📌 জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টির (জেডিপি) আহ্বায়ক নাঈম আহমাদ শহিদ আবরার ফাহাদের সপ্তম শহাদাতবার্ষিকীতে আলোচনা সভায় বলেছেন, অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা ও প্রাতিষ্ঠানিক গণতন্ত্রই বিদেশি আগ্রাসন প্রতিরোধের মূলমন্ত্র। তিনি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে স্বার্থের উপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতির সন্ত্রাসী সংস্কৃতির বিরুদ্ধে সতর্কতা জ্ঞাপন করেছেন
জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টির (জেডিপি) আহ্বায়ক নাঈম আহমাদ বুধবার (৭ অক্টোবর) রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরের সামনে শহিদ আবরার ফাহাদের সপ্তম শহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা ও প্রাতিষ্ঠানিক গণতন্ত্রের গুরুত্ব জোরালোভাবে তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, কোনো দেশের সঙ্গে বৈরিতা নয়, বরং জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌম সমতার ভিত্তিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করতে হবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা ও গণতন্ত্র বিদেশি আগ্রাসন প্রতিরোধের মূলমন্ত্র বলে মন্তব্য করেছেন জেডিপির আহ্বায়ক নাঈম আহমাদ।
- 📌 আবরার ফাহাদ, আবু সাঈদ ও ওসমান হাদি তিনজন শহিদের আত্মত্যাগের উত্তরাধিকার বহন করতে হবে আগামী প্রজন্মকে, বলেছেন তিনি।
- 📌 বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতির সন্ত্রাসী সংস্কৃতি গ্রহণযোগ্য নয় এবং বুয়েটের মতো নিরাপদ ক্যাম্পাস দেওয়া হলে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়েও ছাত্ররাজনীতিকে নিষিদ্ধ করতে হবে, দাবি করেছেন নাঈম আহমাদ।
- 📌 বাংলাদেশপন্থি বাংলাদেশ চাই, কোনো দেশের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে নিজস্ব সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষার জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার জনগণের থাকতে হবে, বলেছেন তিনি।
- 📌 শহিদ আবরার ফাহাদের ফাঁসির আদেশ কার্যকর না হওয়ার বিষয়টিকে অন্যায় হিসেবে উল্লেখ করেছেন জেডিপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুল আলিম।
📰 বিস্তারিত
শহিদ আবরার ফাহাদের স্মরণে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত নাঈম আহমাদ বলেছেন, ‘আবরার, আবু সাঈদ ও ওসমান হাদি— তিনজন শহিদের নাম শুধু ব্যক্তির নাম নয়, তারা বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসে রাজনৈতিক প্রশ্নের প্রতীক। তাদের আত্মত্যাগের উত্তরাধিকার বহন করতে হবে আগামী প্রজন্মকে।’ তিনি বলেছেন, ‘আবরার আমাদের প্রশ্ন করার সাহসের কথা মনে করিয়ে দেন, আবু সাঈদ অন্যায়ের সামনে দাঁড়ানোর সাহসের কথা মনে করিয়ে দেন, আর ওসমান হাদি রাজনৈতিক পরিবর্তন ও নতুন রাষ্ট্রচিন্তার আকাঙ্ক্ষার কথা মনে করিয়ে দেন।’
বিদেশি আগ্রাসন প্রতিরোধের বিষয়ে তিনি বলেছেন, ‘শুধু সামরিক শক্তি যথেষ্ট নয়; একটি রাষ্ট্রকে অর্থনৈতিকভাবে সক্ষম, রাজনৈতিকভাবে স্থিতিশীল, গণতান্ত্রিকভাবে জবাবদিহিমূলক এবং প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শক্তিশালী হতে হবে। অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা ও প্রাতিষ্ঠানিক গণতন্ত্রই বিদেশি আগ্রাসন প্রতিরোধের মূলমন্ত্র।’
বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতি নিয়ে তিনি বলেছেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় হবে মুক্তচিন্তা ও জ্ঞানবিতর্কের জায়গা, কোনো রাজনৈতিক দলের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার জায়গা নয়। সাম্প্রতিক সময়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের সন্ত্রাসের ঘটনা দেখা যাচ্ছে। বুয়েটে ছাত্ররাজনীতিকে নিষিদ্ধ রাখলে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়েও ছাত্ররাজনীতিকে নিষিদ্ধ করতে হবে। বুয়েটের শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ক্যাম্পাস দেওয়া হবে, কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ছাত্রদলের হামলার আতঙ্কে থাকবে— এমন দ্বৈত নীতি চলতে পারে না।’
নাঈম আহমাদ বলেছেন, ‘সরকার পরিবর্তন হলেও বাংলাদেশের মৌলিক জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে রাষ্ট্রীয় নীতির ধারাবাহিকতা থাকা প্রয়োজন। পানি, সীমান্ত, সমুদ্র, বাণিজ্য, জ্বালানি, নিরাপত্তা ও বৈদেশিক সম্পর্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় কৌশল প্রণয়ন করতে হবে।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘আমরা কোনো দেশের বিরুদ্ধে জনগণকে দাঁড় করাতে চাই না। আমরা চাই এমন একটি বাংলাদেশ, যা সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব করবে, কিন্তু নিজের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে আপস করবে না।’
"আমরা চাই বাংলাদেশপন্থি বাংলাদেশ। বন্ধুত্ব সবার সঙ্গে থাকতে পারে, কিন্তু বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার বাংলাদেশের জনগণেরই থাকতে হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাজধানীর জাতীয় জাদুঘর, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নাঈম আহমাদ (জেডিপি আহ্বায়ক), অ্যাডভোকেট আব্দুল আলিম (জেডিপি সদস্যসচিব)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭ অক্টোবর (শহিদ আবরার ফাহাদের সপ্তম শহাদাতবার্ষিকী)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!