📌 প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান এনসিপির নতুন কমিটিকে জামায়াতের যুব শাখা হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, জামায়াতের অনুমোদনেই কমিটি গঠিত হয়েছে এবং স্বতন্ত্র রাজনীতির স্বপ্ন ধ্বংস হয়েছে
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান তীব্র সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নতুন কমিটির গঠন পদ্ধতিকে। তিনি দাবি করেছেন, জামায়াতের অনুমোদনেই এই কমিটি গঠিত হয়েছে এবং এতে স্বতন্ত্র রাজনৈতিক অবস্থান সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) তার ফেসবুক পোস্টে এই মন্তব্য করা হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রাশেদ খান দাবি করেছেন, এনসিপির নতুন কমিটি গঠনে কোনো কাউন্সিলের অংশগ্রহণ ছিল না — যা দলের সাংগঠনিক দুর্বলতার প্রতীক বলে মনে করেন তিনি।
- 📌 তিনি জানান, জামায়াতের অনুমোদনেই কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদ বণ্টন হয়েছে এবং স্বতন্ত্র রাজনীতির স্বপ্ন দেখে থাকা ব্যক্তিদের পদাবনতি করা হয়েছে।
- 📌 রাশেদ খান বলেছেন, জামায়াতবিরোধী বা স্বতন্ত্র রাজনীতির স্বপ্ন দেখে থাকা ব্যক্তিদের কমিটিতে অগুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা হয়েছে।
- 📌 তিনি উল্লেখ করেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বিতর্কিত ব্যক্তিদের শীর্ষ পদে রাখা হয়েছে এবং এনসিপিকে জামায়াতের যুব শাখার সঙ্গে তুলনা করেছেন।
- 📌 রাশেদ খান বলেছেন, এনসিপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দুইবারের বেশি সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদে থাকা যাবে না — তিনি নাহিদ ইসলাম ও আখতার হোসেনের মেয়াদ শেষ হওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন।
- 📌 তিনি দাবি করেছেন, এনসিপি আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক শূন্যতা পূরণ করতে পারত, কিন্তু বর্তমান কমিটির গঠন দেখে মনে হয় দলটি পুরোপুরি জামায়াতের কাছে বিক্রি হয়ে গেছে।
📰 বিস্তারিত
রাশেদ খান তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘অনেক আশা জাগিয়ে নতুন বন্দোবস্তের স্বপ্ন দেখানো এনসিপির কোনো ধরনের কাউন্সিল ছাড়াই নতুন কমিটি হয়েছে। যারা সারাদিন গণতন্ত্রের বুলি আওড়ায় ও বিএনপির রাজনীতি নিয়ে প্রশ্ন তোলে, তারা একটি কাউন্সিল পর্যন্ত করে কমিটি দিতে পারল না, এর থেকে বড় লজ্জা আর কী হতে পারে?’ তিনি আরও বলেছেন, এনসিপির সাংগঠনিক দুর্বলতার ও নেতৃত্ব কুক্ষিগত করার চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে এই কমিটির মাধ্যমে।
রাশেদ খান দাবি করেছেন, ‘যতটুকু তথ্য পেয়েছি, জামায়াতের অনুমোদনে এনসিপির এই নতুন কমিটি হয়েছে। অর্থাৎ জামায়াত যাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে চায়নি, কমিটিতে তাদের অগুরুত্বপূর্ণ জায়গায় রাখা হয়েছে। বিশেষ করে এনসিপির মধ্যে যারা স্বতন্ত্র রাজনীতির স্বপ্ন দেখে কিংবা জামায়াতবিরোধী, কমিটিতে তাদের পদাবনতি হয়েছে। আর ছাগলচোর, ল্যাপটপ চোর, নারী ও আর্থিক কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বিতর্কিত ব্যক্তিদের শীর্ষ পদে আসীন করা হয়েছে।’
রাশেদ খান এনসিপির নতুন কমিটিকে জামায়াতের যুব শাখার সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘সব মিলিয়ে এনসিপির নতুন কমিটি জামায়াতের যুব শাখা রূপে আবির্ভূত হয়েছে বলে বঞ্চিতদের একধরনের অভিযোগ রয়েছে।’ তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, ‘এনসিপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দুইবারের বেশি কেউ সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক হতে পারবেন না! দেখা যাক, নাহিদ ইসলাম ও আখতার হোসেনের এই মেয়াদই শেষ মেয়াদ হয় কি না!’
রাশেদ খান মনে করেছেন, এনসিপি আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক শূন্যতা পূরণ করতে পারত। তার ভাষ্য, ‘আজকে যদি এনসিপি গণঅভ্যুত্থানের স্বপ্ন ধারণ করে নতুন ধারার রাজনীতি উপহার দিতে পারত, তাহলে আওয়ামী শূন্যতা পূরণের জন্য এনসিপিকে সবাই সাধুবাদ জানাতো। দুঃখের বিষয়, নতুন কমিটির ফরম্যাট দেখে মনে হলো, কিছু আসন ও আসনপ্রতি নির্বাচনী খরচের বিনিময়ে এনসিপি পুরোপুরি জামায়াতের কাছে বিক্রি হয়ে গেল! বাংলাদেশে এনসিপির আর কোনো স্বতন্ত্র রাজনীতি করার ন্যূনতম সুযোগ রইল না। এনসিপিকে বর্তমানে প্রক্সি জামায়াত পার্টি বলেও আর ভুল হবে না।’
"অনেক আশা জাগিয়ে নতুন বন্দোবস্তের স্বপ্ন দেখানো এনসিপির কোনো ধরনের কাউন্সিল ছাড়াই নতুন কমিটি হয়েছে। যারা সারাদিন গণতন্ত্রের বুলি আওড়ায় ও বিএনপির রাজনীতি নিয়ে প্রশ্ন তোলে, তারা একটি কাউন্সিল পর্যন্ত করে কমিটি দিতে পারল না, এর থেকে বড় লজ্জা আর কী হতে পারে?"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রাশেদ খান, নাহিদ ইসলাম, আখতার হোসেন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৩ অক্টোবর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!