📌 জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের নিজেদের সংশোধন করতে হবে। তিনি ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের বিষয়ে মন্তব্য করেন যে, একজন প্রতিমন্ত্রীর হাতে অস্ত্র থাকা বৈধ নয়। তিনি মাদকদমনে কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান জানান এবং আওয়ামী লীগের শাসনামলের দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের পদক্ষেপের আশা প্রকাশ করেন
জাতীয় সংসদের স্পিকার ও ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীরবিক্রম) বলেছেন, ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের নিজেদের সংশোধন করতে হবে। তিনি মাদকদমনে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের বিষয়ে মন্তব্য করে বলেন, একজন প্রতিমন্ত্রীর হাতে অস্ত্র থাকা বৈধ নয়। তিনি বলেন, ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদেরকে সাধারণ মানুষের ওপর কোনো ধরনের নিপীড়ন, চাঁদাবাজি বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাতে দেওয়া যাবে না। মঙ্গলবার ভোলার লালমোহন উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপের (এপিজি) চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 স্পিকার হাফিজ উদ্দিন বলেছেন, একজন প্রতিমন্ত্রীর হাতে অস্ত্র থাকা বৈধ নয় এবং এটি তার পদমর্যাদার সঙ্গে মানানসই নয়।
- 📌 তিনি মাদকদমনে ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের প্রশংসা করে বলেন, পুলিশের ওপর গুলিবর্ষণকারী মাদকদলকে দমন করতে গিয়ে তিনি অস্ত্র ব্যবহার করেছিলেন।
- 📌 স্পিকার বলেন, বর্তমান সরকার আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে আপসহীন অবস্থান নিয়েছে এবং ১৭-১৮ বছরের শাসনামলের দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।
- 📌 তিনি মাদকদমনে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের আহ্বান জানান এবং লালমোহন ও তজুমদ্দিন উপজেলায় আর মাদকের বিস্তার দেখতে চান না।
- 📌 স্পিকার বলেন, নির্বাচিত সরকারের প্রধান চিন্তা হলো নির্বাচনী এলাকার মানুষের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করা।
📰 বিস্তারিত
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের নিজেদের সংশোধন করতে হবে। তিনি বলেন, "তারা যেন সাধারণ মানুষের ওপর কোনো ধরনের নিপীড়ন, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। কারও জমি জোর করে দখল করা যাবে না। জনগণের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করাই সরকারের দায়িত্ব।" তিনি ঢাকায় একজন নারী সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে হাসপাতাল দখলের অভিযোগে প্রধানমন্ত্রী তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেন এবং বলেন, একইভাবে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনও পদত্যাগ করেছেন।
স্পিকার বলেন, "আওয়ামী লীগের শাসনামলে নির্বাচনের নামে প্রহসনের মাধ্যমে ক্ষমতায় ছিল। তিনটি নির্বাচনে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো অংশ নেয়নি। ক্ষমতা ছাড়ার আগে বিপুল অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছে এবং সাবেক ক্ষমতাসীন দলের অনেক নেতা দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন।" তিনি আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দুর্নীতি দমন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে আইনানুগ পদক্ষেপ নেবে।
মাদকদমনে ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের বিষয়ে স্পিকার বলেন, "মাদক ও দুর্বৃত্ত দমনে ইশরাক হোসেনের উদ্যোগ ভালো ছিল। তিনি পুলিশের ওপর গুলিবর্ষণকারী একদল মাদকসেবীকে দমন করতে গিয়েছিলেন। তবে তার নিজের হাতে অস্ত্র তুলে নেওয়া ঠিক হয়নি। এটি তার পদমর্যাদার সঙ্গে মানানসই নয়। একজন প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বডিগার্ড ও পুলিশ সদস্য থাকেন। প্রয়োজনে দলীয় কর্মীরাও সহযোগিতা করতে পারেন। কিন্তু একজন মন্ত্রী বা নেতার হাতে বৈধ কিংবা অবৈধ কোনো অস্ত্রই শোভা পায় না।"
স্পিকার বলেন, বর্তমানে মানুষ সরকারের পাশাপাশি সরকারপ্রধানেরও সমালোচনা করতে পারছেন। তবে সমালোচনা হতে হবে ন্যায্য ও গঠনমূলক। তিনি বলেন, "আওয়ামী লীগের শাসনামলে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল, তার পুনরাবৃত্তি হতে দেওয়া হবে না।" তিনি মাদকের বিষয়ে পুলিশ ও প্রশাসনকে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করতে বলেন এবং বলেন, "লালমোহন ও তজুমদ্দিনে আর মাদকের বিস্তার দেখতে চান না।"
"মাদকের বিষয়ে পুলিশ ও প্রশাসনকে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করতে হবে। দলের বড় কোনো নেতা মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকলেও তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ভোলার লালমোহন উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়াম, ভোলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীরবিক্রম), প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৭টি দেশ সদস্য (আইপিইউর এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!