📌 চিকিৎসাবিজ্ঞানে এআই ব্যবহারের গতি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভিন্ন ভিন্ন। চীন ৭১ শতাংশ চিকিৎসক এআই ব্যবহার করলেও যুক্তরাষ্ট্রে মাত্র ৩৬ শতাংশ। ভারতের রোগীরা এআই ব্যবহারে শীর্ষে, ৮৫ শতাংশ রোগী স্বাস্থ্যসেবায় এআই ব্যবহার করছে। বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন এআই চিকিৎসা দক্ষতা বাড়াবে, কিন্তু ৮৮ শতাংশ চিকিৎসক উদ্বিগ্ন মানবিক স্পর্শের হারিয়ে যাওয়ার বিষয়ে।
চিকিৎসাবিজ্ঞানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিপ্লবের গতি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আলাদা আলাদা। বিকাশমান অর্থনীতির দেশগুলো এআই গ্রহণে দ্রুতগতিতে অগ্রসর হলেও উন্নত দেশগুলো কিছুটা সাবধানে এগিয়ে যাচ্ছে। ‘এলসেভিয়ার্স ক্লিনিশিয়ান অব দ্য ফিউচার-২০২৫’ জরিপে দেখা গেছে, বিশ্বের ১০৯টি দেশের ২ হাজার ২০৬ জন চিকিৎসকের মধ্যে ৪৮ শতাংশ এআই ব্যবহার করছেন। এই সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। এ ক্ষেত্রে চীন শীর্ষে দাঁড়িয়েছে, যেখানে ৭১ শতাংশ চিকিৎসক চিকিৎসাসেবায় এআই ব্যবহার করছেন। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে মাত্র ৩৬ শতাংশ এবং যুক্তরাজ্যে ৩৪ শতাংশ চিকিৎসক এআই ব্যবহার করছেন, যা বিশ্বের সর্বনিম্ন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বিশ্বের ১০৯টি দেশের ২ হাজার ২০৬ জন চিকিৎসকের মধ্যে ৪৮ শতাংশ এআই ব্যবহার করছেন, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণ বেড়েছে
- 📌 চীন ৭১ শতাংশ চিকিৎসক এআই ব্যবহার করলেও যুক্তরাষ্ট্রে মাত্র ৩৬ শতাংশ এবং যুক্তরাজ্যে ৩৪ শতাংশ চিকিৎসক এআই ব্যবহার করছেন
- 📌 ভারতের রোগীরা এআই ব্যবহারে শীর্ষে, ৮৫ শতাংশ রোগী স্বাস্থ্যসেবায় এআই ব্যবহার করছেন
- 📌 ব্রাজিলে ৬৭ শতাংশ এবং চীনে ৬২ শতাংশ রোগী এআই ব্যবহার করছেন, জাপানে এই হার মাত্র ৩৪ শতাংশ
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রের ৮১ শতাংশ চিকিৎসক এআই ব্যবহার করছেন, যা ২০২৩ সালের ৩৮ শতাংশ থেকে বেড়েছে
- 📌 ৮৮ শতাংশ চিকিৎসক উদ্বিগ্ন, এআইয়ের অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা নবীন চিকিৎসকদের পেশাগত দক্ষতা কমাতে পারে
📰 বিস্তারিত
বিশ্বের চিকিৎসাবিজ্ঞানে এআই ব্যবহারের গতি দেশ অনুযায়ী ভিন্ন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই চিকিৎসকদের কাজের সময় বাঁচিয়ে দ্রুত ও নিখুঁত রোগনির্ণয়ে সহায়তা করবে। তবে এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে রোগীদের দিকেও নজর দেওয়া যায়। বোস্টন কনসালটিং গ্রুপের জরিপে দেখা গেছে, বিশ্বজুড়ে প্রায় ৫৭ শতাংশ মানুষ নিজস্ব স্বাস্থ্যসেবায় এআই ব্যবহার করছেন। এ ক্ষেত্রে ভারত শীর্ষে দাঁড়িয়েছে, যেখানে ৮৫ শতাংশ রোগী এআই ব্যবহার করেন। এরপর ব্রাজিলে ৬৭ শতাংশ এবং চীনে ৬২ শতাংশ রোগী এআই ব্যবহার করছেন। জাপানে এই হার মাত্র ৩৪ শতাংশ। প্রজন্মভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এআই হেলথ টুলের গ্রহণযোগ্যতা বেশি। জেন-জি এবং মিলেনিয়ালসের মধ্যে এআই ব্যবহারকারীর হার যথাক্রমে ৭৮ শতাংশ এবং ৭১ শতাংশ।
চিকিৎসকদের প্রধান কাজ এআই ব্যবহার করা হচ্ছে প্রাত্যহিক প্রশাসনিক ও সময়সাপেক্ষ কাজ সহজ করতে। ফিলিপাইনের ফিউচার হেলথ ইনডেক্স ২০২৬ অনুযায়ী, এআই ব্যবহারের ফলে চিকিৎসকেরা সপ্তাহে গড়ে অতিরিক্ত ৫ জন রোগী দেখার বাড়তি সময় পাচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রের এফডিএ এআই-চালিত মেডিকেল ডিভাইসের অনুমোদন দিয়েছে, তবে এগুলোর মধ্যে কোনোটিই জেনারেটিভ এআই বা লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল ব্যবহার করেনি। অন্যদিকে, ইউরোপের সুইডেন ও যুক্তরাজ্য স্তন ক্যানসার পরীক্ষায় এআই ব্যবহার করে সাফল্য পেয়েছে। সুইডেনের এমএএসএআই ট্রায়ালে ১ লাখের বেশি নারীর ম্যামোগ্রাম পরীক্ষায় এআই ব্যবহারের ফলে চিকিৎসকদের কাজের চাপ ৪৪ শতাংশ কমেছে এবং ২৯ শতাংশ বেশি ক্যানসার শনাক্ত হয়েছে। যুক্তরাজ্যে এআই ব্যবহারের মাধ্যমে ক্যানসার ধরা পড়ার হার ১০.৪ শতাংশ বেড়েছে এবং ফলাফল জানানোর সময় ১৪ দিন থেকে কমে মাত্র ৩ দিনে নেমে এসেছে।
আমেরিকান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের ২০২৬ সালের জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ৮১ শতাংশ চিকিৎসক এখন প্র্যাকটিসে এআই ব্যবহার করছেন, যা ২০২৩ সালের ৩৮ শতাংশ থেকে বেড়েছে। প্রায় ৭৫ শতাংশ চিকিৎসক মনে করেন, এআই স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়াচ্ছে। তবে এই দ্রুত অগ্রগতির মাঝেও ৮৮ শতাংশ চিকিৎসক উদ্বিগ্ন, এআইয়ের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতার ফলে বিশেষ করে নবীন চিকিৎসকদের পেশাগত দক্ষতা ও মেধা লোপ পেতে পারে।
"প্রযুক্তি যেখানে রোগনির্ণয় ও প্রাতিষ্ঠানিক চাপ কমাচ্ছে, সেখানে মানবিক স্পর্শ ও চিকিৎসকদের নিজস্ব মেধার ভারসাম্য বজায় রাখাটাই ভবিষ্যতের মূল চ্যালেঞ্জ।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বিশ্বের ১০৯টি দেশ (চীন, যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, ব্রাজিল, জাপান, যুক্তরাজ্য)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: চিকিৎসক, রোগী, বিশেষজ্ঞ, জেন-জি, মিলেনিয়ালস
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০৯টি দেশ, ২ হাজার ২০৬ জন চিকিৎসক, ৪৮ শতাংশ, ৭১ শতাংশ, ৩৬ শতাংশ, ৮৫ শতাংশ, ৫৭ শতাংশ, ৮১ শতাংশ, ৮৮ শতাংশ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!