠান্ডা করার জন্য। সাধারণ মাছের মতো ফুলকার সাহায্যে পানি থেকে অক্সিজেন নেয় না — বরং এরা বাতাস থেকে সরাসরি অক্সিজেন গ্রহণ করে। এদের ত্বকের বিশেষ গঠন লবণের ভারসাম্য বজায় রাখে এবং রক্তনালি থেকে বাতাসে অক্সিজেন শোষণ করে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ওয়াকিং ক্যাটফিশ বা চাজিং মাছের শরীরে অতিরিক্ত শ্বাসযন্ত্র রয়েছে যা ফুলকারকে সহায়তা করে বাতাস থেকে অক্সিজেন নিতে। ফ্লোরিডা মিউজিয়াম অব ন্যাচারাল হিস্ট্রির মৎস্যবিজ্ঞানী জর্জ বার্গেসের মতে, মুষলধারে বৃষ্টির পর এসব মাছ রাস্তা পার করতে দেখা যায়। এদের শরীর বাঁকিয়ে দোলানো এবং পেটের কাঁটাযুক্ত পাখনা ভর দিয়ে চলাফেরা করা হয়।
ব্রাজিলের চার চোখা মাছ পানির ওপর ভেসে থাকে এবং কাদার ওপর দিয়ে হেঁটে পোকামাকড় শিকার করে। অন্যদিকে, কিলিফিশ মাছ ডাঙায় লাফিয়ে লাফিয়ে চলাচল করে। বিজ্ঞানী বার্গেসের মতে, এদের লাফানোকে অগোছালো মনে হলেও তারা ঠিক জানে কোন দিকে যাচ্ছে। মামিচগ নামে এক প্রজাতি কিলিফিশ পানির বাইরে ডাঙায় চলে এলে চোখ দিয়ে পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করে পানির দিকে যাত্রা শুরু করে।
পশ্চিম আফ্রিকার লাংফিশ মাছের সবচেয়ে অবিশ্বাস্য বৈশিষ্ট্য হলো, খরা মৌসুমে পানি শুকিয়ে গেলে এদের শরীর থেকে তরল নিঃসরণ করে কাদার নিচে কোকুন তৈরি করে। মাস-বছর কাদার নিচে ঘুমন্ত অবস্থায় বেঁচে থাকে। বৃষ্টির পানি যখন কাদা ভিজিয়ে দেয়, তখন আবার বাইরে বেরিয়ে আসে। এদের দেখতে কাদার পুতুলের মতো লাগে।
"মাছ মূলত বেঁচে থাকার তাগিদেই পানি ছেড়ে বেরিয়ে আসে। পানিতে অক্সিজেনের অভাব বা শিকারি প্রাণী থেকে বাঁচতে এরা এমনটা করে। আবার খাবারের খোঁজে বা নতুন পানির সন্ধানে ডাঙায় ওঠে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: গ্রীষ্মমণ্ডলীয় জলাশয়, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, ব্রাজিল, পশ্চিম আফ্রিকা, আমেরিকার ফ্লোরিডা, কানাডা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: গবেষক অ্যান্ডি টার্কো, মৎস্যবিজ্ঞানী জর্জ বার্গেস
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭টি মাছ প্রজাতি, মাস-বছর কাদার নিচে বেঁচে থাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!