📌 গাজীপুরের কাপাসিয়ায় তাজউদ্দীন আহমদের স্মারক ভাস্কর্যের পেছনে ছিল সাধারণ মানুষের অটুট সমর্থন। তিনি রোজনামচায় লিখেছিলেন বুদাই দফাদার থেকে জিন্নাহ পর্যন্ত অসংখ্য মানুষের নাম। ১৭-১৮ বছর বয়সে তিনি পল্লী মঙ্গল সমিতি গড়ে তোলেন এবং গ্রামের মানুষের সমস্যা সমাধানে জীবন উৎসর্গ করেন
১৯৭১ সালের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে যখন অশুভ শক্তির ভাঙচুর, আগুন ও সহিংসতা দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ছিল, তখন গাজীপুরের কাপাসিয়ায় তাজউদ্দীন আহমদের স্মারক ভাস্কর্যের পাশে দাঁড়িয়ে ছিল সাধারণ মানুষের অটুট সমর্থন। সেই সময় কাবুলি হাবিবুল্লাহ কালাকানিকেও লজ্জা দিচ্ছিল, কিন্তু তাজউদ্দীন আহমদের স্মরণে নির্মিত এই ভাস্কর্যটি কাপাসিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দাঁড়িয়ে আছে। ফকির মজনু শাহ সেতুর পশ্চিম পাশে অবস্থিত এই চত্বরে তাজউদ্দীন আহমদের প্রতি সাধারণ মানুষের অটুট ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে নির্মিত এই ভাস্কর্য।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 তাজউদ্দীন আহমদের রোজনামচায় লিখেছিলেন বুদাই দফাদার, হাসির বাপ, রাবিয়ার মা, মিয়ার বাপ, আনুর মা, মোতালিব দর্জি, খাজার বাপ, সিরাজের মা, জয়নার বাপ, রমিজার মা, গহর আলী গাড়িয়াল, হরিমোহন, লস্কর বেপারী, ফটিক, বড় বেপারী, রহমত পণ্ডিত, হারা জোগাল, রাম ভাওয়ালি, বলাই বাবু, ধনাই বেপারীসহ অসংখ্য সাধারণ মানুষের নাম
- 📌 ১৭-১৮ বছর বয়সে তিনি পঞ্চাশের মন্বন্তরে সংগঠিত করে গড়ে তোলেন ‘পল্লী মঙ্গল সমিতি’ এবং গ্রামের প্রান্তিক মানুষের পাশে দাঁড়ান
- 📌 তাজউদ্দীন আহমদ ‘ডাল-ভাতের তাজউদ্দীন’ নামে পরিচিত ছিলেন, যিনি রাজনীতি, পড়াশোনা ও উপার্জনের পাশাপাশি এলাকার মানুষের হাজার কাজে নিজেকে নিয়োজিত রাখতেন
- 📌 তিনি স্থানীয় সমস্যা ও জাতীয় সমস্যার মধ্যে সম্পর্ক দেখতেন এবং মনে করতেন, স্থানীয় সমস্যা দিয়েই জাতীয় সমস্যা বুঝতে হবে
📰 বিস্তারিত
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় তাজউদ্দীন আহমদের স্মরণে নির্মিত ভাস্কর্যটি কাপাসিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকার তাজউদ্দীন আহমদ চত্বরে অবস্থিত। ফকির মজনু শাহ সেতুর পশ্চিম পাশে এই ভাস্কর্য দাঁড়িয়ে আছে। সেই সময়ে যখন দেশে অশুভ শক্তির ভাঙচুর, আগুন ও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ছিল, তখনও তাজউদ্দীন আহমদের স্মারক ভাস্কর্যটি অক্ষত ছিল। এলাকাবাসীরা ভাবতেন যে, দিনের আলোতে বা প্রকাশ্যে কেউ এই ভাস্কর্যটি ভাঙতে পারবে না। কারণ, এলাকার মানুষ দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে যাবে।
তাজউদ্দীন আহমদের রোজনামচায় তিনি লিখেছিলেন অসংখ্য সাধারণ মানুষের নাম। গান্ধী, জিন্নাহ, সোহরাওয়ার্দী, লিয়াকত, ভাসানী, নাজিমুদ্দীন, আবুল হাশিম, আতাউর রহমান খান, শেখ মুজিবের পাশাপাশি তিনি লিখেছিলেন বুদাই দফাদার, হাসির বাপ, রাবিয়ার মা, মিয়ার বাপ, আনুর মা, মোতালিব দর্জি, খাজার বাপ, সিরাজের মা, জয়নার বাপ, রমিজার মা, গহর আলী গাড়িয়াল, হরিমোহন, লস্কর বেপারী, ফটিক, বড় বেপারী, রহমত পণ্ডিত, হারা জোগাল, রাম ভাওয়ালি, বলাই বাবু, ধনাই বেপারীসহ অসংখ্য সাধারণ মানুষের নাম। তাঁরা নানা বয়সের, নানা পেশার এবং সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ।
তাজউদ্দীন আহমদ মনে করতেন, স্থানীয় সমস্যাকে তিনি জাতীয় সমস্যা থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেখতে চাইতেন না। তিনি মনে করতেন, স্থানীয় সমস্যা দিয়েই জাতীয় সমস্যা বুঝতে হবে। তিনি প্রতিদিন লিখতেন স্থানীয় মানুষের সমস্যা ও তাদের মুক্তির পথ নিয়ে। রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের সদস্য হিসেবে তিনি জিন্নাহকে দেখা এবং তাঁর কথা শোনার পাশাপাশি গ্রামের কৃষিজীবী মানুষের ব্যক্তিগত সমস্যার কথা শোনার গুরুত্বও বুঝতেন।
১৭-১৮ বছর বয়সে তিনি পঞ্চাশের মন্বন্তরে সংগঠিত হয়ে ‘পল্লী মঙ্গল সমিতি’ গড়ে তোলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন যে, কিশোরদের সংগঠিত উদ্যোগেই ধর্মগোলা স্থাপিত হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল, ফসল কাটার সময়ে ধনী কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করে গোলায় রাখা। এই উদ্যোগে তিনি এবং তাঁর সাথীরা বিশ্বাসী ছিলেন। তিনি বলতেন, “তোমরা এত চ্যাপ্টা প্লেটে ডাল-ভাত পরিবেশন করো কেন? আমাকে বরং স্যুপ খাওয়ার বাটিতে খেতে দাও, তাতেই আমি ডাল-ভাত খাব। চ্যাপ্টা প্লেটে চপ বা কাটলেট মানায়। আমি ওসব পছন্দ করি না।”
"তোমরা এত চ্যাপ্টা প্লেটে ডাল-ভাত পরিবেশন করো কেন? আমাকে বরং স্যুপ খাওয়ার বাটিতে খেতে দাও, তাতেই আমি ডাল-ভাত খাব। চ্যাপ্টা প্লেটে চপ বা কাটলেট মানায়। আমি ওসব পছন্দ করি না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: গাজীপুরের কাপাসিয়া, ফকির মজনু শাহ সেতুর পশ্চিম পাশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: তাজউদ্দীন আহমদ
- 📌 উল্লেখিত সাধারণ মানুষের নাম: বুদাই দফাদার, হাসির বাপ, রাবিয়ার মা, মিয়ার বাপ, আনুর মা, মোতালিব দর্জি, খাজার বাপ, সিরাজের মা, জয়নার বাপ, রমিজার মা, গহর আলী গাড়িয়াল, হরিমোহন, লস্কর বেপারী, ফটিক, বড় বেপারী, রহমত পণ্ডিত, হারা জোগাল, রাম ভাওয়ালি, বলাই বাবু, ধনাই বেপারী
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!