📌 অণুর বিপরীত প্রতিচ্ছবির মধ্যে জীবনের রহস্য বোঝার জন্য ফরাসি বিজ্ঞানী হেনরি কাগন ও জাপানি বিজ্ঞানী কেনসো সোয়াইকে ২০২৬ সালের রসায়নে নোবেল পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে। তাদের আবিষ্কার ওষুধ তৈরিতে বিপ্লবী ভূমিকা রাখবে
বিজ্ঞানের একটি দীর্ঘদিনের রহস্য ‘অণুর প্রতিচ্ছবি’ সম্পর্কে গবেষণায় অগ্রগতি সাধনের জন্য ফরাসি রসায়নবিদ হেনরি কাগন ও জাপানি রসায়নবিদ কেনসো সোয়াইকে ২০২৬ সালের রসায়নে নোবেল পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে। বাংলাদেশ সময় বিকেল পৌনে ৪টায় রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস তাদের নাম ঘোষণা করে। এই পুরস্কার তাদের অণুর অসমমিত সংশ্লেষণে স্বয়ংক্রিয় অনুঘটন প্রক্রিয়া আবিষ্কারের জন্য দেওয়া হয়েছে, যা জীবনের রসায়নে একটি নির্দিষ্ট প্রতিচ্ছবি বেছে নেওয়ার গোপনীয়তা উন্মোচন করেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২০২৬ রসায়ন নোবেল পেয়েছেন ফরাসি বিজ্ঞানী হেনরি কাগন ও জাপানি বিজ্ঞানী কেনসো সোয়াই অণুর প্রতিচ্ছবির রহস্য ভেদে।
- 📌 তাদের আবিষ্কার জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অরৈখিক প্রভাব ও অসমমিত সংশ্লেষণ নিয়ে, যা জীবনের জন্য একটি নির্দিষ্ট প্রতিচ্ছবি বেছে নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে।
- 📌 ১৯৮৬ সালে হেনরি কাগন একটি পদ্ধতি আবিষ্কার করেন যা প্রতিচ্ছবি তৈরিতে বেশি নিয়ন্ত্রণ দেয়, আর ১৯৯৫ সালে কেনসো সোয়াই স্বয়ংক্রিয় অনুঘটন প্রক্রিয়া নিয়ে গবেষণা প্রকাশ করেন।
- 📌 এই আবিষ্কার ওষুধ তৈরিতে বিপ্লবী ভূমিকা রাখবে কারণ একই রাসায়নিক উপাদানের দুই প্রতিচ্ছবির মধ্যে একটি কার্যকর ও অন্যটি নিরাপদ নয়।
- 📌 ২০২৫ সালে রসায়নে নোবেল পেয়েছিলেন সুসুমু কিতাগাওয়া, রিচার্ড রবসন ও ওমর এম ইয়াগি ধাতু-জৈব কাঠামো উদ্ভাবনের জন্য।
📰 বিস্তারিত
অণুর প্রতিচ্ছবি সম্পর্কে গবেষণায় অগ্রগতি সাধনের জন্য এই পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে। অণু দুটি আয়না-প্রতিচ্ছবি রূপে থাকতে পারে, কিন্তু জীবদেহে সাধারণত একটি রূপই দেখা যায়। এই বৈশিষ্ট্যকে ‘হোমোকাইরালিটি’ বলা হয়। কেন জীবনের রসায়নে একটি নির্দিষ্ট প্রতিচ্ছবি বেছে নেয়, তা দীর্ঘদিনের প্রশ্ন ছিল। হেনরি কাগন ১৯৮৬ সালে একটি পদ্ধতি আবিষ্কার করেন, যার মাধ্যমে একটি প্রতিচ্ছবি তৈরিতে আগের তুলনায় অনেক বেশি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়। পরে কেনসো সোয়াই ১৯৯৫ সালে এমন একটি রাসায়নিক বিক্রিয়ার নকশা নিয়ে গবেষণা প্রকাশ করেন, যেখানে একটি নির্দিষ্ট প্রতিচ্ছবি তৈরির সম্ভাবনা দেখা যায়। ২০০৩ সালে তিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি নির্দিষ্ট প্রতিচ্ছবি তৈরির গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জন করেন।
এই আবিষ্কার শুধু মৌলিক রসায়নে সীমাবদ্ধ নয়, ওষুধ তৈরির ক্ষেত্রেও এর গুরুত্ব অপরিসীম। কারণ একই রাসায়নিক উপাদানের দুই প্রতিচ্ছবির মধ্যে একটি কাঙ্ক্ষিত কার্যকর ফল দিতে পারে, অন্যটি ভিন্ন আচরণ করতে পারে। ফলে নিরাপদ ও কার্যকর ওষুধ তৈরিতে এই জ্ঞান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
২০২৫ সালে ধাতু-জৈব কাঠামো উদ্ভাবনের জন্য সুসুমু কিতাগাওয়া, রিচার্ড রবসন ও ওমর এম ইয়াগিকে রসায়নে নোবেল পুরস্কার প্রদান করা হয়েছিল।
"জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অরৈখিক প্রভাব এবং অসমমিত সংশ্লেষণে স্বয়ংক্রিয় অনুঘটন প্রক্রিয়া আবিষ্কারের জন্য এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সুইডেন (রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: হেনরি কাগন (ফরাসি), কেনসো সোয়াই (জাপানি)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০২৬ (নোবেল পুরস্কার), ১৯৮৬ ও ১৯৯৫ (গবেষণার বছর)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!