📌 হামে মৃত্যুবরণকারী শিশুদের ৯১.৪% এমআর টিকা গ্রহণ করেনি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সমীক্ষা জানায়, আক্রান্ত শিশুদের ৮০% টিকা নেয়নি। ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে হামের মৃত্যুর হার সর্বোচ্চ ৩১%। সরকার বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে
হামের সংক্রমণে মারা যাওয়া শিশুদের ৯১ দশমিক চার শতাংশ কোনো এমআর (হাম-রুবেলা) টিকা গ্রহণ করেনি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালিত এক সমীক্ষায় এ তথ্য উঠে এসেছে। এছাড়াও, নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত শিশুদের ৮০ শতাংশেরও কোনো এমআর টিকা নেওয়ার তথ্য নেই। সমীক্ষায় বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ছয় মাসের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে হামে আক্রান্তের হার ১০ শতাংশ হলেও মৃত্যুর হার ২০ শতাংশ। ছয় থেকে নয় মাস বয়সী শিশুদের আক্রান্তের হার ১৮ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার সর্বোচ্চ ৩১ শতাংশ। নয় থেকে ১২ মাস বয়সীদের মধ্যে আক্রান্তের হার ১২ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ২৫ শতাংশ। অন্যদিকে, এক থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের আক্রান্তের হার সর্বোচ্চ ২৮ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১৮ শতাংশ।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 হামে মৃত্যুবরণকারী শিশুদের ৯১.৪ শতাংশ এমআর টিকা গ্রহণ করেনি
- 📌 আক্রান্ত শিশুদের ৮০ শতাংশেরও কোনো এমআর টিকা নেওয়ার তথ্য নেই
- 📌 ছয় থেকে নয় মাস বয়সী শিশুদের মধ্যে হামের মৃত্যুর হার সর্বোচ্চ ৩১ শতাংশ
- 📌 চলতি বছরের এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়েছে ২ লাখ ৪ হাজার ৩০০ শিশু
- 📌 একই সময়ে মারা গেছে ১ হাজার ৭৬ জন শিশু
- 📌 ডেঙ্গু ও হামে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৫ হাজার ২২৭
- 📌 বুধবার হামের উপসর্গ নিয়ে ১১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে
- 📌 চলতি সেপ্টেম্বরে হামে মারা গেছে ১০৩ শিশু, আক্রান্ত হয়েছে ২৬ হাজার ৯৯৭ জন
- 📌 বিশেষজ্ঞরা টিকাদানে ঘাটতি ও নিয়মিত টিকাদানের কাভারেজ কমে যাওয়াকে দায়ী করছেন
- 📌 সরকার আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে
📰 বিস্তারিত
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে দুই লাখ চার হাজার ৩০০ শিশু। এ সময়ে মারা গেছে এক হাজার ৭৬ জন। এর সঙ্গে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত শিশুদের হিসাব যোগ করলে চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে দুই রোগে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুই লাখ ১৫ হাজার ২২৭। মৃত্যু হয়েছে এক হাজার ১০৩ শিশুর। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকাদানে ঘাটতি, দুই ডোজের মধ্যে ইমিউনিটি গ্যাপ, নিয়মিত টিকাদানের কাভারেজ কমে যাওয়া এবং টিকার আওতায় আসা শিশুর প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে তথ্যগত অসঙ্গতির কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়েছে।
ইপিআইয়ের উপপরিচালক ডা. মোহাম্মদ সাব্বির হায়দার বলেন, ছয় মাসের কম বয়সী শিশুরা সাধারণত মায়ের কাছ থেকে পাওয়া অ্যান্টিবডির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু বর্তমানে টিকা নেওয়ার বয়স হওয়ার আগেই উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিশু হামে আক্রান্ত হচ্ছে। ফলে অনেক শিশুর ক্ষেত্রে মাতৃ-অ্যান্টিবডিও পর্যাপ্ত সুরক্ষা দিতে পারছে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনায় হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার অন্তত ১০টি কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে টিকাদানে ঘাটতি, দুই ডোজের মধ্যে ইমিউনিটি গ্যাপ, শিশুর সংখ্যা নির্ধারণে তথ্যগত অসঙ্গতি, টিকার সরবরাহ সংকট, আগাম সতর্কতার ঘাটতি, নিয়মিত টিকাদানে ভাটা, মাঠকর্মীদের অসন্তোষ, টিকাদানের কাভারেজ যাচাইয়ে দুর্বল নজরদারি, টিকা নেওয়ার পরও আক্রান্তদের বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানের ঘাটতি এবং অপুষ্টি ও চিকিৎসায় বিলম্ব।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, হামের প্রথম ঢেউ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসার আগেই দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়েছে। সংক্রমণ দ্রুত বাড়ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এখন টিকাদানকে প্রধান সমাধান হিসেবে গুরুত্ব দিতে হবে। তার মতে, শুধু ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশু নয়, ছয় মাস থেকে ১৫ বছর বয়সী সব শিশু-কিশোরকে টিকার আওতায় আনা প্রয়োজন। মহামারি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে অন্তত ৯৫ শতাংশ শিশুকে টিকা দেওয়ার প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
"ছয় মাসের কম বয়সী শিশুরা মায়ের অ্যান্টিবডির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু টিকা নেওয়ার বয়স হওয়ার আগেই তারা হামে আক্রান্ত হচ্ছে। ফলে মাতৃ-অ্যান্টিবডিও পর্যাপ্ত সুরক্ষা দিতে পারছে না"
চলতি বছরের মার্চে হাম ছড়িয়ে পড়ার পর উচ্চঝুঁকিতে থাকা ৩০টি উপজেলায় জরুরি টিকাদান শুরু করে সরকার। পরে ২০ এপ্রিল থেকে ২০ মে পর্যন্ত সারাদেশে ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের গণটিকা দেওয়া হয়। এর লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক কোটি ৮০ লাখ ১৫ হাজার শিশু। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, ওই কর্মসূচিতে এক কোটি ৯৬ লাখ ৬১ হাজারের বেশি শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। তবে একই বয়সী শিশুদের গত জুনে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর কর্মসূচিতে অংশ নেয় প্রায় দুই কোটি ৪০ লাখ শিশু। টিকাদানের হিসাবের সঙ্গে মাঠপর্যায়ে থাকা শিশুর সংখ্যার এত বড় পার্থক্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ (স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ইপিআই কর্মসূচি)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডা. মোহাম্মদ সাব্বির হায়দার (ইপিআই উপপরিচালক), ডা. মুশতাক হোসেন (জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৯১.৪%, ৮০%, ৩১%, ২ লাখ ৪ হাজার ৩০০, ১ হাজার ৭৬, ২ লাখ ১৫ হাজার ২২৭, ১ হাজার ১০৩, ২৬ হাজার ৯৯৭, ১০৩, ৩৪ লাখ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!