📌 বাংলাদেশের মধ্যপ্রাচ্য থেকে ৬০% রেমিট্যান্স আসে, কিন্তু কর্মীদের আরবি ভাষা প্রশিক্ষণে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়া হয় না। ৩২টি টিটিতে প্রশিক্ষকদের অনিশ্চয়তা ও তিন দিনের পিডিও প্রশিক্ষণের অপূর্ণতা কর্মীদের নিরাপত্তা ও আয়কে ঝুঁকিতে ফেলছে। বিশেষজ্ঞরা দাবি করছেন, দক্ষ কর্মী তৈরির জন্য আরবি ভাষা প্রশিক্ষণকে বাধ্যতামূলক ও প্রাতিষ্ঠানিক করা দরকার
বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম স্তম্ভ মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা রেমিট্যান্সের পেছনে কর্মীদের আরবি ভাষা শেখানোর বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্ব পাচ্ছে না। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার ও ওমান থেকে আসা রেমিট্যান্সের ৬০ শতাংশই দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছে, কিন্তু কর্মীদের ভাষাগত দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য সরকারি প্রশিক্ষণ ব্যবস্থায় যথেষ্ট উদ্যোগ নেই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কর্মীদের নিরাপত্তা, অধিকার ও আয় নিশ্চিত করতে আরবি ভাষা প্রশিক্ষণকে বাধ্যতামূলক ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করতে হবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মধ্যপ্রাচ্য থেকে রেকর্ড ৩৫.৫৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যার মধ্যে সৌদি আরব একাই দিয়েছে ৫.৮৫ বিলিয়ন ডলার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ৪.৫৮ বিলিয়ন ডলার।
- 📌 বাংলাদেশের ৩২টি টিটিতে আরবি ভাষার প্রশিক্ষক নিয়োগ করা হলেও তাদের দায়িত্ব ও ভবিষ্যৎ নিয়ে স্পষ্ট নীতিমালা নেই, ফলে প্রশিক্ষণ ব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা রয়েছে।
- 📌 বর্তমান তিন দিনের প্রাক্-বহির্গমন প্রশিক্ষণে ভাষাগত দক্ষতা অর্জন সম্ভব নয়, ফলে কর্মীরা নিয়োগকর্তার সাথে যোগাযোগে অসুবিধা ভোগ করছেন।
- 📌 ভাষা না জানলে কর্মীরা প্রতারণা, মজুরি বঞ্চনা ও কর্মক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হতে পারেন, যা তাদের নিরাপত্তা ও আয়কে ঝুঁকিতে ফেলে।
- 📌 বিশেষজ্ঞরা দাবি করছেন, মধ্যপ্রাচ্য গমনকারী কর্মীদের জন্য এক থেকে তিন মাসের মৌলিক আরবি ভাষা কোর্স চালু করা এবং নির্দিষ্ট পেশার জন্য প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করা দরকার।
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশের মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা রেমিট্যান্সের পরিমাণ প্রতি বছর বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রেকর্ড ৩৫.৫৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যার মধ্যে সৌদি আরব একাই দিয়েছে ৫.৮৫ বিলিয়ন ডলার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ৪.৫৮ বিলিয়ন ডলার। এই অর্থনৈতিক প্রবাহের পেছনে কর্মীদের অবদান অপরিসীম, কিন্তু তাদের ভাষাগত দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য যথেষ্ট উদ্যোগ নেই।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশগুলো থেকে আসা রেমিট্যান্সের পরিমাণ ৬০ শতাংশ। এই বাজারে কর্মীদের জন্য বর্তমানে তিন দিনের প্রাক্-বহির্গমন ওরিয়েন্টেশন প্রশিক্ষণ চালু রয়েছে। কিন্তু তিন দিনে একটি ভাষার মৌলিক দক্ষতা অর্জন সম্ভব নয়। ফলে কর্মীরা নিয়োগকর্তার সাথে যোগাযোগে অসুবিধা ভোগ করছেন এবং তাদের অধিকার সম্পর্কে জানার সুযোগ কমে যায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভাষা না জানলে কর্মীরা প্রতারণা, মজুরি বঞ্চনা, কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য ও নানা ধরনের হয়রানির ঝুঁকিতে পড়েন। আরবি ভাষা শেখানোকে ‘অতিরিক্ত প্রশিক্ষণ’ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি কর্মীর সুরক্ষার অংশ। বর্তমানে ৩২টি টিটিতে আরবি ভাষার প্রশিক্ষক নিয়োগ করা হলেও তাদের দায়িত্ব ও ভবিষ্যৎ নিয়ে স্পষ্ট নীতিমালা নেই। কখনো প্রশিক্ষকদের আরবি শেখাতে বলা হয়, কখনো অন্য ট্রেডের ক্লাস নিতে বলা হয়। এই অনিশ্চয়তা প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাকে অকার্যকর করে তুলছে।
"ভাষা না জানলে কর্মীরা অন্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। সেই নির্ভরতা তাঁকে প্রতারণা, মজুরি বঞ্চনা, কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য ও নানা ধরনের হয়রানির ঝুঁকিতে ফেলে। অর্থাৎ আরবি ভাষা শেখানোকে ‘অতিরিক্ত প্রশিক্ষণ’ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি কর্মীর সুরক্ষার অংশ।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মধ্যপ্রাচ্য (সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার, ওমান), বাংলাদেশের ৩২টি টিটি
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বাংলাদেশের মধ্যপ্রাচ্য গমনকারী কর্মী, প্রশিক্ষক, বিশেষজ্ঞ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৫.৫৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (রেমিট্যান্স), ৬০ শতাংশ (মধ্যপ্রাচ্য থেকে রেমিট্যান্স), ৫.৮৫ বিলিয়ন ডলার (সৌদি আরব থেকে), ৩২টি (টিটি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!