📌 বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক উমামা ফাতেমা ৫ আগস্টের পর আন্দোলনের নেতৃত্বে আসা ‘যদু-মধু-কদু’ গোষ্ঠীকে সমালোচনা করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, জুলাই আন্দোলনকে নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর হাতে বন্দী করা হয়েছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ম্যানিপুলেশন তরুণদের রাজনৈতিক সম্ভাবনাকে প্রভাবিত করছে
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক উমামা ফাতেমা ৫ আগস্টের পর আন্দোলনের নেতৃত্বে আসা ‘যদু-মধু-কদু’ গোষ্ঠীকে সমালোচনা করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, জুলাইয়ের আন্দোলনকে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীর হাতে বন্দী করার চেষ্টা করা হয়েছে। ফাতেমা বলেছেন, আন্দোলনের সময় শিবির ও ছাত্রশক্তির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরকে সমন্বয়ক কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল, যার ফলে ৫ আগস্টের পর অনেকে ‘উড়ে এসে নেতা’ হয়ে গেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 উমামা ফাতেমা বলেছেন, জুলাই আন্দোলনকে ‘ভাই-ব্রাদার কোরাম’ ও শিবিরের হাতে বন্দী করা হয়েছে।
- 📌 তিনি দাবি করেছেন, ‘যদু-মধু-কদু’ গোষ্ঠী ৫ আগস্টের পর আন্দোলনের নেতৃত্বে সর্বেসর্বা হয়ে গেছে।
- 📌 রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মারকে তিনি ‘উড়ে এসা নেতা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যিনি ২০২৫ সালের ১১ সেপ্টেম্বর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের ‘সাথি’ পদ থেকে বাতিল হন।
- 📌 ফাতেমা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ম্যানিপুলেশনকে সমালোচনা করে বলেছেন, ‘ম্যানুফ্যাকচারড কনসেন্ট’ তৈরি করে তরুণদের রাজনৈতিক সম্ভাবনা নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর হাতে বন্দী করা হচ্ছে।
- 📌 তিনি মিয়ানমারের রোহিঙ্গা গণহত্যা প্রসঙ্গে ফেসবুকের ভূমিকা তুলে ধরেন এবং বাংলাদেশেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
- 📌 ফাতেমা দাবি করেছেন, জামায়াত ও আওয়ামী লীগের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই এবং জামায়াত ‘গণহত্যার কালিমা’ ঢাকতে দেশের ইতিহাসকে ব্রিটিশ আমলের দিকে নিয়ে যেতে রাজি।
📰 বিস্তারিত
সাবেক বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক উমামা ফাতেমা বৃহস্পতিবার (০১ অক্টোবর, ২০২৬) তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট প্রকাশ করেন। পোস্টে তিনি জুলাইয়ের আন্দোলনের সমন্বয়ক কমিটির গঠন নিয়ে সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘সকল ছাত্র সংগঠনকে মাইনাস করে শিবির ও ছাত্রশক্তি কোরামের লোকজনকে সমন্বয়ক কমিটির অন্তর্ভুক্ত করা হয়’। এর ফলে ৫ আগস্টের পর ‘যদু-মধু-কদু’ গোষ্ঠী আন্দোলনের নেতৃত্বে সর্বেসর্বা হয়ে গেছে।
ফাতেমা দাবি করেছেন, ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের সঙ্গে সম্পর্ক না থাকা অনেকেই ‘উড়ে এসে নেতা’ হয়ে গেছেন। তিনি বিশেষভাবে রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মারকে উল্লেখ করেছেন, যিনি ইসলামী ছাত্রশিবিরের ‘সাথি’ ছিলেন। সালাউদ্দিন আম্মার ২০২৫ সালের ১১ সেপ্টেম্বর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের শৃঙ্খলাবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ‘সাথি’ পদ থেকে বাতিল হন।
ফাতেমা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেছেন, ‘পর্দার আড়ালের ইন্টারেস্ট গ্রুপ’ ফেসবুক ব্যবহার করে ‘ম্যানুফ্যাকচারড কনসেন্ট’ তৈরি করে তরুণদের রাজনৈতিক সম্ভাবনা নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর হাতে বন্দী করার চেষ্টা করছে। তিনি মিয়ানমারের রোহিঙ্গা গণহত্যা প্রসঙ্গে ফেসবুকের ভূমিকা তুলে ধরেন এবং বাংলাদেশেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
ফাতেমা আরও বলেছেন, মধ্যবিত্তের রাজনীতিবিমুখতা (‘I hate politics’) থেকে জুলাই আন্দোলনে হঠাৎ রাজনৈতিক সক্রিয়তা দেখা গেছে। তিনি দাবি করেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ম্যানিপুলেশন করে একদিন একজনকে, পরদিন আরেকজনকে ‘হিরো’ বানানো হয়েছে।
পোস্টের শেষে তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের ইতিহাসের যাত্রাপথ এখন জামায়াতের কারণে ব্রিটিশ আমল থেকে শুরু করতে হচ্ছে। ফাতেমা দাবি করেছেন, জামায়াত ও আওয়ামী লীগের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই এবং জামায়াত ‘গণহত্যার কালিমা’ ঢাকতে দেশের ইতিহাসকে যেকোনো পর্যায়ে নিয়ে যেতে রাজি।
"সকল ছাত্র সংগঠনকে মাইনাস করে শিবির ও ছাত্রশক্তি কোরামের লোকজনকে সমন্বয়ক কমিটির অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর ফলে ৫ আগস্টের পর ‘যদু-মধু-কদু’ এসে সর্বেসর্বা হয়ে গেছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ (ফেসবুক পোস্ট, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: উমামা ফাতেমা, রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মার
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫ আগস্ট, ১৭ বছর, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!