📌 নারীপক্ষের মতবিনিময় সভায় বক্তারা যৌনকর্মকে অপরাধমুক্ত করার পাশাপাশি যৌনকর্মীদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি তুলে ধরেন। তারা মানবপাচার ও যৌন শোষণের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট করার গুরুত্ব জোরালোভাবে বলেন
নারীপক্ষের একটি বিশেষ মতবিনিময় সভায় বক্তারা যৌনকর্মকে অপরাধমুক্ত করার পাশাপাশি যৌনকর্মীদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি তুলে ধরেন। বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাজধানীর ধানমন্ডি নারীপক্ষ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় অংশগ্রহণকারীরা মানবপাচার ও যৌন শোষণের সাথে যৌনকর্মকে বিভ্রান্ত করার বিরুদ্ধে সতর্কতা জারি করেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 যৌনকর্মকে অপরাধমুক্ত করার সঙ্গে মানবপাচার বেড়ে যাওয়ার মধ্যে কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি করা হয়
- 📌 যৌনকর্মের সংজ্ঞা হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে সম্মতিপূর্ণ যৌনসেবা বিনিময়কে উল্লেখ করা হয়
- 📌 ১৮ বছরের কম বয়সী কাউকে যৌনকর্মে যুক্ত করা যাবে না, এটিকে শিশু যৌন নির্যাতনের পর্যায়ে পড়েছে বলে উল্লেখ করা হয়
- 📌 যৌনকর্মীদের একজন নাগরিক ও মানুষ হিসেবে দেখতে হবে, তাদের প্রতি সমাজে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে হবে
📰 বিস্তারিত
‘যৌনকর্মকে অপরাধমুক্তকরণ ও সংবেদনশীল সংবাদ পরিবেশনের নির্দেশিকার প্রয়োগ’ শীর্ষক সভায় সেক্স ওয়ার্কার্স অ্যান্ড অ্যালাইস সাউথ এশিয়ার (সোয়াসা) আঞ্চলিক সমন্বয়কারী জান্নাত হুসনা বলেন, যৌনকর্মকে অপরাধমুক্ত করা মানবপাচার বেড়ে যাওয়ার সাথে সম্পর্কিত নয়। তিনি বলেন, যৌনকর্মের সঙ্গে মানবপাচারকে এক করে দেখার সুযোগ নেই। যাঁরা বিভিন্ন কারণে যৌনকর্মকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন, তাঁদের কাজের পরিবেশ নিরাপদ করা প্রয়োজন।
জান্নাত হুসনা আন্তর্জাতিক সংজ্ঞা তুলে ধরেন, যৌনকর্ম বলতে সম্মতিদানকারী প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে যৌনসেবা বিনিময়ের পেশাকে বোঝানো হয়। তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে সেবা গ্রহণকারী ও সেবা প্রদানকারী উভয়কেই প্রাপ্তবয়স্ক হতে হবে এবং দুজনের সম্মতি থাকতে হবে। সম্মতির বাইরে জোরপূর্বক যৌনসেবা গ্রহণ, শোষণ ও নিপীড়ন যৌন শোষণের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়।
স্বাগত বক্তব্যে নারীপক্ষের সংহতি প্রকল্পের সমন্বয়কারী জাহানারা খাতুন বলেন, ‘নাগরিকত্বের প্রশ্নে আমার সঙ্গে একজন যৌনকর্মী নারীর অবস্থান একই। আমরা দুজনই এই দেশের নাগরিক। তাই আমাদের অবস্থান যখন এক, তখন আমাদের আন্দোলনেও একে অপরের পাশে থাকা উচিত। যৌনকর্মীদের প্রতি সমাজে কলঙ্ক ও নেতিবাচকতার যত অপবাদ আছে, তার অনেকটাই তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়।’ তিনি বলেন, যৌনকর্মীদের একজন নাগরিক ও মানুষ হিসেবে দেখতে হবে এবং তাদের প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে হবে।
সভায় বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচকরা বলেন, মানবপাচার ও যৌন শোষণের ক্ষেত্রে জবরদস্তি, নিপীড়ন এবং সম্মতির অনুপস্থিতির মতো বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ। তাই যৌনকর্ম ও এসব অপরাধের মধ্যে পার্থক্য বোঝা জরুরি।
"যৌনকর্মকে অপরাধমুক্ত করা কিংবা যৌনকর্মীদের শ্রমিক হিসেবে অধিকার দেওয়ার সঙ্গে মানবপাচার বেড়ে যাওয়ার সম্পর্ক নেই। যৌনকর্মের সঙ্গে মানবপাচারকে এক করে দেখার সুযোগ নেই।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ধানমন্ডি, রাজধানী ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জান্নাত হুসনা (সোয়াসা), জাহানারা খাতুন (নারীপক্ষ)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৪ অক্টোবর, ১৮ বছর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!