📌 সুইডেনের গবেষকরা আবিষ্কার করেছেন যে কমন সুইফট নামের পাখি মাটি ছুঁয়ে না টানা ১০ মাস ধরে আকাশে উড়তে পারে। বিজ্ঞানীদের কাছে এখনো এরা কীভাবে এত দীর্ঘ সময় উড়তে পারে এবং খাবার খুঁজে পায় সে বিষয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
বিজ্ঞানীদের কাছে এখনো অজানা একটি রহস্য উন্মোচিত হয়েছে। মানুষের চেয়েও বেশি সময় ধরে কোনো বিরতি ছাড়া কাজ করা সম্ভব বলে মনে করা যায় না। কিন্তু প্রকৃতিতে এমন পাখি রয়েছে যারা মাটি ছুঁয়ে না টানা ১০ মাস পর্যন্ত আকাশে উড়তে পারে। সুইডেনের লান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের নতুন আবিষ্কারটি বিজ্ঞানীদের অবাক করে দিয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 কমন সুইফট নামের পাখি মাটি ছুঁয়ে না টানা ১০ মাস পর্যন্ত আকাশে উড়তে পারে — বিজ্ঞানীদের কাছে এখনো এরা কীভাবে এত দীর্ঘ সময় ধরে উড়তে পারে সে বিষয়ে প্রশ্ন রয়েছে
- 📌 গবেষণায় দেখা গেছে, ১০ মাসের পরিযায়ী যাত্রা সম্পূর্ণ আকাশে কাটায় এই পাখি — শুধু ডিম পাড়ার জন্য মাটিতে নামে বছরের বাকি দুই মাস
- 📌 ১৩টি পাখির মধ্যে যারা মাঝেমধ্যে বিশ্রাম নিয়েছিল, তারাও ৯৯.৫ শতাংশ সময় আকাশেই কাটিয়েছে — পালক ঝরার পার্থক্য সত্ত্বেও ওড়ার সময়ে তফাত খুবই সামান্য
- 📌 সুইফট পাখিরা শহুরে পরিবেশে বাসা বাঁধতে শুরু করেছে — পুরোনো টানেল, চিমনি ও দেয়ালের গায়ে বাসা বাঁধে
- 📌 জলবায়ু পরিবর্তন ও থাকার জায়গা ধ্বংসের কারণে সুইফট পাখির সংখ্যা কমে যাচ্ছে — খাদ্য হিসেবে উড়ন্ত পোকামাকড়ের সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে
📰 বিস্তারিত
সুইডেনের লান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা পাখির গায়ে আলো ও নড়াচড়া মাপার বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই তথ্য সংগ্রহ করেছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, কমন সুইফটের ১০ মাসের পরিযায়ী যাত্রা সম্পূর্ণ আকাশে কাটে। শুধু ডিম পাড়ার জন্য মাটিতে নামার সময় থাকে বছরের বাকি দুই মাস। বিজ্ঞানী অ্যান্ডার্স হেডেনস্ট্রম বলেছেন, প্রাণিজগতের এই ক্ষমতা বিজ্ঞানীদের অবাক করে দিয়েছে। মাটি ছুঁয়ে না টানা ১০ মাস আকাশে উড়তে পারার ঘটনাটি এখন পর্যন্ত জানা সবচেয়ে দীর্ঘতম রেকর্ড।
অন্যান্য পাখির তুলনায় সুইফটের ওড়ার পদ্ধতি আলাদা। যেমন, ‘ওয়ান্ডারিং অ্যালবাট্রস’ পাখি বাতাসে ভেসে ১০ হাজার মাইল (১৬ হাজার ৯০ কিলোমিটার) পথ চলে যায়। আবার ছোট্ট হামিংবার্ড একটানা নিজের শরীরের দৈর্ঘ্যের চেয়ে ২ কোটি ৯০ লাখ গুণ বেশি দূরত্ব উড়তে পারে। কিন্তু সুইফটের ক্ষেত্রে, সারাক্ষণ ডানা ঝাপটাতে হয়। বিজ্ঞানীদের কাছে এখনো স্পষ্ট উত্তর নেই যে, এত কষ্ট করে সারাক্ষণ ডানা ঝাপটে ওড়ার পেছনে কী রহস্য রয়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, ১৩টি পাখির মধ্যে যারা মাঝেমধ্যে একটু বিশ্রাম নিয়েছিল, তারাও ৯৯.৫ শতাংশ সময় আকাশেই কাটিয়েছে। পালক ঝরার পার্থক্য সত্ত্বেও ওড়ার সময়ে তফাত খুবই সামান্য। বিজ্ঞানী হেডেনস্ট্রমের মতে, পালক ঝরা বা না ঝরা দেখে পাখির স্বাস্থ্য বা জীবাণুর সংক্রমণের সামান্য পার্থক্য বোঝা যায়। এটিই সম্ভবত একই প্রজাতির পাখির ওড়ার অভ্যাসে সামান্য তফাত থাকার কারণ।
সুইফট পাখিরা শহুরে পরিবেশকে বেছে নিয়েছে। সাধারণত এরা গাছের কোটরে বাসা বাঁধত, কিন্তু সেই ধরনের থাকার জায়গা কমে যাওয়ায় এখন শহুরে পরিবেশে বাসা বাঁধতে শুরু করেছে। পুরোনো টানেল, চিমনি বা দেয়ালের গায়ে বাসা বাঁধে। বিশেষ করে চিমনি সুইফট নামের আত্মীয়দের পছন্দের জায়গা হলো চিমনি ও খাড়া দেয়াল।
দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ভ্রমণকারী পাখি হিসেবে প্রতিটি সুইফট শীতকালটা গরম অঞ্চলে কাটায়। দক্ষিণ আমেরিকার পূর্ব পেরু ও আমাজন অববাহী থেকে ইউরেশিয়া বা দক্ষিণ আফ্রিকা পর্যন্ত এরা পাড়ি জমায়। জুন বা জুলাই মাসে এরা ডিম দেয়। তবে জলবায়ু পরিবর্তন ও থাকার জায়গা ধ্বংসের কারণে সুইফট পাখির সংখ্যা কমে যাচ্ছে। খাদ্য হিসেবে উড়ন্ত পোকামাকড়ের সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে, যা এদের জন্য একটি বড় উদ্বেগের বিষয়।
"প্রাণিজগতের এই ক্ষমতা বিজ্ঞানীদের অবাক করে দিয়েছে। মাটি ছুঁয়ে না টানা ১০ মাস আকাশে উড়তে পারার ঘটনাটি এখন পর্যন্ত জানা সবচেয়ে দীর্ঘতম রেকর্ড।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সুইডেনের লান্ড বিশ্ববিদ্যালয়, দক্ষিণ আমেরিকা (পেরু, আমাজন), ইউরেশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বিজ্ঞানী অ্যান্ডার্স হেডেনস্ট্রম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০ মাস, ১০ হাজার মাইল (১৬ হাজার ৯০ কিলোমিটার), ২ কোটি ৯০ লাখ গুণ, ১৩টি পাখি, ৯৯.৫ শতাংশ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!