📌 বঙ্গোপসাগরীয় সংলাপে অংশ নেওয়ার জন্য নিবন্ধিত ট্রান্স অধিকারকর্মী হো চি মিনকে সিজিএসের সভাপতি জিল্লুর রহমান নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের ভান করে সম্মেলনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখার অভিযোগ করেছেন। তিনি জানান, সম্মেলনের খবর প্রকাশের পর তাঁর বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচারণা শুরু হয় এবং সিজিএস তাঁর ছবি ও প্রচারমূলক পোস্ট সরিয়ে নেয়
বঙ্গোপসাগরীয় সংলাপে (বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন) অংশগ্রহণের জন্য নিবন্ধিত ট্রান্সফেমিনিস্ট অধিকারকর্মী হো চি মিন ইসলামকে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) সভাপতি জিল্লুর রহমান নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের ভান করে সম্মেলনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখার অভিযোগ করেছেন। অধিকারকর্মী হো চি মিন জানান, তাঁকে সম্মেলনে অংশ নেওয়ার জন্য নিবন্ধন করার পর সিজিএস থেকে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছিল। তবে পরে জিল্লুর রহমান তাঁকে ফোন করে সম্মেলনে যোগ দিতে নিষেধ করেন এবং বিষয়টি কাউকে জানাতে নিষেধও দেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 হো চি মিন ইসলামকে বঙ্গোপসাগরীয় সংলাপে অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখার অভিযোগ করেছেন সিজিএসের সভাপতি জিল্লুর রহমান।
- 📌 ২ অক্টোবর সন্ধ্যায় জিল্লুর রহমান হো চি মিনকে ফোন করে সম্মেলনে যোগ দিতে নিষেধ করেন এবং বিষয়টি কাউকে জানাতে নিষেধও দেন।
- 📌 সম্মেলনে অংশগ্রহণের খবর প্রকাশের পর হো চি মিনের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচারণা শুরু হয় এবং সিজিএস তাঁর ছবি ও প্রচারমূলক পোস্ট সরিয়ে নেয়।
- 📌 ৩ থেকে ৫ অক্টোবর ঢাকার একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত পঞ্চম বঙ্গোপসাগরীয় সংলাপে রাজনীতিবিদ, কূটনীতিক, শিক্ষাবিদ, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
- 📌 হো চি মিন জানান, বাংলাদেশে ট্রান্সজেন্ডার জনগোষ্ঠী ৫৫ বছরের ইতিহাসে সব সময়ই নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে এবং চব্বিশের পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
হো চি মিন ইসলাম জানান, তিনি সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য নিবন্ধন করার পর সিজিএস থেকে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছিল। পরে তাঁকে থাইল্যান্ডের একজন প্রতিনিধির সঙ্গে একটি স্টুডিও আলোচনায় অংশ নেওয়ার জন্য ই-মেইল করা হয়। সে অনুযায়ী ১ অক্টোবর তিনি ভারতের হায়দ্রাবাদ থেকে ঢাকায় ফেরেন। তবে ২ অক্টোবর সন্ধ্যায় জিল্লুর রহমান তাঁকে ফোন করে সম্মেলনে যোগ দিতে নিষেধ করেন। জিল্লুর রহমান তাঁকে জানিয়েছিলেন, তাঁর নিরাপত্তা ও সুরক্ষা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং এ কারণে সম্মেলন এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন তিনি। একই সঙ্গে বিষয়টি কাউকে না বলতে বলেন।
হো চি মিন বলেন, তিনি জিল্লুর রহমানকে জানান যে, জার্মানির একটি সংস্থা তাঁর যাতায়াতের খরচ বহন করছে। তিনি জিল্লুর রহমানকে জানিয়ে দিতে চেয়েছিলেন যে তিনি সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন না। তবে এরপর সম্মেলনে তাঁর অংশগ্রহণ নিয়ে আর কোনো যোগাযোগ করা হয়নি। এমনকি লিখিতভাবেও কিছু জানানো হয়নি।
হো চি মিনের অভিযোগ, সম্মেলনে তাঁর অংশগ্রহণের খবর প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে নিয়ে নেতিবাচক প্রচারণা শুরু হয়। তিনি জানান, বিভিন্ন ব্যক্তি ও গোষ্ঠী তাঁর অংশগ্রহণ নিয়ে আপত্তি তুলে নানা ধরনের প্রচার চালায়। এ পরিস্থিতিতে তিনি উদ্বেগের কথা সিজিএসের এক প্রতিনিধিকে জানিয়েছিলেন। পরে জিল্লুর রহমানের সঙ্গে ফোনে কথা বলার পর সম্মেলন উপলক্ষে সিজিএসের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত তাঁর ছবি ও প্রচারমূলক পোস্ট সরিয়ে নেওয়া হয়।
হো চি মিন জানান, ঘটনাটিকে অপমানজনক উল্লেখ করে বলেন, ‘আমি বিদেশে পিএইচডি গবেষণা করছি। আমার গবেষণার অন্যতম বিষয় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষের অপমান ও প্রান্তিকীকরণের অভিজ্ঞতা। অথচ এবার নিজেকেই এমন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে।’ তিনি বলেন, একজন প্রান্তিক মানুষ, যার হাতে রাজনৈতিক ক্ষমতা বা অস্ত্র নেই, শুধু নিজের কথা বলার অধিকারটুকু রয়েছে, তাঁকে ঘিরে রাষ্ট্রের বিভিন্ন পর্যায় ও বিভিন্ন গোষ্ঠীর লোকজন কথা বলতে শুরু করেছেন। তাঁর অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা তাঁকে অপমানিত করেছে।
"আগের তুলনায় আরও অনিরাপদ। ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানের আগের সময়ের তুলনায় ট্রান্সজেন্ডার জনগোষ্ঠী এখন অনেক বেশি অনিরাপত্তায় ভুগছে। বাংলাদেশে ৫৫ বছরের ইতিহাসে সব সময়ই ট্রান্সজেন্ডার জনগোষ্ঠী নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে এবং তাঁদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে চব্বিশের পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (হোটেল), হায়দ্রাবাদ (ভারত), জার্মানি, থাইল্যান্ড
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: হো চি মিন ইসলাম, জিল্লুর রহমান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১ অক্টোবর, ২ অক্টোবর, ৩-৫ অক্টোবর, ৫৫ বছর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!