📌 ঢাকার শাহবাগে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রগতিশীল সংগঠনের নেতা-কর্মীরা ভারতের দিল্লিতে চলমান আন্দোলনকারীদের পক্ষে সংহতি সমাবেশ ও মিছিল করেছে। তারা পুলিশি দমন-পীড়ন বন্ধের দাবি জানিয়েছেন এবং মোদি সরকারের বিরুদ্ধে জনগণের লড়াইকে সমর্থন করেছেন
ঢাকার শাহবাগে ভারতের দিল্লিতে চলমান আন্দোলনকারীদের পক্ষে সংহতি সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার বিকেলে বাংলাদেশের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক, প্রগতিশীল ও ছাত্রসংগঠনের নেতা-কর্মীরা ‘ভারতীয় ছাত্র-জনতার পাশে বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা’র ব্যানারে এই কর্মসূচি পালন করেছেন। এই সমাবেশে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ সভাপতিত্ব করেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সোমবার বিকেলে শাহবাগে ভারতের দিল্লিতে পুলিশি দমন-পীড়ন ও গণগ্রেপ্তারের বিরুদ্ধে সংহতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
- 📌 অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেছেন, ‘ভারতের জনগণের সঙ্গে আমাদের ইতিহাস ও লড়াইয়ের বন্ধন দীর্ঘ ও দৃঢ়। করপোরেট ও ধর্মীয় ফ্যাসিবাদের একাকার রূপ বিজেপির শাসন থেকে উদাহরণ পাওয়া যায়।’
- 📌 গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য মোশাহিদা সুলতানা জানান, ‘ভারতের ছাত্র, কৃষক ও আদিবাসীসহ বিভিন্ন জনগোষ্ঠী মোদি সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বিক্ষোভ করছে। জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ভোট কারচুপির অভিযোগে চলমান আন্দোলনকে তারা সমর্থন করছেন।’
- 📌 উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক জামশেদ আনোয়ার তপন দিল্লির আন্দোলনকারীদের পক্ষে বলেছেন, ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকায় কারচুপির অভিযোগে আন্দোলনকারীদের পুলিশি দমন অব্যাহত রয়েছে। আমরা এই দমন-পীড়নের নিন্দা জানাচ্ছি।’
- 📌 সমাবেশে সীমা দত্ত, মাহতাব উদ্দিন আহমেদ, লিটন নন্দী, তামজিদ হায়দার চৌধুরীসহ ১০ জন নেতা-কর্মী বক্তব্য দিয়েছেন।
- 📌 মিছিল শেষে শাহবাগ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য পর্যন্ত প্রদক্ষিণ করা হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
সোমবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রগতিশীল সংগঠনের নেতা-কর্মীরা ভারতের দিল্লিতে পুলিশি দমন-পীড়ন ও গণগ্রেপ্তারের বিরুদ্ধে সংহতি সমাবেশ ও মিছিল করেছে। এই কর্মসূচিতে ‘ভারতীয় ছাত্র-জনতার পাশে বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা’র ব্যানার ব্যবহার করা হয়েছে। সমাবেশে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ সভাপতিত্ব করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘জনগণ আর সরকার এক নয়। ভারতের জনগণের সঙ্গে আমাদের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও লড়াইয়ের বন্ধন দীর্ঘ ও দৃঢ়। দেশে দেশে বৈষম্য ও নিপীড়নবিরোধী লড়াইকে শক্তিশালী করতে ভারতীয় ছাত্র-জনতার প্রতি আমাদের সংহতি জানাতে হবে। করপোরেট ফ্যাসিবাদ ও ধর্মীয় ফ্যাসিবাদ একাকার হলে কী ভয়ংকর রূপ ধারণ করতে পারে, তার উদাহরণ বিজেপির শাসন।’
গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য অধ্যাপক মোশাহিদা সুলতানা বলেছেন, ‘ভারতের ছাত্র, কৃষক, আদিবাসীসহ বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মানুষ মোদি সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই বিক্ষোভ করছে। এরই ধারাবাহিকতায় ভোট কারচুপির অভিযোগে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আন্দোলন চলছে। আমরা এ দেশের জনগণ ভারতের জনগণের ন্যায়সংগত লড়াইয়ে পূর্ণ সংহতি জানাই।’
উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর (একাংশ) সাধারণ সম্পাদক জামশেদ আনোয়ার তপন দিল্লির আন্দোলনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘ভারতের ভোটার তালিকায় কারচুপি করে ভোটাধিকার হরণের অভিযোগ উঠেছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে। ছাত্র-যুবকেরা তাঁর পদত্যাগের দাবিতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছে। কিন্তু ভারত সরকার আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশি দমন-পীড়ন ও গ্রেপ্তার অব্যাহত রেখেছে। আমরা এর নিন্দা জানাচ্ছি।’
"জনগণ আর সরকার এক নয়। ভারতের জনগণের সঙ্গে আমাদের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও লড়াইয়ের বন্ধন দীর্ঘ ও দৃঢ়। করপোরেট ফ্যাসিবাদ ও ধর্মীয় ফ্যাসিবাদ একাকার হলে কী ভয়ংকর রূপ ধারণ করতে পারে, তার উদাহরণ বিজেপির শাসন।"
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য হারুন অর রশিদ, বাংলাদেশ নারী মুক্তি কেন্দ্রের সভাপতি সীমা দত্ত, লেখক ও গবেষক মাহতাব উদ্দিন আহমেদ, রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক শ্রমিক ইউনিয়নের সহকারী সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দী, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি তামজিদ হায়দার চৌধুরী, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের অর্থ সম্পাদক স্কাইয়া ইসলাম এবং বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সাধারণ সম্পাদক তৈয়ব ইসলাম। সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক ও ঢাকা নগর শাখার সভাপতি নওশিন মুসতারি সমাবেশ সঞ্চালন করেছেন।
সমাবেশ শেষে একটি মিছিল শাহবাগ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য পর্যন্ত প্রদক্ষিণ করে। এই মিছিলে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রগতিশীল সংগঠনের নেতা-কর্মীরা ভারতের আন্দোলনকারীদের পক্ষে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: শাহবাগ, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, মোশাহিদা সুলতানা, জামশেদ আনোয়ার তপন, সীমা দত্ত, মাহতাব উদ্দিন আহমেদ, লিটন নন্দী, তামজিদ হায়দার চৌধুরী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০ জন+ নেতা-কর্মী বক্তব্য দিয়েছেন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!