📌 বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন মাত্র ১৫ মিনিটের রক্তপরীক্ষা যা শিশুর জ্বরের কারণ শনাক্ত করে অ্যান্টিবায়োটিকের অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার রোধ করতে পারে। ইতালি ও ফ্রান্সের গবেষণায় দেখা গেছে, ৮৫% শিশুদের জ্বর ভাইরাসের কারণে হয়, অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজন হয় না
বিজ্ঞানীরা একটি বিপ্লবী রক্তপরীক্ষা আবিষ্কার করেছেন যা মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যে শিশুর জ্বরের আসল কারণ শনাক্ত করতে পারে। এই আবিষ্কারটি অ্যান্টিবায়োটিকের অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার রোধ করে শিশুদের জীবন বাঁচাতে পারে। বর্তমানে, নবজাতকদের জ্বর দেখে চিকিৎসকরা সাধারণত কড়া অ্যান্টিবায়োটিক প্রদান করেন, কিন্তু পরিসংখ্যান দেখায় যে এই ওষুধের প্রয়োজন হয় মাত্র ১৫ শতাংশ শিশুদের জন্য। বাকি ৮৫ শতাংশ শিশু ভাইরাসের কারণে জ্বর পায়, যার জন্য অ্যান্টিবায়োটিক কার্যকর নয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মাত্র ১৫-২০ মিনিটের রক্তপরীক্ষা দিয়ে শিশুর জ্বরের কারণ শনাক্ত করা যাবে — ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাসের সংক্রমণ
- 📌 ৮৫ শতাংশ শিশুর জ্বর ভাইরাসের কারণে হয়, অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজন হয় না
- 📌 পরীক্ষায় শনাক্ত করা হয় শ্বেতকণিকার দুটি প্রোটিন CD64 এবং CD169 এর মাত্রা
- 📌 ইতালির গবেষক তোমাসো বেলিনি এবং ফ্রান্সের ফ্যাব্রিস ম্যালেরগু নেতৃত্বাধীন দলের গবেষণায় ৮৫ জন নবজাতকের উপর পরীক্ষা চালানো হয়
- 📌 ৯০ দিনের কম বয়সী ৮৫ জন শিশুর মধ্যে ১৫ জনের ব্যাকটেরিয়া, ৪৪ জনের ভাইরাস এবং ২৬ জনের কোনো সংক্রমণ পাওয়া যায়নি
📰 বিস্তারিত
নবজাতকদের জ্বর দেখে বাবা-মায়েরা এবং চিকিৎসকরা সবসময়ই ঝুঁকি নিতে চান না। ইতালির জিয়ান্নিনা গ্যাসিলিনি ইনস্টিটিউটের গবেষক তোমাসো বেলিনি বলেছেন, জ্বর নিয়ে আসা শিশুদের প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত সবসময়ই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ধরা হয়। এই ঝুঁকি মোকাবেলা করতে চিকিৎসকরা প্রায়শই অ্যান্টিবায়োটিক প্রদান করেন, কিন্তু এই ওষুধের প্রয়োজন হয় মাত্র ১৫ শতাংশ শিশুদের জন্য। বাকি ৮৫ শতাংশ শিশু ভাইরাসের কারণে জ্বর পায়, যার জন্য অ্যান্টিবায়োটিক কার্যকর নয়।
বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন যে, শ্বেতকণিকার দুটি বিশেষ প্রোটিন CD64 এবং CD169 এর মাত্রা মাপে জ্বরের কারণ শনাক্ত করা যায়। যখন ব্যাকটেরিয়া শরীরে হামলা চালায়, তখন নিউট্রোফিল নামের শ্বেতকণিকার গায়ে CD64 প্রোটিনের মাত্রা বেড়ে যায়। অন্যদিকে, ভাইরাসের সংক্রমণে মনোসাইট শ্বেতকণিকার CD169 প্রোটিনের মাত্রা বাড়ে। এই প্রোটিনের মাত্রা মেপে বিজ্ঞানীরা ৮৫ জন নবজাতকের উপর পরীক্ষা চালিয়ে ১৫ জনের ব্যাকটেরিয়া, ৪৪ জনের ভাইরাস এবং ২৬ জনের কোনো সংক্রমণ পাওয়া যায়নি।
ফ্রান্সের মার্সেই শহরের বেকম্যান কুল্টার লাইফ সায়েন্সেসের গবেষক ফ্যাব্রিস ম্যালেরগু গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে এই প্রোটিন টেস্ট নিয়ে কাজ করছেন। ২০২১ সালে তাঁর দল বয়স্ক রোগীদের ওপর এই পরীক্ষা চালিয়ে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছিলেন। কিন্তু শিশুদের ওপর, বিশেষ করে নবজাতকদের ওপর এটি ঠিকমতো কাজ করবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ ছিল। কারণ, নবজাতকদের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা তখনো পুরোপুরি গঠিত হয় না। তবে এই গবেষণায় দেখা গেছে, এই পরীক্ষা নবজাতকদের ক্ষেত্রেও কার্যকর।
"জ্বর নিয়ে আসা শিশুদের প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত সব সময়ই চরম ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ধরা হয়।" — তোমাসো বেলিনি, ইতালির জিয়ান্নিনা গ্যাসিলিনি ইনস্টিটিউটের গবেষক
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ইতালি (জিয়ান্নিনা গ্যাসিলিনি ইনস্টিটিউট), ফ্রান্স (প্যারিস ও মার্সেই)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: তোমাসো বেলিনি (গবেষক), ফ্যাব্রিস ম্যালেরগু (গবেষক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৫ মিনিট (পরীক্ষা সময়), ৮৫% (ভাইরাসের কারণে জ্বর), ১৫% (ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ), ৮৫ জন (পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিশু), ১৫ জন (ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ), ৪৪ জন (ভাইরাস সংক্রমণ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!