📌 ল্যানসেট কমিশনের নতুন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এআই ও পরমাণু যুদ্ধের মতো ১৭টি হুমকির কারণে ২১০০ সালের মধ্যে মানবজাতির বিলুপ্তির সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, বৈশ্বিক উষ্ণতা নিয়ন্ত্রণ ও উন্নয়ন সহায়তা বাড়িয়ে এই ঝুঁকি কমানো সম্ভব
বৈশ্বিক স্বাস্থ্য ও মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য এআই ও পরমাণু যুদ্ধের মতো ১৭টি হুমকির মধ্যে ২১০০ সালের মধ্যে মানবজাতির বিলুপ্তির সম্ভাবনা উঠে এসেছে। ‘দ্য ল্যানসেট কমিশন অন টোয়েন্টি-ফার্স্ট সেঞ্চুরি গ্লোবাল থ্রেটস টু হেলথ’ প্রতিবেদনে এই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এসব ঝুঁকি পরস্পর সম্পর্কিত এবং সমন্বিত পদক্ষেপ ছাড়া মানবস্বাস্থ্যের জন্য বিপদ বাড়বে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২১০০ সালের মধ্যে মানবজাতির বিলুপ্তির ঝুঁকি এআই ও পরমাণু যুদ্ধের মতো ১৭টি হুমকির কারণে, যেখানে এ দুটি ঝুঁকি শীর্ষে রয়েছে।
- 📌 ৭৫ বছরে ১০০ কোটি ড্যালিস হারানোর সম্ভাবনা বায়ুদূষণ, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স, শিশু অপুষ্টি ও জলবায়ু বিপর্যয়ের মতো ঝুঁকির কারণে।
- 📌 বৈশ্বিক উষ্ণতা ১.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমিত রাখলে ১৮৯ কোটি বছর সুস্থ জীবন বাঁচানো সম্ভব।
- 📌 সাব-সাহারান আফ্রিকা ৭০ শতাংশ ক্ষতির শিকার যদি উন্নয়ন সহায়তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
- 📌 যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য উন্নয়ন সহায়তা কাটছাঁটের ঘোষণা দিয়েছে।
📰 বিস্তারিত
‘দ্য ল্যানসেট কমিশন অন টোয়েন্টি-ফার্স্ট সেঞ্চুরি গ্লোবাল থ্রেটস টু হেলথ’ প্রতিবেদনে ৭৫ বছরের মধ্যে মানবস্বাস্থ্যের জন্য ১৭টি বড় হুমকির তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এতে এআই ও পরমাণু যুদ্ধের মতো ঝুঁকির কারণে মানবজাতির বিলুপ্তির সম্ভাবনা উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব ঝুঁকি পরস্পর সম্পর্কিত এবং সমন্বিত পদক্ষেপ ছাড়া মানবস্বাস্থ্যের জন্য বিপদ বাড়বে।
কমিশনের সহসভাপতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটনের ইনস্টিটিউট ফর হেলথ মেট্রিকস অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশনের পরিচালক ক্রিস্টোফার মারে বলেছেন, ‘আজ নেতারা যেসব সিদ্ধান্ত নেবেন, তা পরবর্তী প্রজন্মের স্বাস্থ্য ও সুস্থতার ওপর প্রভাব ফেলবে।’ প্রতিবেদনে প্রতিটি ঝুঁকির কারণে অসুস্থতা, অক্ষমতা বা অকালমৃত্যুর ফলে কত বছরের সুস্থ জীবন হারাতে পারে, তার হিসাব করা হয়েছে। এ পরিমাপকে বলা হয় ‘ডিজঅ্যাবিলিটি-অ্যাডজাস্টেড লাইফ ইয়ারস’ (ড্যালিস)।
প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, জৈব অস্ত্রসহ এআই ও পরমাণু যুদ্ধের কারণে মানবজাতির বিলুপ্তির সম্ভাবনা রয়েছে। পারমাণবিক সংঘাতের ফলে বায়ুমণ্ডলে কণা ছড়িয়ে সূর্যের আলো আটকে দেওয়া হতে পারে, যা দুর্ভিক্ষের কারণ হতে পারে। অন্যদিকে, এআইয়ের মাধ্যমে তৈরি জৈব অস্ত্রও মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি ৪.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে দেওয়া না গেলে, ১৮৯ কোটি বছর সুস্থ জীবন হারানো ঠেকানো সম্ভব। এছাড়া, উন্নয়ন সহায়তা বাড়িয়ে ১৫০ কোটি ড্যালিস হারানোর ঝুঁকি কমানো সম্ভব। বিশেষত, সাব-সাহারান আফ্রিকা ৭০ শতাংশ ক্ষতির শিকার হবে যদি উন্নয়ন সহায়তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
"আমরা এমন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজটি শুরু করিনি যে, আমরা আপনাদের ভয় দেখাতে চাই। বরং আমরা এ ধারণা থেকে কাজ শুরু করেছি যে, আপনি যদি আজ বিশ্বব্যাপী বহুপক্ষীয় পর্যায়ে কিংবা জাতীয় পর্যায়ে নীতিনির্ধারক হন, তাহলে এসব সম্ভাব্য হুমকির মুখোমুখি হতে পারেন। আর আপনি পদক্ষেপ নিলে কতটা পরিবর্তন আনতে পারবেন, তার মাত্রাও এখানে তুলে ধরা হয়েছে।" — ইব্রাহিম আবুবকর, ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের সংক্রামক রোগের মহামারিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বিশ্বব্যাপী (যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সাব-সাহারান আফ্রিকা)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ক্রিস্টোফার মারে, ইব্রাহিম আবুবকর, ল্যানসেট কমিশনের বিশেষজ্ঞরা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৭টি হুমকি, ৭৫ বছর, ১০০ কোটি ড্যালিস, ৪.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ১৮৯ কোটি বছর, ১৫০ কোটি ড্যালিস, ৭০ শতাংশ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!