📌 গাজীপুর সাফারি পার্কে ২০১৭ সালে উদ্ধার করা দুটি লেপার্ডের কোয়ারেন্টিন শেষ হলেও তাদের জন্য বেষ্টনী না থাকায় বের করা সম্ভব হচ্ছে না। বিশ্ব প্রাণী দিবসের এই দিনে এই দুটি লেপার্ডের অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কর্মী ও বিজ্ঞানীরা
বিশ্ব প্রাণী দিবসের এই দিনে গাজীপুর সাফারি পার্কের একটি ছোটখাটো খাঁচায় বন্দী দুটি লেপার্ডের অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কর্মীরা। এই দুটি লেপার্ডের কোয়ারেন্টিন শেষ হলেও তাদের জন্য আলাদা বেষ্টনী না থাকায় বের করা সম্ভব হচ্ছে না। ২০১৭ সালে খুলনা থেকে পাচারের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উদ্ধার করে এই দুটি লেপার্ড শাবককে, কিন্তু আজও তারা সেই কোয়ারেন্টিন খাঁচায় বন্দী অবস্থায় রয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৯ বছর ধরে কোয়ারেন্টিনে: ২০১৭ সালে উদ্ধার করা দুটি লেপার্ডের কোয়ারেন্টিন শেষ হলেও তাদের বের করা সম্ভব হচ্ছে না।
- 📌 বন্দী অবস্থায় পূর্ণবয়স্ক: শাবক থেকে পূর্ণবয়স্ক হলেও তাদের আবাসন পরিবর্তন হয়নি।
- 📌 দর্শনার্থীদের বঞ্চনা: লেপার্ড দেখার সুযোগ না থাকায় দর্শনার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছেন।
- 📌 উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনা বাস্তবায়িত হয়নি: ২০২৫ সালের ৯ এপ্রিলে উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের নির্দেশনা সত্ত্বেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
- 📌 জিরাফের মৃত্যুতে সাফারি পার্কের আকর্ষণ হ্রাস: ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে সাফারি পার্কের সব জিরাফের মৃত্যু হয়েছে, যা দর্শনার্থীদের বিশেষ করে শিশুদের আকর্ষণ হ্রাস করেছে।
📰 বিস্তারিত
গাজীপুর সাফারি পার্কের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে বন্দী দুটি লেপার্ডের অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কর্মীরা। এই দুটি লেপার্ডকে ২০১৭ সালে খুলনা থেকে পাচারের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উদ্ধার করে। পরে তৎকালীন খুলনা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা তাদের গাজীপুর সাফারি পার্কে পাঠান। সেখানে তিন সপ্তাহের কোয়ারেন্টিনের জন্য তাদের বন্য প্রাণী হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে রাখা হয়েছিল। শাবক থেকে এখন পূর্ণবয়স্ক হলেও তাদের আবাসনের পরিবর্তন হয়নি।
সাফারি পার্কের বন্য প্রাণী পরিদর্শক মো. সারোয়ার হোসেন বলেছেন, লেপার্ড চমৎকার লাফাতে পারে এবং ২০ ফুট পর্যন্ত উপড়ে উঠতে পারে। তারা গাছে চড়া ও পানিতে সাঁতার কাটতে পছন্দ করে। কিন্তু বর্তমান অবস্থায় তাদের কোনো সুযোগ নেই। অল্প জায়গায় বন্দী থাকায় মানুষ দেখলেই তারা ক্ষিপ্ত হয়ে লোহার গ্রিলে আছড়ে পড়ছে।
২০২৫ সালের ৯ এপ্রিল গাজীপুর সাফারি পার্ক পরিদর্শন শেষে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান লেপার্ড দুটির জন্য আবাসন তৈরির নির্দেশনা দিয়েছিলেন। এ ছাড়া একাধিক উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনা থাকলেও বাস্তবে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
পিপল ফর অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের (পিএডব্লিউ) জেনারেল সেক্রেটারি ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া লেপার্ডের জন্য প্রয়োজনীয় ইনক্লোজারের অভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, লেপার্ডের জন্য প্রয়োজনীয় উচ্চতা ও সূর্যের আলো প্রবেশের সুযোগ নিশ্চিত হয়নি। তিনি আরও বলেছেন, বিড়ালজাতীয় প্রাণী সাধারণত নিচে থাকতে চায় না; সুযোগ পেলে উঁচু জায়গায় অবস্থান করে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও হালদা নদী গবেষক ড. মো. মনজুরুল কিবরিয়া বলেছেন, বন্যেরা বনে সুন্দর বলে একটি কথা আছে। বিশেষ করে শাবকেরা বন্দী অবস্থায় থাকলে তাদের স্বাভাবিক আচরণ ভুলে যাবে। তারা শিকার ধরা ভুলে গেলে টিকে থাকতে পারবে না। এ জন্য অবশ্যই তাদের বনে ছেড়ে দেওয়া জরুরি।
গাজীপুর সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. তারেক রহমান বলেছেন, নির্দিষ্ট বেষ্টনী না থাকায় লেপার্ড দুটিকে দর্শনার্থীদের সামনে উপস্থাপন করা যাচ্ছে না। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
সাফারি পার্কের প্রকল্প পরিচালক ও বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এম কে এম ইকবাল হোছাইন চৌধুরী বলেছেন, সরকারের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল সম্প্রতি স্থানটি পরিদর্শন করেছে এবং সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
"বন্যেরা বনে সুন্দর বলে একটি কথা আছে। বিশেষ করে শাবকেরা বন্দী অবস্থায় থাকলে তাদের স্বাভাবিক আচরণ ভুলে যাবে। তারা শিকার ধরা ভুলে গেলে টিকে থাকতে পারবে না।"
"লেপার্ডের জন্য প্রয়োজনীয় ইনক্লোজারের অভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছি। তারা আপাতদৃষ্টিতে সুস্থ থাকলেও প্রয়োজনীয় আবাসন নিশ্চিত হয়নি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: গাজীপুর সাফারি পার্ক, গাজীপুর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. সারোয়ার হোসেন, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, ড. মো. মনজুরুল কিবরিয়া, এম কে এম ইকবাল হোছাইন চৌধুরী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৯ বছর (কোয়ারেন্টিন), ৪ অক্টোবর (বিশ্ব প্রাণী দিবস), ২০ ফুট (লেপার্ডের লাফ), ১০টি (জিরাফ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!